শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০১৯

আবেদনকারী বিধবাকে দ্রুত পেনশন ভাতা দেওয়ার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

পারিজাত মোল্লা:- বৃহস্পতিবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টের ৮ নং ঘরে বিচারপতি দেবাংশ বসাকের এজলাসে সুন্দরবনে এক সরকারি প্রকল্পে ভাতা সংক্রান্ত মামলা উঠে। বিচারপতি তাঁর নির্দেশিকায় পরিস্কার ভাবে জানিয়ে দেন - কোটার দোহাই দিয়ে বিধবাভাতা থেকে কাউকে বঞ্চিত করা যাবেনা। সেইসাথে সংশ্লিষ্ট বিডিও কে সাতদিনের মধ্যে বিধবা ভাতা চালু করার নির্দেশজারি করেছেন। আবেদনকারীর আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ রায় চৌধুরী বলেন - "মহামান্য বিচারপতির এই রায় শুধু কোন নিদিষ্ট ব্যক্তির নয়, এইরূপ যারা রয়েছেন তারা প্রত্যেকেই এই সরকারি প্রকল্পে ভাতা পাওয়াতে আবেদন যোগ্য"।  আদালত সুত্রে প্রকাশ, ২০১৮ সালে জুলাই মাসে দক্ষিণ ২৪ পরগণার সুন্দরবন অঞ্চলে মনোজ বিশ্বাস (৩৮) নামে এক দুস্থ  ব্যক্তি মারা যান।রেখে যান স্ত্রী স্বপ্না বিশ্বাস (৩২)  সহ দুই সন্তান কে।  এরেই মাঝে রাজ্য সরকার 'পশ্চিমবঙ্গ বিধবা পেনশন ভাতা ' নামে এক প্রকল্প চালু করে থাকে। যেখানে আবেদনকারী মহিলার স্বামী কে মৃত এবং মাসিক আয় এক হাজারের নিচে হতে হবে। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে ওই বিধবা মহিলা গোসাবা ব্লক প্রশাসনের কাছে দারস্থ হন। বহু আবেদন নিবেদন করেও কোন সুরাহা পাননি। এমনকি বিডিওর দর্শনপ্রার্থী হলেও অফিসে বিডিওর দেখা পাননি বলে অভিযোগ। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বিভিন্ন প্রশাসনিক অফিসে ছোটাছুটি করেও কোন লাভ হয়নি। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ রায় চৌধুরীর হাত ধরে   কলকাতা হাইকোর্টের দেবাংশু বসাকের এজলাসে মামলা টি উঠে। গত ১৬ এপ্রিল শুনানির প্রথম পর্যায়ে বিচারপতি রাজ্য সরকারের আইনজীবির কাছে জানতে চান, কেন আবেদনকারী আবেদন জমা দিয়েও বিধবা পেনশন ভাতা পাচ্ছেন না?  কেননা এই প্রকল্পের শর্ত হিসাবে যে দুটি রয়েছে যথা স্বামী কে মৃত হতে হবে এবং মাসিক আয় এক হাজারের নিচে হতে হবে। সেদুটি শর্ত সাপেক্ষে আবেদনকারী যোগ্য। তখন গোসাবার বিডিও রিপোর্ট দেন - প্রকল্পে কোটা পূর্ন হয়েছে পরবর্তীতে আবার নেওয়া হবে। বিচারপতি দেবাংশ বসাক এহেন সরকারি অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন। সেইসাথে পুরো বিষয়টি তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলেন। আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের দেবাংশু বসাকের এজলাসে পুনরায় মামলা টি উঠে। সেখানে বিডিও কে সাতদিনের মধ্যে ওই আবেদনকারী বিধবা মহিলা কে বিধবা পেনশন ভাতা চালু করার নির্দেশ জারি করা হয়। এই নির্দেশিকা গোসাবা বিডিও, ক্যানিং মহকুমাশাসক, আলিপুরে জেলাশাসক কে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।  এদিন কলকাতা হাইকোর্টের এহেন রায়ে চোখে জল এসেছে ওই বিধবা মহিলার। তিনি বলেন - "স্বামী চলে যাওয়ার পর লোকের বাড়ীতে কাজ করে দুই সন্তান কে মানুষ করছি। বিডিও অফিস থেকে ডিএম অফিসে বহুবার গিয়েছি। কোন কাজ হয়নি। আজ কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে জীবনযুদ্ধে আর্থিকভাবে লড়াই করার শক্তি পেলাম"।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only