মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৯

এনআরসি-র নামে বিশেষ শ্রেণিকে নিশানা করা হচ্ছে, সংসদে সরব মহুয়া

মঙ্গলবার এনআরসি নিয়ে মোদি সরকারকে লোকসভায় চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এদিন তিনি বলেন, এনআরসি-র নাম করে বিশেষ সম্প্রদায়কে নিশানা করা হচ্ছে। যাঁরা এদেশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে তাঁদের কাছে হঠাৎ করেই কিছু কাগজ চাওয়া হচ্ছে। যাঁদের এদেশে জন্ম তাঁদের সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। মহুয়া বলেন, ‘মন্ত্রীরা যখন নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র দেখাতে পারেন না তখন আপনারা সাধারণ মানুষকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে বলছেন। ৫০ বছর ধরে এদেশে বসবাস করা নাগরিকদের প্রমাণ দেখাতে বাধ্য করা হচ্ছে।’ বিশেষ শ্রেণিকে নিশানা করে তাঁদের অনুপ্রবেশকারী বলছে এই সরকার।
মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মহুয়া বলেন, কাল্পনিক উগ্র জাতিয়তাবাদের নাম করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হচ্ছে। গণপিটুনি নিয়েও গেরুয়া শিবিরকে একহাত নেন তিনি। সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকেও। সব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যে নিজের কৃতিত্ব দাবি করেন তা নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েননি তৃণমূল সাংসদ। তিনি বলেন, সেনার সাফল্যকেও একজনের সাফল্য হিসেবে দেখানো হচ্ছে। অথচ এই জমানাতেই কাশ্মীরে জওয়ানদের মৃত্যু বেড়েছে ১০৬ শতাংশ। তাঁর ভাষণে উঠে আসে পেহলু খানের কথা ও ঝাড়খণ্ডে গণপিটুনিতে মৃত তাবরেজ আনসারির কথা। কেন্দ্রকে নিশানা করে তিনি বলেন, কাল্পনিক শত্রু তৈরি করা হচ্ছে। ‘আপনারা ভারতকে অন্ধকার যুগে নিয়ে যাচ্ছেন।’
গেরুয়া শিবিরের কাল্পনিক শত্রুর প্রসঙ্গে মহুয়া বলেন, ‘ছোটবেলায় আমার  মা অনেক সময় বলতেন তুমি এটা না করলে কালা ভূত তোমাকে ধরবে। এখন এমনই কাল্পনিক কালা ভুতের ভয় দেখানো হচ্ছে।’
নাগরিকপঞ্জী প্রকাশের পর নেত্রীর নির্দেশে অসমে গিয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। বিমানবন্দরেই তাঁকে পুলিশি ধস্তাধস্তির মধ্যে পড়তে হয়েছিল। এদিন সংসদে গেরুয়া শিবিরকে খোঁচা দিতে শায়েরিরও আশ্রয় নেন মহুয়া। কখনও হিন্দি কবি রামধারী সিং দিনাকর আবার কখনও শায়ের রাহাত ইন্দোরির শায়েরি বর্ণনা করেন। রাহাত ইন্দোরির বিখ্যাত শায়েরির অংশ তুলে ধরে তৃণমূল সাংসদ বলেন– ‘...সভিকা খুন হ্যায় সামিল ইঁহাকি মিট্টি মে/কিসি কি বাপ কা হিন্দুস্তান থোরি হ্যায়।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only