মঙ্গলবার, ৯ জুলাই, ২০১৯

সেমিতে বাদ শামি, তোলপাড় ক্রিকেট মহল, অবাক সৌরভ

৪ ম্যাচে ১৪ উইকেট। যার মধ্যে একটি ম্যাচে পাঁচ উইকেট। দুটি ম্যাচে চারটি করে উইকেট। তাও ভুবনেশ্বর কুমারের বদলি প্লেয়ার হিসেবে। এটাই ছিল মুহাম্মদ শামির এবারের বিশ্বকাপের পারফরমেন্স। সেই দুর্দান্ত পারফরমেন্স সত্ত্বেও সেমিফাইনালের আঙিনায় নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের সিলেকশন তালিকায় রইলেন না মুহাম্মদ শামি। যুক্তি হিসেবে কোনটা খাড়া করা যায় সেটা কারও পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় শামির দলে না থাকা নিয়ে রীতিমতো ঝড় উঠল। এমনকি দল নির্বাচনে শামির না থাকায় অবাক হয়ে গিয়েছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। ধারাভাষ্য দিতে দিতে সৌরভ বলেন, ‘আমি তো এটা ভেবে অবাক হচ্ছি নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনটে পেসার নিয়ে ভারত খেলল না কেন? বিশেষ করে শামি যখন উইকেটের মধ্যে রয়েছে।’ সৌরভের মতোই অবাক হয়ে গিয়েছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ হর্ষ ভোগলেও। তিনি বলছেন, ‘প্রথম এগরোটা বেশ সংরক্ষণশীল। কুলদীপ ও শামির জায়গায় এলেন ভুবি ও জাদেজা। ঠিক আছে– তাতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু  যে বোলারটা তিনটে ম্যাচে ১৩টা উইকেট নিয়ে গেল তাঁকে কি এই দলে সুযোগ দেওয়া যেত না। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ দলটার নাম যখন নিউজিল্যান্ড– তখন সেখানে শামিকে তো দরকার ছিল। এটা তো কেউ বলতে পারবে না যে শামি না থাকলেও ম্যাচটা বের করে দেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে যেখানে হাইস্কোর হতে পারত– সেখানে শামিকে না খেলানোটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে।’ তিনি আরও বলছেন– ‘শামি সামনে থেকে উইকেট নেওয়া ক্রিকেটার। এটা জানি ভারতের ব্যাটিং লাইন আপ শক্তিশালী। সেটাকে দুর্বল করতে চায়নি ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু তা সত্ত্বেও শামির অন্তর্ভুক্তি দরকার ছিল।’
কোনও একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইডে পোস্ট করা হয়েছে– ‘আমার পাশে অন্তত কুড়ি জন বসে খেলা দেখছেন যাঁরা শামিকে না নেওয়ায় রীতিমতো অবাক হয়ে গিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং গভীরতা যেখানে রয়েছে।’ আরও এক ব্যাক্তি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইডে আরও একজন লিখেছেন– ‘আমরা সত্যিই অবাক হয়ে গিয়েছি– যে শামি এই ভারতীয় দলে নেই।’ কেউ আবার জিজ্ঞাসা করেছেন– ‘শামির কি চোট নাকি? যে তাঁকে প্রথম একাদশে নেওয়া হল না? যে ছেলেটা ৪টে ম্যাচে ১৪টা উইকেট পেল তাঁকে কেন দলে সুযোগ দেওয়া হল না।’
ভীষণ রেগে গিয়েছেন মুহাম্মদ শামির কোচ বদরুদ্দিন। তিনি বলছেন– ‘এমন একটা হাইপ্রোফাইল ম্যাচে শামিকে না খেলানোয় আমি রীতিমতো হতবাক হয়ে যাচ্ছি। এমন পিচে ফাস্ট বোলারদের দাপটই থাকার কথা। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের ব্য্যাটসম্যানদের আটকাতে গেলে শুরুতে দ্রুত গতির বোলিং দরকার। আর শামি প্রতিটা ম্যাচে ১৪৫ থেকে ১৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে বোলিং করে যাচ্ছে। সেখানে এমন ম্যাচে ওকে বাদ দেওয়ার যুক্তি খুঁজে পাচ্ছি না।’
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে শামিকে না নেওয়ায় রীতিমতো অবাক বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক তথা রাজ্যের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী লক্ষøীরতন শুক্লাও।
কেউ আবার টু্ইট করেন– ‘কোথায় মুহাম্মদ শামি?’ এমনকি যখন ভারতীয় টিম  নিউজিল্যান্ডের উইকেট নিতে পারছিল না তখন আরও এক ভারতীয় সমর্থক টু্ইট করেছেন– ‘এখনই মুহাম্মদ শামিকে দরকার।’ 
   

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only