বুধবার, ৩ জুলাই, ২০১৯

বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে ২০৩০ সালের মধ্যে চাকরি হারাবেন ৮কোটি মানুষ !



বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে ২০৩০ সালের মধ্যে চাকরি হারাবেন ৮ কোটি মানুষ। এমনটাই দাবি করেছে আন্তর্জাতিক লেবার অর্গানাইজেশন( আইএলও)। উষ্ণতা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র দেশগুলি।
তবে বিশ্ব উষ্ণায়ন কি ভাবে এই বিষয়ে প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে আইএলও জানিয়েছে, এই শতাব্দীর শেষে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাবে। তাতে ২.২ শতাংশ কর্ম ঘণ্টা কমবে, যা ৮ কোটি ফুলটাইম চাকরির সমান। আর এ কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে ২.৪ ট্রিলিয়ন ডলার।
আইএলও আরও জানিয়েছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে নানা রকম স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দেবে। ফলে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আইএলও কর্মকর্তা ক্যাথেরিন সাগেট বলেন, বিশ্বজুড়ে উষ্ণতা বাড়তে থাকায় শ্রমিক শ্রেণির কর্মক্ষমতায় মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।এছাড়া তাপমাত্রা বৃদ্ধি ফলে বৃষ্টিপাতের ধরণ পরিবর্তন হবে, সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে এবং জীববৈচিত্র ধ্বংস হবে।
ওয়াল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন অর্থাৎ হু জানিয়েছে, ২০৩০ থেকে ২০৫০ সালে মধ্যে অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ৩৮ হাজার মানুষ মারা যাবে। হৃদরোগ, হিট স্ট্রোক, অবসাদ, মৃত্যুর হার বৃদ্ধি এবং সার্বিকভাবে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটাবে। আইএলও বলছে, কৃষি কাজে জড়িত ৯৪ কোটি মহিলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে নির্মান শিল্প ১৯ শতাংশ কর্মঘণ্টা হারাবে। যোগাযোগ, পর্যটন, খেলাধূলা ও শিল্পখাতে মারাত্মক ক্ষতি ঘটবে। বিশেষত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম আফ্রিকায় এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে চলেছে।
সাগেট আরও বলেন, এই ফলে আর্থিক আয় বৃদ্ধি পাবে তাই আমাদের নিম্ন ও উচ্চ আয়ের দেশগুলিতে অসমতা বিরাজ করবে। কাজের পরিবেশ বিনষ্ট হবে।মানুষের অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। ২০১৫ সালে প্যরিস চুক্তিতে বিশ্বের উষ্ণতা ১.৫ সেলসিয়াস সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেলে চাষাবাদ ধ্বংস হবে, পৃথিবী হবে বসবাসের অযোগ্য এবং উপকূলীয় শহরগুলি তলিয়ে যাবে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ২০১৯ সালে প্রথম দিকে সর্বচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গত ৫ বছরের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only