বুধবার, ২৬ জুন, ২০১৯

ঝাড়খণ্ডে লিঞ্চিং নিয়ে মুখ খুললেন মোদি

 বুধবার রাজ্যসভায় ঝাড়খণ্ডে লিঞ্চিং থেকে শুরু করে ইভিএম, বিহারে এনসেফেলাইটিস, দেশজুড়ে জলের সংকট– অর্থনৈতিক বৃদ্ধি সহ একাধিক বিষয়ে এদিন আলোকপাত করেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিন ভাষণের শুরুতে ভোটরাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। আরও একবার দেশের সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি ভোটারদের কৃতজ্ঞতা জানান। বলেন– এই নির্বাচন ঐতিহাসিক। একটি দল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এটা স্বাস্থ্যকর গণতন্ত্রের লক্ষণ। মানুষ নড়বড়ে নয়– শক্তিশালী সরকার চায়। এরপরই বিরোধী দল কংগ্রেসকে নিশানা করতে শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে গিয়ে গালিবের সায়েরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন– কংগ্রেসের মুখে ধুলো– অথচ নিজের মুখ সাফ না করে কংগ্রেস আয়না পরিস্কার করে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন– ‘আমি অত্যন্ত ব্যথিত হই যখন কিছু নেতাকে বলতে শুনি বিজেপি ও তার শরিক দল ভোটে জিতেছে ঠিকই কিন্তু– দেশ পরাজিত হয়েছে। গণতন্ত্র পরাজিত হয়েছে। এই ধরনের মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক। কেন ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে? কংগ্রেস মনে করে তারা না জিতলে দেশ জেতে না। দেশ আর কংগ্রেস কি একই? দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও গণতন্ত্রকে সম্মান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
এরপরই প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন– ওয়াইনাডে কি দেশ পরাজিত হয়েছে? রায়বরেলি– ত্রিবান্দ্রমে কি দেশ পরাজিত হয়েছে? ঔদ্ধত্যের একটা সীমা থাকা উচিত। ইভিএমে কারচুপি নিয়েও সরব হন প্রধানমন্ত্রী। বলেন– প্রযুক্তি থেকে পালিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। একসময় সংসদে আমাদের মাত্র ২জন প্রতিনিধি ছিল। তা নিয়ে অনেকেই আমাদের হাসাহাসি করত। আমরা কোনও অজুহাত দিইনি। পুলিং বুথ নিয়েও অভিযোগ করিনি। আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছিলাম। মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি। বিরোধীরা বলছে– ২ হাজার টাকা করে দিয়ে আমরা নাকি কৃষকদের কিনে নিয়েছি। এই ধরনের মন্তব্য দেশের কৃষকদের অপমান। বলা হচ্ছে– মিডিয়াকে কিনে নিয়ে নাকি আমরা ভোটে জিতেছি। তাহলে কেরল– অন্ধ্র প্রদেশে– তামিলনাড়ুতে এমন হল কেন? আমাদের রাজ্যসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না। তাই মানুষ এবার আরও বেশি করে আমাদের ভোট দিয়েছে। মানুষ সব জানে– বোঝে।
ঝাড়খণ্ডে মুসলিম যুবকে পিটিয়ে হত্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনা আমাকে যন্ত্রণা দিয়েছে। আমরা সবাই এজন্য দুঃখিত। নিহতের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রয়েছে। দোষীদের অবশ্যই কঠোর সাজা হওয়া উচিত। তাই বলে গোটা রাজ্যকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করা ঠিক নয়। এরপর এনআরসি নিয়েও কংগ্রেসের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন– কংগ্রেস সবকিছুর কৃতিত্ব নিতে চায়। তাহলে এনআরসি’র কৃতিত্বও তো কংগ্রেসের নেওয়া উচিত। কারণ– অসম চুক্তিতে এনআরসি মেনে নিয়েছিলেন রাজীব গান্ধিও। বিহারে এনসেফেলাইটিসে শিশুমৃতু্যকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন– এটা আমাদের সকলের কাছে লজ্জার। সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন– আমরা এখনও বিশ্বাস করি সর্দার প্যাটেল প্রধানমন্ত্রী হলে কাশ্মীর সমস্যা থাকত না। প্যাটেল কংগ্রেসের বড় নেতা হলেও আমরাই তাঁকে সম্মান দিয়েছি। গুজরাতে তাঁর সবথেকে বড় মূর্তি তৈরি করেছি। জল সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন– দেশের ২২৬টি জেলা জলের সমস্যায় ভুগছে। আমাদের সবাইকে একজোট হয়ে চেষ্টা করতে হবে। সাংসদ তহবিলের টাকা দিয়ে এই সমস্যার মোকাবিলা কিভাবে করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only