সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০১৯

আস্থাভোটে জয়ী ইয়েদুরাপ্পা, 'কর-নাটকের' পুরোটা জানতে ক্লিক করুন

যাবতীয় নাটকের অবসান। সোমবার কর্নাটকে আস্থা ভোটে জিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিল বিজেপি। ইয়েদুরাপ্পা সরকার গড়লেও বিজেপির ইশাণ কোণে কিন্তু মেঘ রয়েই গিয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য বিজেপির প্রয়োজন ছিল ১০৪টি আসন। বিজেপির হাতে রয়েছে ১০৫টি আসন। অন্যদিকে– কংগ্রেস-জেডিএস জোটের হাতে রয়েছে ১০০জন বিধায়কের সমর্থন। ফলে যে কোনও সময়ে পাশা উল্টেও যেতে পারে। সেই আশঙ্কাও রয়েছে। আর তাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার পর সাবধানী মন্তব্য করে ইয়েদি বলেছেন– তিনি ক্ষমা নীতিতে বিশ্বাসী। তার উপর ১৭জন বিধায়কের সদস্য পদ খারিজ করে দিয়ে কঠোর পদক্ষেপ করেছেন রাজ্যপাল। যার প্রশংসা করেছে কংগ্রেস-জেডিএস জোট। তারা বলছে– এবার থেকে কেউ দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতা করার আগে দু’বার ভাববে। এখন এই ১৭টি আসনে উপনির্বাচন হলে কি ফল হয় সেটাই অদূর ভবিষ্যতে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। এদিন– ইয়েদি আস্থা ভোটে জয়লাভ করার পর তাৎপর্যপূর্ণভাবে ইস্তফা দেন স্পিকারও। উল্লেখ্য– কর্নাটক বিধানসভায় টানটান নাটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন স্পিকার। তাঁর বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত প্রশংসিত হয়েছে।
১৭জন বিধায়কের সদস্য পদ স্পিকার খারিজ করে দেওয়ায় কিছুটা মাইলেজ পেয়ে যান ইয়েদুরাপ্পা। কারণ– এর ফলে বিধানসভায় আসন সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২০৭-এ। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে সেক্ষেত্রে ১০৪জন বিধায়কের সমর্থনই যথেষ্ট। বিজেপির ঝুলিতে রয়েছে ১০৫জন বিধায়কের সমর্থন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে কোনও সমস্যাতেই পড়তে হয়নি ইয়েদিকে।
গত তিন সপ্তাহ ধরে লাগাতার টানটান নাটক চলছিল কর্নাটক বিধানসভায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে– আস্থাভোটে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হয় কংগ্রেস ও জেডিএসের ১৪ মাসের জোট সরকার। সরকার গড়ার দাবিতে রাজ্যপালের কাছে আবেদন করে বিজেপি। শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বি এস ইয়েদুরাপ্পা। সোমবার সেই বৃত্ত সম্পূর্ণ হল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল– এ দিনই আস্থাভোটের পর ইস্তফা দেন স্পিকার কে আর রমেশ কুমার। রবিবার ১৪ ‘বিক্ষুব্ধ’ বিধায়কের সদস্যপদ খারিজ করে দিয়েছিলেন তিনি। তার আগেও ৩ বিধায়কের সদস্যপদ খারিজ করে দেন তিনি। এভাবে সদস্য পদ খারিজ হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ বিধায়করা স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করবেন বলে জানান। মোট ১৭ বিধায়কের সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাওয়ায় কর্নাটকে ফিরে আসা অনেকটা সহজ হয়ে দাঁড়ায় ইয়েদুরাপ্পার কাছে। ফলে রবিবারই আত্মবিশ্বাসের সুরে ইয়েদি বলেন– ‘সোমবারই আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করব।’ আস্থাভোটে জিতে বিরোধীদের প্রতি সহমর্মিতার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন– ‘আমি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। ক্ষমা করে দেওয়াই আমার নীতি।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only