বুধবার, ৩ জুলাই, ২০১৯

১০ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার পাঁচ বিজেপি সমর্থক


দেবশ্রী মজুমদার, ইলামবাজার, ০৩ জুলাই : বালি ঘাটে ১০ লক্ষ টাকা তোলা চেয়ে গ্রেফতার ইলামবাজার থানার সন্তোষপুরের বাসিন্দা পাঁচ বিজেপি সমর্থক।বোলপুর আদালত তাদের তোলা হলে বিচারক অভিযুকদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

ইলামবাজার ব্লকের জয়দেবের খুদ্রপুরে বালি ঘাটের মালিক গৌতম দেবনাথ। অজয় নদের বালি খুদ্রপুর , সন্তোষপুর হয়ে ইলামবাজার ও বোলপুর আসে। চলতি মাসের ২ তারিখ ইলামবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই বালির ঘাটের মালিক গৌতম দেবনাথ। তাঁর বাড়ি কাঁকসা থানায়। অভিযোগ, তাঁর গাড়ি আটকিয়ে টাকা নেওয়ার পর ফের ১০ লক্ষ টাকা চেয়ে হুমকি দেওয়া হয়। তাই বাধ্য হয়ে ইলামবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। 

এব্যাপারে অবশ্য বিজেপির জেলা সভাপতি দিলিপ ঘোষ বলেনশম্ভু মণ্ডল আমাদের দলে কোন পদে নেই। তবে আমাদের দলের সমর্থক। তাঁর উপর দিয়ে বালির গাড়ি নিয়ে যাওয়াতে তাঁর জমির ক্ষতি হয়েছে। সেব্যাপারে বালির ঘাটের মালিকের সঙ্গে তাঁর অনেকদিনের দ্বন্দ্ব। এর সঙ্গে তোলাবাজির কোন সম্পর্ক নেই। এব্যাপারে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, চোরের মায়ের বড় গলা বলে একটা প্রবাদ আছে। বিজেপি চোর আর তোলাবাজির দল। তারা আবার অন্যদের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে। এব্যাপারে আইন অনুযায়ী পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। ইলামবাজার থানার ওসি আফরোজ সেখকে প্রশ্ন করা হয় জেলাশাসকের নির্দেশে ২৬ শে জুলাই থেকে সমস্ত বালিঘাটে বালি তোলা নিষিদ্ধ। তাহলে বালির গাড়ি গেল কী করেতিনি জানান, স্টক বালি গাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিল। এখন তো ঘাট বন্ধ আছে। সন্তোষপুরে বালির গাড়ি আঁটকিয়ে টাকা তোলে ধৃতরা। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, নদী থেকে আড়াই কিমি পর্যন্ত তো বালি স্টক করা যায় না। তাহলে কোথায় বালি স্টক ছিল? সেব্যাপারে অবশ্য তিনি কিছু বলতে পারেন নি। তারপর একই প্রশ্ন করা হয় বোলপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অভিষেক রায়কে।  তিনি বলেন, ঘটনাটি ২৬ তারিখের আগে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
   
বুধবার বোলপুর আদালতে তোলা হয় অভিযুক্তদের। গৌতম দেবনাথবাবুর দাবিটাকা চেয়ে বারবার হুমকি দেওয়া হয় তাঁকে। কয়েকবার টাকাও দেন গৌতমবাবু। কিন্তু তাদের চাহিদা আরো বেরে যায় ১০ লক্ষ টাকা চেয়ে বসে তারা। তিনি সেই টাকা দিতে না চাইলে আরো সুর চড়িয়ে হুমকি দিতে শুরু করে। তিনি এই ঘটনার পরিপেক্ষিতে ইলামবাজার থানায় দারস্থ হন এবং শম্ভুনাথ মন্ডল ওই এলাকার বিজেপির নেতা। পুলিশ ২ জুলাই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। সরকারী আইনজীবী ফিরোজ পাল জানানঅভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হন রঞ্জিত বৈরাগ্য, শম্ভু মণ্ডল, নিখিল বৈরাগ্য, জীবন কুমার ঘোষ, অশ্বিনী ঘোষ। এদের প্রত্যেকের বাড়ি সন্তোষপুরে। ০২ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। তারপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের গ্রেফতার করে আজ বোলপুর আদালতে তোলে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only