মঙ্গলবার, ৯ জুলাই, ২০১৯

উন্নয়নের স্বার্থে দলবদল করে, নিজের উন্নয়ন করতে টাকা আত্মসাতের অভিযোগঃ বিক্ষোভ উপভোক্তাদের


দেবশ্রী মজুমদার, রামপুরহাট, ৯ জুলাই ঃ  উপভোক্তাদের টাকা আত্মসাৎ করায়  পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ এলাকার মানুষের। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের মাড়গ্রাম থানার হাঁসন -২ পঞ্চায়েতের  শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামে। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে মাড়্গ্রাম থানার পুলিশ। তারপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য বাড়ি থেকে বের হন নি বলে জানা গেছে। প্রায় ঘন্টা চারেক অবরোধ চলে। মারমুখী জনতার হাত থেকে বাঁচতে উপভোক্তাদের জবকার্ড এবং পোষ্ট অফিসের পাশ বই ফেরত দিলেন পঞ্চায়েত সদস্য। যদিও তুলে নেওয়া টাকার ভবিষ্যৎ কি হবে তা এখনও জানা যায় নি।   জানা গেছে, কয়েক বছর আগে কংগ্রেস থেকে দল পরিবর্তন করে তৃণমূলে নাম লেখান ঐ পঞ্চায়েত সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রাফে। দল পরিবর্তন করে তিনি জানান, মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে দলবদল করলেন তিনি। কিন্তু তারপর নিজের উন্নয়ন করে গেলেন। বিশাল বাড়ি বানিয়েছেন। মার্বেল টাইলস বসিয়েছেন। বাড়িতে চারচাকা গাড়ি।পয়সাও করে নিয়েছেন বলে জানায় এলাকার বাসিন্দা নাসিরুল হক। তিনি বলেন,  বছর তিনেক আগে গ্রামবাসীর জব কার্ড জমা নিয়েছেন  গ্রামের সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রাফে। মানুষকে ভুল বুঝিয়ে পোস্ট অফিস ও এস বি আইয়ের গ্রামীন পাসবুক গুলোকেও নিয়ে নিয়েছে। গ্রামের পুকুর কাটা, নালা, ড্রেন প্রভৃতি কাজের টাকা তোলার জন্য উপভোক্তাদের সই করিয়ে নিয়েছে।  প্রায় ৬০০ পরিবারের এই টাকা সে তুলে নিয়েছে।  গ্রামবাসীরা জানতে পেরে, জবকার্ড চাইতে গেলে ওই সদস্য এক সপ্তাহ পর জব কার্ড ফেরত দেওয়ার কথা বলে।  সেই কারনে গ্রামবাসীরা তাঁর বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখায়।  পুলিশ না এলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরী হত।  শ্রীকৃষ্ণপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে একশ মিটার দূরে রাস্তার উপর বাড়ি আব্দুর রাফের।  এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ সামসুজ্জোহা,  মুহাম্মদ আসগর আলি,  সামিম আলিরা জানান, বড়কার্তিক চুংড়ির পঞ্চায়েত অফিসে এব্যাপারে জানানো হয়েছে।  কোন সুরাহা না মেলায় বাধ্য হয়ে বিক্ষোভে সামিল হই।  গ্রামে রাস্তা, পানীয় জল, ড্রেন, দশ বারোটা পুকুর, তিনটে কবর স্থানের একটা প্রধান। কোন কাজ হয় নি, বলে জানান গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ। এব্যাপারে প্রধান আবেদা বিবির সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয় নি। 

     জবকার্ডে শ্রমদিবস দেখিয়ে উপভোক্তাদের পাসবুক থেকে ২৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে তুলে আত্মসাৎ করেছে সদস্য, বলে অভিযোগ। গ্রামের সুকুর আলির ৪৮ হাজার, কাজেম আলির ২৮ হাজার, লালচাঁদ বিবির ৪৬ হাজার,  এভাবে এলাকার ৬০০ পরিবারের কাছ থেকে জালিয়াতি করে টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রাফে বলেন, “একশো দিনের কাজ করতে গেলে আগে জবকার্ড জমা দিতে হয়। সেই মতো জবকার্ড নেওয়া হয়েছিল। এদিন তারা চাইতে এসেছে তাই ফেরত দেওয়া হয়েছে। টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মিথ্যা”। রামপুরহাট ২ নম্বর ব্লকের বিডিও সমর দত্ত বলেন, “পাসবুক কিংবা জবকার্ড উপভোক্তার কাছে থাকার কথা। পঞ্চায়েত সদস্য কিভাবে তা নিজের হেফাজতে রাখলেন সে বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হবে। লিখিত অভিযোগ পেলেই আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” শাসকদলের  ব্লক সভাপতি সুকুমার মুখোপাধ্যায় বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানবেন বলে জানান।  অন্যদিকে , নিম্নমানের বাড়ি নির্মাণের কাজে নিম্ন মানের অভিযোগ তুলে রামপুরহাট পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলের সাগরিকা মালের বাড়িতে যান এলাকার বাসিন্দারা।  কাউন্সিলর  তাঁদের লিখিত অভিযোগ জানাতে বলেছেন বলে জানা গেছে। তিনিও সিপিএমের টিকিটে জয়ী হয়ে তৃণমূলে যোগদান করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only