মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯

শুকাচ্ছে বীজ, বৃষ্টির জন্য হাপিত্যেশ চাষিদের


কাজল মির্জা, বর্ধমান: শ্রাবণেও জ্বলছে পুরো দক্ষিণবঙ্গ। তীব্র রোদে জ্বালা ধরছে গায়ে। দুঃসহ এই পরিস্থিতি থেকে বেরোনোর জন্য সকলেই তাকিয়ে রয়েছে আকাশেরল দিকে। হাপিত্যেশ করে বসে চাষিরাও। জলের অভাবে ধান রোয়ার কাজ শুরু করাতো দূরের কথা বহু এলাকাতে শুকিয়ে যাচ্ছে বীজ তলা। চাষিদের দাবি, বীজ বাঁচাতে চাই পর্যাপ্ত জল। কিন্তু তা মিলছে কই। আকাশে ছিটেফোঁটা মেঘের দেখা নেই। পূর্ব বর্ধমানে আউশগ্রাম ২ ব্লকের পরিস্তিত সবচেয় সংঙ্কটপূর্ণ। এখানে ইতিমধ্যে বহু জমিতেই বীজ শুকিয়ে মরতে বসেছে।
এই ব্লকের অন্যতম ফসল হল ধান। ব্লক কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়। চাষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িয়ে কয়েক লক্ষ মানুষ। মঙ্গলবার ওই ব্লকে গিয়ে দেখা গেল, বাবুইশোল, রামহরিপুর, রানিগঞ্জ, প্রেমগঞ্জ, প্রতাপপুর, এড়াল, অভিরাম, কাজীপাড়া, ভাল্কি সহ প্রায় প্রতিটি গ্রামের সেচের জলের অভাবে বীজ শুকিয়ে গিয়েছে।
কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছু এলাকায় রোয়ার কাজ শুরু হলেও বহু এলাকায় তা শুরু করতে পারেনি চাষিরা। একেবারে বৃষ্টি না হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। জলের অভাবে শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে চারা।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ব্লকের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে মূলত পানাগড় সেচ ক্যানেল ও কুনুই নদী। ক্যানেল ও নদীর জল পাম্পের সাহায্যে তুলে তা সেচের কাজে ব্যবহার করা। আর একটি হল গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ জল তুলে তা ব্যবহার করা। কিন্তু ক্যানেল ও নদী শুকিয়ে রয়েছে। তাই জল তুলে চাষের সুযোগ খুবই কম। আর ভূগর্ভস্থ জল তুলে সেচের ব্যবস্থা করে ব্যয়সাপেক্ষ। তার উপরে একেবারেই বৃষ্টি না হওয়ার ভূগর্ভস্থ জলের স্তরও অনেকটা নেমে গিয়েছে। তাই এই সময় বীজে বাঁচাতে আকাশই ভরসা। কিন্তু দেখা নেই মেঘের।
কৃষি দফতরের কর্তারা জানান,  সাধারণত, প্রতি বছর জুলাইয়ে মাসের মধ্যে এই ব্লকে বেশির ভাগ জমিই চাষ শেষ হয়ে যায়। অনেক জায়গাতে নিরেন শুরু হয়ে যায়। কিন্তু এ বছর তা হয়নি। প্রতাপপুরের চাষি উদয় কবিরাজ ও এড়ালের লালন শেখরা বলেন, "প্রতিবছর এই সময় রোয়ার কাজ শেষের দিকে চলে আসে। কিন্তু এবারে রোয়া শুরু করতে পারিনি। এমনকি বীজ বাঁচাতে পারছি না। বহু এলাকায় বীজ মরে গিয়েছে।"
একই অবস্থা পটল, উচ্ছে, করলা, ঝিঙে ও শশা চাষেও। জলের অভাবে গাছের সতেজতা কমছে। ফল ধারণের ক্ষমতাও কমছে। ভাল্কির আনাজ চাষি দশরাজ দাস বলেন, "জলস্তর নেমে যাওয়ায় শ্যালো মেশিনে জল উঠছে না। জল তুলে খেত ভেজাতে ঘণ্টা সাতেক সময় লাগছে। গরমের জন্যই সবজী ভালো হচ্ছে না।" ব্লকের সহ কৃষি অধিকারর্তা সুমনা ঘোষ বলেন, "এমনিতেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম। তার উপর ভূগর্ভস্থ জলের স্তরও অনেকটা নেমে গিয়েছে। ফলে সমস্যায় পড়েছে চাষিরা।" আউশগ্রাম ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সৈয়দ হায়দার আলি বলেন, পরিস্তিতি খুবই ভয়ঙ্কর। জেলাকে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে।"




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only