বুধবার, ৩ জুলাই, ২০১৯

পশ্চিমবঙ্গের সাপের বিষ দিয়ে এ ভি এস বানানো! কিন্তু কেন?

পয়লা জুলাই এসএসকেএম হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর হাত থেকে সংবর্ধিত হয়েছিলেন রাজ্যের বিশিষ্ট চিকিৎসক দয়াল বন্ধু মজুমদার। তার নিরলস চেষ্টায় পশ্চিমবঙ্গে সাপের কামড়ের চিকিৎসা প্রসার লাভ করেছে। ওই দিন মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব এভিএস তৈরীর আবেদন জানান তিনি । কেন, আসুন কারণটা জেনেনি।

যে যে সাপের বিষ ঘোড়ার শরীরে প্রবেশ করিয়ে এভিএস বানানো হয় তা কেবলমাত্র সেই সেই সাপের বিষের বিরুদ্ধে কাজ করে যাদের বিষ ঘোড়ার শরীরে ঢুকে ছিল। আবার এলাকা ভেদে সাপের বিষের চরিত্র আলাদা হয়। যেমন ধরুন অস্ট্রেলিয়ার এভিএস দিয়ে ভারতে সাপের কামড়ের চিকিৎসা করা যাবে না।
শুধু তাই নয় ভারতবর্ষের মতো এত বড় একটি দেশে, কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, কিংবা গোয়া থেকে সুন্দরবন, সাপের বিষ এর রাসায়নিক গঠন আলাদা।

বর্তমানে কেবলমাত্র দক্ষিণ ভারতের সাপের বিষ দিয়ে এভিএস তৈরি হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে এ ভি এস সব সময় বানাতে হবে স্থানীয় সাপের বিষ দিয়ে। নইলে তা হয় কম কাজ করবে নইলে কাজ করবে না। তাই, যেহেতু দক্ষিণ ভারতের সাপের বিষের রাসায়নিক গঠন পশ্চিমবঙ্গের সাপের বিষের রাসায়নিক গঠন থেকে আলাদা, তাই বিজ্ঞানের নিয়ম মেনে তা হয় কম কাজ করবে বা করবে না।
চিকিৎসা করতে অনেক বেশি পরিমাণে এভিএস লাগতে পারে।

আর তাই ঘটে চলেছে। চিকিৎসা করতে গিয়ে ৪০ ভায়াল অব্দি এভিএস দিতে হচ্ছে। যেখানে তা মাত্র ১০ ভায়াল এ কাজ হওয়ার কথা ছিল। কারণ ১০ ভায়াল এমনই এক মাত্রা , যেখানে তা সমস্ত ধরনের  সাপের সর্বোচ্চ মাত্রায় ঢেলে দেওয়া বিষ কে নাকচ করতে সক্ষম। কিন্তু এখন তা হচ্ছে না। এখানে আরেকটি বিষয় জানিয়ে রাখি বন্ধুদের, ভারতবর্ষের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম ২০১২ সালে সাপের কামড়ের চিকিৎসা আদর্শ চিকিৎসা বিধি তৈরি হয়। যা পরবর্তীকালে ভারতবর্ষের কেন্দ্রীয় আদর্শ চিকিৎসা বিধি হিসেবে গৃহীত হয় ২০১৭ সালে।

এই ঘটনাটাই প্রমাণ করে সারা ভারতে এই বিষয়টা কতটা অবহেলিত। যুক্তিবাদী সমিতি সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিজ্ঞান সংগঠনের সাথে ডাক্তার দয়াল বন্ধু মজুমদার মহাশয় এর মত চিকিৎসক রা এ নিয়ে হৈচৈ করে চলেছেন প্রায় তিন দশক ধরে।
পশ্চিমবঙ্গে আমরা যা দেখছি তা কিন্তু এসবের অর্জন।

অন্যান্য প্রায় সব রাজ্যে প্রায় এসবের কোনো গল্পই নেই।

এবং আরো জানলে অবাক হবেন পশ্চিমবঙ্গ-ই একমাত্র রাজ্য যেখানে সমস্ত সেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সাপের কামড়ের চিকিৎসা আছে যেখানে রাতে রোগী ভর্তি থাকেন। এবং তার প্রতিটি মানুষকে বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
অতএব দেখতে পাচ্ছি গোটা ভারত জুড়ে এই বিষয়টা নিয়ে কত অবহেলা। তার কারণ কিন্তু একটি গরীব মানুষের সমস্যা।
আমরা কখনো শুনিনি মন্ত্রী আমলা এমএলএ এমপিরা সাপের কামড়ে মারা গেছেন। তাই এই অবস্থা।

অতএব আমাদের দাবি, 
১) ভারতের প্রতিটি মানুষের সাপের কামড়ের চিকিৎসা ১০০ শতাংশ সফল করতে ভারতের উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম এই চারটি স্থান থেকে সাপের বিষ সংগ্রহ কেন্দ্র গড়তে হবে।
২) ভারতবর্ষের প্রতিটি মানুষের সাপের কামড় সহ সমস্ত চিকিৎসা বিনামূল্যে করতে হবে। আমরা সারা ভারতবাসী সরকারকে যে ট্যাক্স দিই তার থেকে সরকার সারা বছর যে খরচ করে তার মাত্র ৩% শতাংশ খরচ করলেই তা সম্ভব। আর এখন করা হয় মাত্র ১%

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only