শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০১৯

ইউনেস্কোর চিত্র-প্রতিযোগিতায় সেরার তালিকায় জামিয়ার মহসিনের তোলা ছবি

‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমার ফারহানের (আর মাধবন) কথা মনে আছে? ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গিয়ে ফটোগ্রাফার হয়েছিল সে। রূপোলি পর্দার সেই ঘটনাই যেন এবার বাস্তবের মাটিতে।  দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া মহসিন জাভেদের ক্যামেরায় তোলা ছবি ইউনেস্কো আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড ফটোগ্রাফি কনটেস্ট’-এ নির্বাচিত হয়েছে। দিল্লিতে অবস্থিত সম্রাট হুমায়ূনের কবরের ছবি তুলেছিলেন ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ডিপ্লোমা) শেষ বর্ষের ছাত্র মহসিন। পানিতে হুমায়ূনের কবরের প্রতিবিম্বের ছবি।  ‘ইয়ুথ আইজ অন দ্য সিল্ক রোডস’ শীর্ষক এই প্রতিযোগিতাতে সারা বিশ্ব থেকে ৬,৬২৫ টি ছবি পাঠানো হয়েছিল। তার মধ্যে থেকে এই ছবিটিকে বিচারকরা বেছে নিয়েছেন  ছবিটির বৈচিত্রের জন্য। বিচারকরা মোট ৬০টি ছবিকে সেরার শিরোপা দিয়েছেন– যার মধ্যে হুমায়ূনের কবরের প্রতিবিম্বের ছবিটিও রয়েছে।  এই ৬০টি ছবির ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনীরও ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যে এই ছবিগুলি চিন– আফগানিস্তান– আজারবাইজান– ওমান– রাশিয়া– তুর্কেমেনিস্তান ও প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দফতরে প্রদর্শিত হয়েছে। অন্যান্য দেশেও শীঘ্রই এগুলি দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে।  সিল্ক রোড বা রেশম পথ এক সময় বাণিজ্যের জন্য খুব বিখ্যাত একটি রুট ছিল। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর প্রান্তে চিন– আফগানিস্তান হয়ে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্ত+ত ছিল। সারা বিশ্বের কাছে এই বাণিজ্য পথটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেই ইতিহাসকে স্মরণ করতেই ইউনেস্কো রেশম পথের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর হেরিটেজগুলোকে খোঁজার চেষ্টা করেছে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
জামিয়ার ছাত্র মহসিন জানাচ্ছে– নির্বাচিত ছবিগুলি দিয়ে একটি অ্যালবাম তৈরি করেছে ইউনেস্কো। সেই অ্যালবাম তাকেও পাঠানো হয়েছে।
ছোটবেলা থেকেই ফটোগ্রাফির প্রতি বেশ ভালোলাগা ছিল তার। ক্লাস এইটে পড়ার সময় এটা শুরু হয় এবং বছর দুয়েক পর থেকেই এটাতে জোর দেয় সে। এর আগেও ১৮ বছর বয়সী মহসিনের  অনেকগুলি ছবি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত হয়েছে। চিত্র দুনিয়ায় বিখ্যাত আন্তর্জাতিক সংস্থা গেটি ইমেজেস– জার্মানি-পরিচালিত সংবাদ সংস্থা ডয়চে ভ্যালে তার ছবি প্রকাশ করেছে।
এভাবে বিশ্বজুড়ে নন্দিত হচ্ছে তার ছবি। তাই ছবি নিয়েই সারাটা জীবন সংসার করতে চান মহসিন। ফটোগ্রাফিকেই পেশা হিসেবে বাছতে চান ‘থ্রি ইডিয়টসের’ ফারহানের মতো। পারিবারিক ভাবেও তার এই সাফল্য ও ইচ্ছার পিছনে পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। মহসিনের আব্বা জাভেদ আখতার সংবাদ সংস্থা ইউএনআই-এর বার্তা সম্পাদক। পুত্রের এই সাফল্যে তিনি খুশি। ‘আমি বাড়িতে ওর তোলা ছবি দেখে অবাক হয়েছি। আর তখনই ওকে উৎসাহিত করেছি এটাকে নিয়ে সিরিয়াস হওয়ার জন্য–’ জানাচ্ছেন গর্বিত পিতা।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only