শনিবার, ১ জুন, ২০১৯

লাইলাতুল কদর কী? আসুন এর তাৎপর্য সম্বন্ধে জেনে নিই

লাইলাতুল কদর তথা কদরের রাত সম্মানিত ও মহিমান্বিত এক রাত। এই রাতের মতো আর কোন রাতকেই আল্লাহ এত মর্যাদাসম্পন্ন করেননি।
মহিমান্বিত এই রাত সম্পর্কে আল্লাহ কি বলেছেন? কুরআন মাজীদের সূরা কদরের আলোকে এখানে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

 ১. নিশ্চয়ই আমি একে (কুরআনকে) নাযিল করেছি কদরের রাতে।
কদরের রাতের বিপুল মর্যাদার অন্যতম একটি কারণ, আল্লাহর এই রাতে কুরআন নাযিল করা। কুরআনের প্রথম আয়াত আল্লাহ কদরের রাতেই রাসূল (সা.) এর উপর নাযিল করেন।চৌদ্দশত বছর আগে সারা বিশ্ব যখন অজ্ঞতা, মূর্খতা, অন্যায় ও অত্যাচারের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, মুহাম্মদ সা. নামের মরুবাসী একজন মানুষ এই অন্ধকারকে আলোকিত করার পথের অনুসন্ধানের জন্য নিজেকে নিয়োগ করলেন। মক্কার নিকটে জাবালে নূরের (নূর পাহাড়) হেরা গুহায় তিনি দিনের পর দিন, রাতের পর রাত এই পথের অনুসন্ধানের চিন্তায় বিভোর থাকতেন।
অন্ধকারকে আলোকিত করার জন্য আল্লাহ মুহাম্মদকে সা. পথের অনুসন্ধান দান করে কদরের রাতে তার উপর নাযিল করলেন কুরআনের প্রথম আয়াত।
২. আপনি কি জানেন কদরের রাত কী?
আমাদের অজ্ঞানতার পরিমাণ কতটুকু তা আমাদের কাছে স্পষ্ট করতে এই আয়াতটি খুবই শক্তিশালী। পূর্ণ জ্ঞানের একমাত্র অধিকারী আল্লাহই আমাদেরকে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে শিক্ষা দান করেছেন বলে জ্ঞানভান্ডারে আমাদের অধিকার। কিন্তু কোন বিষয় সম্পর্কেই আমাদের পূর্ণ জ্ঞান নেই। এখানে আল্লাহ আমাদের কদরের রাত সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের জন্য উৎসাহিত করছেন।
৩. কদরের রাত হল হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
সারাবছরে কদরের রাতের মত এমন সুযোগ দ্বিতীয়টি আর পাওয়া যাবে না। কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী কদরের রাত হল হাজার মাসের তুলনায় উত্তম।এক হাজার মাস মিলে প্রায় ৮৩ বছরের মতো সময় হয়। আজকের দিনে অধিকাংশ লোক এত দীর্ঘ জীবন লাভ করতে পারে না।
প্রতিবছর রমজানে আল্লাহ আমাদের ৮৩ বছর একটানা ইবাদতের চেয়ে অধিক মর্যাদা অর্জনের সুযোগ দান করেন।
সুতরাং, এই রাতে আমরা বেশি বেশি নফল নামাজ, যিকির, কুরআন তেলওয়াত, দান-সদকা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও মুনাজাতের মাধ্যমে অতিবাহিত করতে পারি।
৪. ফেরেশতা ও রুহ (জিবরাইল) এই রাতে তাদের প্রভুর আদেশে অবতীর্ণ হয়
কদরের রাত হল এমন রাত যাতে আল্লাহ পরবর্তী বছরের জন্য তার আদেশ প্রেরণ করেন।এসকল আদেশ নিয়ে জিবরাইল (আ.) ও অন্যান্য ফেরেশতারা এসময় দুনিয়ার বুকে নেমে আসেন। এই রাতের মতো অন্য কোন রাতে এত ফেরেশতা পৃথিবীতে আসেন না। 
৫. শান্তি; ফজরের উদয় পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে
আমাদের ঈমানের চূড়ান্ত পরিণতি দুনিয়া ও আখেরাতে আমাদের হৃদয়ের শান্তি। কদরের রাত মূলত সেই শান্তির আধার।মূলত ক্ষমা ও প্রশান্তির রাত হল এই কদরের রাত। এই রাতের সুযোগ গ্রহণ করে আমরা আমাদের পূর্ববর্তী গুনাহকে ক্ষমা করিয়ে নিতে পারি।
সুতরাং আমাদের উচিত অলসভাবে বসে না থেকে এই রাতের সুযোগকে গ্রহণ করার জন্য এই রাতের অনুসন্ধান করা। আল্লাহ আমাদের সকলকে কদরের রাতের মূল্যবান এই সুযোগ অর্জনের তৌফিক দিন এবং আমাদের ইবাদতসমূহকে কবুল করে নিন।

(সংকলিত)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only