বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৯

পর পর মৃত্যু, সোয়াইন ফ্লু নিয়ে সতর্ক বিধাননগর পুরসভা

পুবের কলম প্রতিবেদক­ সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত কোনও রোগী ভর্তি হলেই খবর দিতে হবে বিধাননগর পুরনিগমে। বৃহস্পতিবার বিধাননগরের মেয়র পারিষদ স্বাস্থ্য প্রণয় রায় জানিয়েছেন– সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলিতেও যদি কোনও সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হন– অবিলম্বে তার সব তথ্য পুরসভাকে পাঠাতে হবে।

গত এক বছর ধরে ডেঙ্গুর মতই সোয়াইন ফ্লুতে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে সল্টলেকে। মঙ্গলবার গভীর রাতে সোয়াইন ফ্লুতে ভুগে মৃত্যু হয়েছিল তপন কর্মকার নামে ৭২ বছরের এক বৃদ্ধের। তিনি সল্টলেকের বিধান আবাসনে থাকতেন। শুধু তপন বাবুই নন এর আগেও সল্টলেকের এফ ই ব্লকের এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে সোয়াইন ফ্লুর সংক্রমণে। অন্যদিকে সল্টলেকের সিজে ব্লকের নারায়ন কৃষ্ণমূর্তি নামে ৮১ বছরের এক বৃদ্ধও সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে আমরি হাসপাতালে ভর্তি। তিনি আট দিন আগে শ্বাসকষ্ট – জ্বর ও গায়ে ব্যাথা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। একই ভাবে সল্টলেকের এসি ব্লকের বাসিন্দা ইলোরা চৌধুরীও সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে এক সপ্তাহ ধরে আমরি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নারায়ন কৃষ্ণমূর্তির বা ইলোরা দেবীর মত আরো অনেক সল্টলেক বাসিন্দা সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি। কিন্তু সে সম্পর্কে এতদিন পর্যন্ত কোন তথ্যই ছিল না বিধাননগর পুরনিগমের কাছে। সেই কারণেই বেসরকারি হাসপাতালগুলির কাছে সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্তের তথ্য চেয়েছেন তারা।
তবে শুধু বেসরকারি হাসপাতালের দেওয়া তথ্যের উপর নজরদারি নয়– সোয়াইন ফ্লুর সংক্রমণ রুখতে কাউন্সিলারদের দিয়ে পুর এলাকার কোনও ওয়ার্ডে শুয়োর চাষ হচ্ছে কি না সে বিষয়েও সন্ধান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এ দিন। এলাকার মধ্যে কোথাও শুয়োরের খামারের সন্ধান পাওয়া গেলে পুরসভার পক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আইনত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রণয় রায়।

সাধারণত সোয়াইন ফ্লুর সংক্রামণ ছড়ায় শুয়োরের শরীর থেকে। বর্তমানে পুর এলাকার কোনও ওয়ার্ডে শুয়োরের চাষ না হলেও কয়েক মাস আগেই বেশ কিছু এলাকায় শুয়োরের চাষ হত। সেই সব এলাকায় ফের শুয়োরের চাষ শুরু হয়েছে কি না খতিয়ে দেখতে কাউন্সিলারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সল্টলেক পুরএলাকায় বেশ কয়েকটি বস্তির উপরেও নজরদারী চালাচ্ছে পুরসভা। কারণ বিশেষজ্ঞরা ঘিঞ্জি এলাকা থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন। সল্টলেকের ২৯– ৩০– ৩১– ৩২– ৩৩– ৩৪ থেকে ৩৭ – ৩৮– ৩৯ – ৪০– ৪১ নম্বর ওয়ার্ডগুলিকে সংক্রমণ প্রবণ বলে চিহ্নিত করেছেন তাঁরা। এলাকার মানুষদের মধ্যে সোয়াইন ফ্লু নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে বাড়ি বাড়ি লিফলেট ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়ে প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only