বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০১৯

পৃথিবীকে বাঁচাতে মানুষের হাতে রয়েছে মাত্র দেড় বছর


পৃথিবীকে বাঁচাতে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনতে হবে।তা না হলেও বাসের অযোগ্য হয়ে উঠবে পৃথিবী। এমনটাই বিজ্ঞানীরা ধারণা দিয়ে ছিলেন। সেইমত সময়সীমা দেওয়া হয়ে ছিল ১২ বছর। কিন্তু সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা বলছেন ১২ বছর নয়, কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য মানবজাতির হাতে রয়েছে মাত্র দেড় বছর। পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তোলার জন্য এই দেড় বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময় বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীমহল। তা না হলে সমস্ত কিছুই আয়ত্বের বাইরে চলে যাবে।

রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু বিষয়ক ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)-র বিজ্ঞানীরা গত বছর বলে ছিলেন, এই শতাব্দীতে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি হার ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে হবে। তার জন্য ২০৩০-সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনেতে হবে। বিজ্ঞানীরা বলে ছিলেন তার জন্য ২০২০ সালে আগেই সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকবে পরিস্থিতি।

সম্প্রতি কমনওয়েলথ বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স চার্লসও একই কথা বলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, এই সময়সীমার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে কি তানিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ এখন পর্যন্ত যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে নিরাপদ সীমার মধ্যে রাখতে পারবে না। চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে।

কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার জন্য বিশ্বের সব দেশ ৫ থেকে ১০ বছর মেয়াদে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০১৫ সালে প্যারিসের জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলি অঙ্গীকার করে ছিল যে, তারা ২০২০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমাতে ব্যবস্থা নেবে। এই নিয়ে তর্ক-বিতর্ক জিইয়ে থাকলেও বিষয়টি নিয়ে কোনও রুলবুক বা নির্দেশমালা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে পরিকল্পনা এখনও পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে, তাতে এ শতাব্দীর শেষে পৃথিবীর তাপমাত্রা আরও ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়িয়ে তুলবে।

জলবায়ু বিজ্ঞানী ও পটসড্যাম ক্লাইমেট ইনস্টিটিউটের হ্যান্স জোয়াকিম শেলনহুবার বলেন, জলবায়ু বিষয়ক অঙ্কটা নির্মমভাবেই স্পষ্ট হচ্ছে। বিষয়টিকে নিয়ে যেভাবে অবহেলা করা হয়েছে তার জন্য পৃথিবীর অপূরনীয় ক্ষতি হবে। আগামী কয়েক বছরে মধ্যে পৃথিবীর এই ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব নয়।
চলতি বছরে ২৩ সেপ্টেম্বর ডাকা বিশেষ জলবায়ু সম্মেলনকে উদ্দেশ্যে করে রাষ্ট্রসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুটেরেস বলে ছিলেন, কোনও দেশ যদি তাদের কার্বন নির্গমনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর প্রস্তাব করতে পারে, তবেই যেন তারা এই সম্মেলনে আসে। 

এ বছরে শেষে চিলির সান্তিয়াগোতে ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ সম্মেলন আয়োজিত হতে চলেছে, সেখানে এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালানো হবে। তবে ব্রিটেনে যে সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল গোভ বলেন, যদি এই সম্মেলন সফল হয়, তা হলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি যেন ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই আটকে রাখার জন্য সমস্ত দেশকে সেরকম পদক্ষেপ নেওয়া অঙ্গীকার নিতে হবে।ইতিমধ্যে ইউরোপ, আমেরিকায় প্রচন্ড দাবদহ দেখা গিয়েছে। সমস্ত বিশ্বেই জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব পড়তে দেখা গিয়েছে। আন্টার্কিকায় হিমবাহ গলতে থাকা। দক্ষিণ এশিয়া বন্যা প্রভৃতি এটিরই প্রমাণ।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only