রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৯

চিনা সফরের ফলে বিশ্বভারতী গ্লোবাল ম্যাপে আসবে: উপাচার্য

দেবশ্রী মজুমদার, শান্তিনিকেতন, ১৬জুন:-  বর্তমান উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী  পাঁচ দিনের চিনা সফরে যাচ্ছেন।  এর ফলে বিশ্বভারতী  গ্লোবাল ম্যাপে  আসবে, বলে জানান উপাচার্য বিদ্যুৎ কুমার চক্রবর্তী।  সেখানে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ডেভলপমেন্টের ভাবনা চিন্তা, গান্ধীর  ডেভলপমেন্ট দিকটা চর্চা করবেন তাঁর বক্তৃতার মাধ্যমে। আলোচনায় তুলে ধরবেন রবীন্দ্রনাথের স্বদেশী ও গান্ধীজীর পঞ্চায়েত ভাবনা। এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভবনের কনফারেন্স হলে সাংবাদিক বৈঠক করেন উপাচার্য।   
বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গেছে,  বিশ্বভারতী থেকে আগে বহুবার উপাচার্যরা চিনা সফরে গেছেন। সাম্প্রতিককালে, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য স্বপন কুমার দত্ত গেছেন চিন সফরে। এই চিনা সফর রবীন্দ্রনাথের সময় থেকে চলে আসছে। রবীন্দ্রনাথের সমস্ত লেখা অন্যান্য ভাষায় অনুদিত হওয়ার আগে, চিনা ভাষায় অনুদিত হয়। যা আজও চিনাভবনে রাখা আছে।  বর্তমান উপাচার্য জানান, তাঁর সফর পাঁচ দিনের। বক্তৃতা ছাড়াও তাঁর ভ্রমনসূচীর মধ্যে আছে তিয়েনমান স্কোয়ার পরি দর্শন এবং সাংহায়ে বুলেট ট্রেনে ভ্রমন। গোটা ভ্রমন স্পনসর করছে চিন।  উপাচার্য জানান, এগুলোর বলার অর্থ একটাই, চিনা সরকার আগ্রহ দেখাচ্ছে ভারতবর্ষের সাথে সম্পর্ক দৃঢ করতে।  সোমাবার চিন রওনা দিচ্ছেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য। মূল উদ্দেশ্য দুই দেশের সাথে সম্পর্ক দৃ করা দুই দেশের সাংস্কৃতিক আদান প্রদানের মাধ্যমে। এর মূল উদ্যোক্তা কলকাতা অবস্থিত চাইনিজ ভাইস কনসাল। আমন্ত্রণ পাঠিয়েছে একাডেমি অফ  সোশ্যাল সায়েন্স। যার প্রেসিডেন্ট একজন পলিটব্যুরো। ওখানে গিয়ে আমি তিনটে বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেব। প্রথমে আমি বক্তৃতা দেব  ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়, তারপর বেজিংয়ে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়। তারপর  সাংহাইয়ে ফুডান বিশ্ববিদ্যালয়ে।  আমাকে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে, আমি যেন  ওখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ডেভলপমেন্টের ভাবনা চিন্তা, গান্ধীর  ডেভলপমেন্ট দিকটা চর্চা করি ।  প্রতিপাদ্য বিষয় হল বিকল্প ও মৌলিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে।  রবীন্দ্রনাথের স্বদেশী ও গান্ধীর পঞ্চায়েত নিয়ে ভাবনার উপর  আলোকপাত হবে বিভিন্ন আলোচনায়। এর থেকে আমি মনে করি, এ যাবৎ একটা প্রচেষ্টা হয়েছে পাশ্চাত্ত ভাবনা চিন্তাকে খুব বেশি রকমভাবে গুরুত্ব দিয়েছি। সেই অর্থে যদি আমরা আমাদের ভাবনা চিন্তাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। মূল উদ্দেশ্য হল দুই দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ট, দৃ করা। আমার সাথে একজন দোভাষিকি দেওয়া হচ্ছে। পুরো খরচ চাইনিজ সরকারের। বোঝা যাচ্ছে চিন সরকার গোটা বিষয়টি খুব আন্তরিকভাবে নিয়েছে। আমিও খুব খুশি,  আমাদের বিশ্বভারতী এর ফলে গ্লোবাল ম্যাপে  আসবে। আর আগে চিন সম্পর্কে আলোচনা হলে কেন্দ্রীভূত হত শুধু চিনাভবনের মাধ্যমে হত।  এবার আমি বলেছি, সেটা না করে এবার চাইনিজ সরকারের যে সমস্ত সাহায্য, আলাপ আলোচনা, আদান প্রদান সম্পূর্ণ বিশ্বভারতীর ক্ষেত্রে হবে।  আমার এই সফরের ফলে একটি নতুন দিক উন্মোচিত হবে। ভবিষ্যতে আমারা চাইব  যে এই ধরণের আদান প্রদান আরও বাড়ে।  দুই দেশ সাংস্কৃতিক আদান প্রদানের মাধ্যমে কাছে আসতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only