রবিবার, ২৩ জুন, ২০১৯

আমৃত্যু লড়ব, মোদিকে খোলা চিঠি সঞ্জীব ভাটের

লড়াই জারি থাকবে। জীবন্ত পুড়িয়ে মারলেও এই লড়াই েথকে পিছপা হব না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খোলা চিঠিতে এমনটাই জানিয়েছেন প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক সঞ্জীব ভাট। সুপ্রিম েকার্টের রায়ের অপব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন সঞ্জীব ভাট। মুসলিম মিররের সৌজন্য এই খোলা চিঠির মূল অংশ তুলে ধরল পুবের কলম।
৩০ বছরের পুরাতন মামলায় প্রাক্তন আইপিএস সঞ্জীব ভাটকে যাবজ্জীন কারাদেেণ্ডর নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় আদালত।
সঞ্জীব ভাট লেখেন, ৬ কোটি গুজরাটির উদ্দেশে এই খোলা চিঠি লিখতে েপরে আনন্দিত। আমার প্রিয় ভায়েরা, আপনারা জেনে রাখুন সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিল তার সম্পুর্ণ ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। আপনারা যাঁকে অভিভাবক হিসাবে বার বার নির্বাচনে জিতিয়ে এনেছেন তিনি আপনাদের ভুল বুঝিয়েছেন। এক শ্রেণীর রাজনৈতিক দলও নানা ভুল বার্তা ছড়িয়েছে। ২০০২ গুজরাত দাঙ্গা নিয়ে মিথ্যার ভিত্তিতে গুজরাত সরকার আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছিল সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তার অবসান হয়। সুপ্রিম কোর্ট একবারের জন্যেও বলেনি যে, অভিযোগকারী জাকিয়া জাফরির অভিযোগ মিথ্যা। বরং সেদিন মাননীয় সুপ্রিম েকার্ট যেকথা বলেছিল তা যথেষ্ট গুরুত্বপুর্ণ ছিল। জাকিয়া জাফরি গুজরাত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আর্জি জানিয়েছিলেন, অন্তত তাঁর অভিযোগের এফআইআর নথিভুক্ত করুক প্রশাসক। সেই আর্জিতেও আমল দেয়নি মাননীয় গুজরাট হাইকোর্ট। সুপ্রিম েকার্ট অভিযোগের তদন্ত করতে সিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল
মানুষকে ভুল েবাঝাতে হিটলার তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু গোয়েবলসের সাহায্য নিয়েছিলেন। ক্রমাগত একই মিথ্যা বলা হয়েছিল। কিন্তু তা চিরদিন চলে না। নাৎসিরাও একসময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। যার পরিণতি দেখেছে গোটা বিশ্ব। গুজরাতে সেটাই হয়েছে। চিঠিতে লেখেন সঞ্জীব।৬ কোটি গুজরাতবাসীকে যেভাবে দিনের পর দিন প্রতারণা করা হয়েছে তাতে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। বিশেষ স্বার্থে গুজরাতকে ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ প্রাক্তন এই আইপিএসের। তিনি েখালা চিঠিতে লিখেছেন, হিংসা দিয়ে কখনও হিংসাকে জয় করা যায় না। আমি সেকথা খুব ভালোভাবে বুঝি।
সঞ্জীবের চিঠির শেষ ফুটে উঠেছে খানিকাট আক্ষেপ। তিনি লেখেছেন ২৩ বছর ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসে কাজ করেছি। গুজরাতবাসীদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, আমার দুর্ভাগ্য ২০০২ এ যে সময় দাঙ্গার নকশা বানানো হয়েছিল সেই সময় প্রশাসনের বিশেষ দায়িত্বে ছিলাম আমি। এই চিঠিতে সেসব বিশদে েলখা যায় না। তার জন্য এই চিঠিও নয়। আমি নিশ্চিত একদিন সুযোগ আসবেই। সেদিন আপনারা এবং আমি সুযোগ পাব। সেদিন আর আপনারা আমাকে এত ঘৃণা করতে পারবেন না।
সঞ্জীব ভাটের স্ত্রী শ্বেতা ভাট দ্য হিন্দুকে জানিয়েছেন এই রায় আসল ‘মিজক্যারেজ অব জাস্টিজ।’ ১৯৯০ এর একটি মামলার জন্য তাঁর স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাঁর মৃত্যুর অভিযোগ তোলা হয়েছে সেই প্রভুদাস মাধবজী বইসনানিকে  জেরা পর্যন্ত করেনি সঞ্জীব। তাছাড়া পুলিশ হেফাজতে নয়, হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। জামনগরের জামযোধপুরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা রুখতে সেদিন মোট ১৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। েসই সময় দেশজুড়ে রথযাত্রা বের করছেন আদবানি। দাঙ্গার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল দেশের বিভিন্ন জায়গায়। জামনগরে যাতে কোনোভাবে দাঙ্গা না বাধতে পারে সে চেষ্টাই করেছিলেন তাঁর স্বামী। এমনটাই জানালেন তাঁর স্ত্রী। এইকই সঙ্গে তিনি বলেন, সবটাই করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত। উল্লেখ্য, ২০০২ গুজরাত দাঙ্গার সময় তিনি তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী মোদির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছিলেন। সরাসরি কারও নাম না বললেও শ্বেতা ভাটের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাতেই তাঁর স্বামীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only