শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৯

ধর্ষনের অভিযোগে মুকুল ঘনিষ্ট বিজেপি নেতা গ্রেফতার




পুবের কলম প্রতিবেদক, বসিরহাটঃ হাড়োয়ায় বিজেপি নেত্রীর মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বিজেপিরই প্রভাবশালী নেতা রাজেন্দ্র সাহাকে গ্রেফতার করলো হাড়োয়া থানার পুলিশ। নির্যাতিতার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দশ লক্ষ টাকা দিয়ে ব্যাপারটি মেটানোর চেষ্টা করে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব।
গত ছ' মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ থাকলেও বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে জেলা ও রাজ্য নেতা এবং বিজেপির মহিলা মোর্চাও নির্যাতিতা যুবতীর পাশে না দাঁড়ায়নি। বদলে মোটা টাকার অঙ্কে দিয়ে মুখবন্ধ রেখে অন্য যুবককে বিয়ে করে নেওয়া প্রস্তাব দেয়।


কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। ধর্ষণের অভিযোগে শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার হতে হল রাজেন্দ্র সাহা নামে ওই বিজেপি নেতাকে। জানা গিয়েছে, মুকুল রায়ের ঘনিষ্ট হওয়ায় ওই বিজেপি নেতা এতদিন পুলিশের নজর এড়িয়ে চলছিল। অবশেষে হুগলি জেলা থেকে হাড়োয়া থানার পুলিশ গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার রাতে। ধৃত বিজেপি নেতাকে শুক্রবার বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ বসিরহাট মহকুমা আদালতের বিচারক।

এদিকে এতদিন ধরে বিচার পাওয়ার আশায় থাকা নির্যাতিতা অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন।। বলাবাহুল্য, দিন কয়েক আগে ওই বিজেপি কর্মী এক মহিলা নেত্রীর মেয়েকে সিঁদুর পরিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। প্রভাবশালী ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ আনে নির্যাতিতার পরিবার।বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়া থানার রাখালপল্লী এলাকার ঘটনা। ওই যুবতীর মা হাড়োয়ার বিজেপির নেত্রী।  সেই সুবাদে ওই নেতা একাধিকবার বিজেপির পার্টির মিটিং করতে তাঁর বাড়িতে যেতেন। সেখানই দুজনের পরিচয় হয়।

বেশ কিছুদিন ধরে হোয়াটসঅ্যাপ ফেসবুক মেসেজ প্রেম আলাপ চলত বলে অভিযোগ। বছর বাইশের যুবতীকে গত ছ'মাস আগে বিয়ে করার নাম করে বারাসাতের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। সেখানে যুবতীর সঙ্গে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এমনকি মাথায় সিঁদুর দিয়ে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত বিজেপি নেতা রাজেন্দ্র সাহা ওরফে সোমুর বাড়ি হাড়োয়ার গোপালপুর গ্রামে। তিনি দলের একজন প্রভাবশালী নেতা। মুকুল রায়েরও ঘনিষ্ট। নির্যাতিতা যুবতী বলেছেন, দলের নেত্রী আমার মা। বিজেপি দলটা অনেকটা সত্য ন্যায়ের পথে চলতে বলেই আমরা এই পার্টিতে কর্মী হিসেবে কাজ করেছি। কিন্তু যারা রক্ষা করবে তারাই আজ আমার পাশে নেই। বারবার জেলার মহিলা মোর্চাকে জানিয়েও ফল হয়নি। এমনকী গত ছয় মাস ধরে বিভিন্ন জেলা ও রাজ্যের নেতাদের জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। বারবার হুমকি আতঙ্ক গ্রাস করেছে কিন্তু হার মানিনি‌। থানায়  অভিযোগ দায়ের করেছি।
হাড়োয়ার বিজেপি নেত্রী বাসন্তী ঘোষ বলেন, দল সবকিছু জানে।এমনকি আমি নির্যাতিতার পাশে দাঁড়িয়েছি। তাতে আমাকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য। 

তিনি আরও বলেন আমি একজন নারী,  একজন নারী ধর্ষিত হলে তার পাশে দলের মহিলা মোর্চা দাঁড়ালো না। উল্টো হুমকি দিয়ে আবার দশ লক্ষ টাকা দিয়ে মেটানোর চেষ্টা। টাকার প্রলোভন আর হুমকির ভয় আমরা পিছু হটিনি।আমরা বুঝিয়ে দিতে চাই একটা জাতীয় দল বিজেপি নোংরা আবর্জনা দিয়ে দলটা কলুষিত হচ্ছে। এর তীব্র প্রতিবাদ করছি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাচ্ছি।আমার কাছে বিভিন্ন সময় ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে ফেসবুকে মুন্ডু কেটে নেওয়ার হুমকি আসে। আমি ভয় পাইনি। নির্যাতিতার মা বলেন,  আমি একজন বিজেপি মহিলা নেত্রী। আজ আমার মেয়ে ধর্ষিত হয়েছে।আমার পাশে না দাঁড়িয়ে আমাকে বিভিন্ন সময় টাকা দিয়ে মেটানোর চেষ্টা করছে দল। এটা চরম লজ্জার। আমি এর সঠিক বিচার ও শাস্তি চাই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only