সোমবার, ২৪ জুন, ২০১৯

ফের মুরসিকে নিয়ে নতুন তথ্য! ফাঁস করলেন পাক পরমাণু বিজ্ঞানী

মরহুম মিশরীয় প্রেসিডেন্ট মুরসিকে নিয়ে নয়া তথ্য ফাঁস করলেন পাক পরমাণু বিজ্ঞানী ড. আবদুল কাদির খান। ২০১৩ সালে মুরসি বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের নেপথ্যে আসলে রহস্য কি ছিল তা নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। খান সাক্ষাৎকারে বলেছেন আমেরিকা, ইসরাইল ছাড়াও অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দারাও এই বিষয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
পাকিস্তানের পরমাণু বোমার জনক খান ফেসবুকে একটি পোস্টে বলেন, ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসি মিসরে ক্ষমতায় আসার পর রাশিয়া, ভারত ও পাকিস্তান সফর করে ছিলেন। কেন তিনি এই সফর করেছিলেন? সে সম্পর্কে কারোর পরিষ্কার ধারণা নেই। আসলে, ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ মিসরীয় পরমাণু চুল্লি ফের চালু করতে রাশিয়ার সঙ্গে একমত হয়েছিলেন তিনি, যেটা দিয়ে মিশরে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। একই উদ্দেশ্যে তিনি আরও একটি পরমাণু চুল্লি প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়ে ছিলেন। তবে সেটার তিন বছর পর গ্রহণ করার কথা ছিল মিশরের।
খান বলেন, মিশরীয় কথা বেশি না বলাই ভালো। তবে মুরসির ভাগ্য নিয়ে আসল সত্য মিশরীয়দের জানা উচিত।
এই পরমাণু বিজ্ঞানী আরও বলেন, মিশরীয়রা কি জানে মুরসির এই বিদেশ ভ্রমণ পশ্চিমাদের কাছে ভয়ের কারণ হয়ে উঠে ছিল? মুরসির এই পদক্ষেপই চিরতরের মতো মিশরের বিদ্যুৎ সমস্যা মিটিয়ে দিত, একই সঙ্গে মিশর আফ্রিকার অন্যান্য দেশের বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারত।
মিশরীয়দের জানা উচিত মুরসির প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ে, মিশর, জার্মানী থেকে দুটি সাবমেরিন নিয়ে ছিল।
কিন্তু মিশরকে তা না দেওয়ার জন্য ইসরাইল ক্রমাগত জার্মাটিকে চাপ দিতে থাকে।আসলে ইসরাইল তাতে ভয় পেয়ে ছিল, কারণ এই সামেরিনগুলি যেকোন এয়ারক্রাফ্ট কেরিয়ারকে নিমেষের মধ্যে আঘাত হানতে সক্ষম ছিল। আর মিশরের যদি ক্ষেপনাস্ত্র রাখার অনুমতি থাকত তাহলে পরিস্থিতি উলট হয়ে যেত।
সম্প্রতি মার্চ মাসে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্বীকার করে তিনি জার্মান-মিশরের ক্রয়চুক্তি অনুমোদন দিয়েছেন।কিন্তু এমন তিনি সেটা করেছেন, তা কিন্তু গোপন রাখলেন। তার সাফাই ছিল, এটা রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা।
খান আরও ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, অনেক মিশরীয়ই সেনা নজরদারি স্যাটেলাইটের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেন না। কিন্তু এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইসরাইলের ওপর নজরদারি রাখা সম্ভব। ভারতীয় এক বিজ্ঞানীর সঙ্গে এ সম্পর্কে সহমত পোষন করে ছিলেন মুরসি, ২০১৩ সালে অন্যায়ভাবে যদি অভ্যুত্থান না ঘটত তাহলে মিশর এমনই একটি স্যালাইটের মালিক হত।
তিনি বলেন, একবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মুরসিকে বলে ছিলেন, মিশরের ক্ষেপনাস্ত্রে প্রয়োজন রয়েছে।তাই প্রেসিডেন্ট মুরসির সঙ্গে রাশিয়ার একটি চুক্তিও হয়। মিশরের মেজর জেনারেল আল-তারাজকে সেবিষয়ে আলোচনার জন্য রাশিয়াও পাঠিয়ে ছিলেন মুরসি কিন্তু বলে মার্কিন চাপে তা ভেস্তে যায়।
এভাবে মিসরকে শক্তিশালী করতে পদক্ষেপ নিতে শুরু করে ছিলেন মিশরের এই জনদরদি প্রেসিডেন্ট। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্ব তাঁর এই দ্রুত পদক্ষেপগুলির জন্য ভয় পেতে শুরু করে ছিল। তাই ক্ষমতাচ্যূত করতেই তার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটনাই ছিল এক মাত্র বাঁচার পথ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only