শুক্রবার, ২১ জুন, ২০১৯

আমেরিকায় বাড়ছে আত্মহত্যার সংখ্যা


পুবের কলম, ২১ জুন: সম্প্রতি এক সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে, ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আমেরিকায় আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েছে ৩৩ শতাংশ। ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিসটিক্স এমনটা দাবি করেছে। আমেরিকার রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা একটি স্বাস্থ্য সমীক্ষা চালিয়ে ছিল সেখান থেকে বিষয়টি উঠে আসে। বৃহস্পতিবার চাঞ্চল্যকর এই রিপোর্ট উঠে আসায় রীতিমত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সবমহল।
সংস্থাটির গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে আত্মহত্যার হার আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯৯ সালে প্রতি এক লক্ষ মার্কিনিদের মধ্যে ১০ শতাংশ আত্মহত্যা করতেন। ২০১৭ সালে তা বেড়ে ১৪ শতাংশ হয়ে গিয়েছে।
বলা হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আমেরিকায় এটাই আত্মহত্যার সবচেয়ে বড় ঘটনা। প্রসঙ্গত বিশ্ব যুদ্ধের পর থেকে বিদেশ ফেরত লক্ষ মার্কিনী সেনা সদস্যের মধ্যে আত্মহননের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়ে ছিল। যুদ্ধে ভয়াবহতায় তাদের মানসিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। মনোবিজ্ঞানীদের ভাষায় এই অবস্থাকে পোস্ট ট্রামাটিক ডিজ-অর্ডার বলা হয়।
জানা গিয়েছে, আমেরিকার আদি জাতি রেডইন্ডিয়ান গোষ্ঠীর মানুষ সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যাকে বেছে নিচ্ছেন। আলাস্কার রেডইন্ডিয়ানদের মধ্যে আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি।আসলে ইউরোপ থেকে আসা শেতাঙ্গদের ঔপনিবেশিকদের হাতে এই গোষ্ঠীটি শত শত বছর ধরে নির্যাতিত হয়ে আসছে। গণহত্যা, ধর্ষণ, বৈষম্যের শিকার হয়ে এই জাতির মানুষ আত্মহত্যাকে বেচে নিচ্ছে। বর্তমানে তাদের প্রতি এমন আচরণ এতটুকুও কমেনি। বরং আর্থিকভাবে তাদেরকে এখনও পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। জানা গিয়েছে, মার্কিন নারীরা খুব একটা মানসিক স্বস্তিতে নেই। এশীয় এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের আদিবাসি নারীরা বাদে অন্য সকল বর্ণ এবং নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর নারীরাও আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। আলাস্কার রেড ইন্ডিয়ান জাতির নারীদের আত্মহত্যার হার ১৩৯ শতাংশ বেড়েছে। ওই জাতিরই বালক এবং পূর্ণবয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ৭১ শতাংশ হারে বেড়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only