মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯

উইঘুরদের জোর করে ইসলাম গ্রহণ করানো হয়েছিল: চিন


দীর্ঘ দিন ধরে উইঘুর মুসলিমদের ধর্মীস্বাধীনতা হরণ করে আসছে চিন। কিন্তু নিজেদের এই কর্মকাণ্ডকে বৈধ বলে বিশ্বের কাছে ভালো সাজতে চাইছে কমিউনিস্ট এই দেশটি। সম্প্রতি চিন দাবি করেছে যে, অতীতে উইঘুরদের জোর করে ইসলাম গ্রহণ করনো হয়েছিল।
উইঘুর মুসলিমদের ওপর চিন যেভাবে বিধি-নিষেধ আরোপ করে বন্দি শিরিরে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার চালাচ্ছে চিন। পশ্চিমাদেশগুলি উইঘুরদের ওপর করা চিনা আচরণে নিন্দা ও সমালোচনা করে আসছে। তারা এই আচরণকে 'সংস্কৃতিক গণহত্যা' বলে ব্যাখ্যা করে।
চিন দাবি করেছে , ওই অঞ্চলে কেউই স্বেচ্ছা ইসলাম গ্রহণ করেনি। বরং দশম শতকে যুদ্ধে পর অঞ্চলটি মুসলিম শাসকের অধিনে  গেলে, সেই সময়ে ওই অঞ্চলের আদি বাসিন্দাদের ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।
চিনের স্বশাসিত প্রদেশ জিনজিয়াং-এ ৪৫ শতাংশ উইঘুর মুসলিম বসবাস করে। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশের এখানে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু বহু বছর ধরেই বিভিন্ন সূত্রে থেকে খবর আসতে থাকে যে, সেখান উইঘুর মুসলিমদের আটক করে বন্দিশালায় নিয়ে গিয়ে অত্যাচার চালাচ্ছে চিনা কর্তৃপক্ষ। চিনে সংখ্যাগুরু হল হান চাইনিজরা। তাদের তুলনায় উইঘুরদের সংখ্যা কম।

সম্প্রতিচ চিনের রাষ্ট্রীয় তথ্য পরিষদ ৬হাজার ৮০০ শব্দের এখটি নথি প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়েছে জিনজিয়াংয়ে সব ধর্মের মানুষই বহু বছর ধরে সহাবস্থানে বসবাস করে আসছেন। ওই প্রদেশে তাদের নাগরিকদের ধর্ম বিশ্বাস কিংবা বিশ্বাস না করাকে সম্মান জানিয়ে এসছে চিন।
সেখানে তারা আরও বলে, ১০ তম শতকে যুদ্ধের মাধ্যমে এই অঞ্চলে মুসলিমদের আগমণ ঘটে ছিল। এর ফলে অঞ্চলে বৌদ্ধদের আধিপত্য ক্ষুন্ন হয়। সেই সময় শাসকদের চাপ পড়ে সেখানকার অধিবাসীরা ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। ওই অঞ্চলের ইতিহাস বিদেশি শক্তি, ধর্মীয় উগ্রতাবাদ এবং  সন্ত্রাসী বাহিনীদের মাধ্যমে বিকৃত হয়েছে।
চিনের আরও দাবি যে, উইঘুর মুসলিমরা মূলত তুর্কিস্তান থেকে এসেছে বলে যে ধারণা করা হয়, তা সঠিক নয়। জিনজিয়াং আদিকাল থেকে চিনের অংশ ছিল। এটা তুর্কিস্তানের কোনও দিনই অংশ ছিল না। 
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর তথ্য অনুযায়ী চিনের মোট জনসংখ্যার ১৮ শতাংশ বৌদ্ধ, ৫ শতাংশ খ্রিস্টান ও ২ শতাংশ মুসলিম।
ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বলতে গিয়ে চিন জানিয়েছে, জিনজিয়াং-এ ২৪, ৮০০ টি স্থানে ধর্মীয় কার্যক্রম চলে। সেখানে শুধুমাত্র ৪০০টি বৌদ্ধ মন্দির ও গির্জা রয়েছে। বাকিগুলি অর্থাৎ ২৪,৪০০টি মসজিদ রয়েছে।
তবে ২০১৭ সালে জিনজিয়াং-এ বাসিন্দাদের বড় দাড়ি রাখা এবং নেকাব, বোরখা নিষিদ্ধ করা হয়ে। সেখানে শিশুদের ইসলামী নাম রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে উইঘুর পরিবারগুলিকে জোর করে গৃহবন্দি করে রাখতে শুরু করে চিনা প্রশাসন। এছাড়া বেশ কিছু মসজিদ গুঁড়িয়ে দেয়।
এরপর উইঘুরদের আটক করে বন্দি শিবিরে নিয়ে যেতে শুরু করে চিন। বিষয়টি জানা জানি হতেই চিনা কর্তৃপক্ষ দাবি করে এগুলি বন্দি শিবির নয় 'উন্মুক্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র'। সেখানে সন্ত্রাসবাদ রুখতে উইঘুরদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। রবিবার এই রিপোর্ট প্রকাশিত করে চিন দাবি করে, জিনজিয়াং-এ এমন ঘটনা অনেক আগেই বিশ্বে ঘটেছে। স্নায়ুযুদ্ধে পর থেকে এমন প্রবণতা বিশ্ব জুড়েই দেখা দেয়। তাই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে উৎসাহিত হয়ে এই অঞ্চলকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only