শুক্রবার, ৫ জুলাই, ২০১৯

জিনজিয়াং-এ কেন হারিয়ে যাচ্ছে মুসলিম শিশুরা ?

জিনজিয়াং প্রদেশ থেকে শুধু প্রাপ্ত বয়স্ক উইঘুর মুসলিমরা নয়, এই সম্প্রদায়ের শিশুরাও এক পর এক হারিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি জিনজিয়াংয়ের একটি শহর থেকে প্রায় চার শতাধিক শিশু হারিয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। খবর নিয়ে জানা গিয়েছে, তাদের বাবা-মা আটক কেন্দ্রে নয়তো কারাগারে রয়েছে। অনেকেই এই ঘটনাকে মুসলিম নিশ্চিহ্ন করার চিনা নীতি অতিভুক্ত বলে মনে করছেন। তাদের মতে, অসহায় এই উইঘুর শিশুদের চিন কোনও আটক কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছে। অনেকেই বলছে চিনের প্রতি আনুগত্যের প্রশিক্ষন দেওয়ার জন্য শিশুদের টার্গেট করা হচ্ছে। যাতে তারা কোনও বিশেষ ধর্মীয় নীতিতে বড় না হয়।

সম্প্রতি বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, এবার উইঘুর শিশুদের বাবা-মার থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার জন্য আবাসিক বিশেষ স্কুল তৈরি করা হয়েছে। এই স্কুলে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সেখানে তাদের চিন ও কমিউনস্টি সরকারের প্রতি আনুগত হওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।  

জিনজিয়াং-এ প্রায় দেড় কোটি উইঘুর মুসলমান বাস করে। জিনজিয়াং-এর জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ উইঘুর মুসলিম। এই প্রদেশটি তিব্বতের মত স্বশাসিত একটি অঞ্চল। তবু উইঘুরদের স্বাধীনভাবে চলা ফেরার ওপর হস্তক্ষেপ করে যাচ্ছে চিন। বিষয়টি আন্তজার্তিক স্তর পর্যন্ত যাতে না যায় তাই বিদেশি মিডিয়ার ওপর এখানে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে চিনা প্রশাসন। গত ডিসেম্বরে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশন সেখান পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসাবে ব্যাখ্যা করেছে। তারা বলে আসছে, প্রশিক্ষণের নামে ডিটেশন ক্যামগুলিতে চলছে অত্যাচার। ব্রিটেন বিষয়টি নিয়ে চিনকে মনোভাব পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছে।

এবিষয়ে তুরস্ক মুখ খুলেছে। তুরস্কে আশ্রয় নেওয়া অনেক উইঘুর চিনের নিপীড়নের কথা শুনিয়েছে। ইস্তান্বুলে আশ্রয় নেওয়া এক উইঘুর মহিলা তার সন্তানদের ছবি দেখিয়ে বলেছেন, আমি জানি না তাদের কে দেখাশোনা করছে। আমার সঙ্গে তাদের কোনও যোগাযোগই নেই। আরেকজন মা তার তিন ছেলে ও এক মেয়ের ছবি হতে নিয়ে কান্নাকাটি করছেন। তিনি বলেন, আমি শুনেছি তাদের কোনও একটি এতিখানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইস্তান্বুলে থাকা ৬০ জন উইঘুর মুসলিমের পৃথক ভাবে সাক্ষাৎকার নিয়েছে বিবিসি। তাদের সবার কথাতেই শিশুদের নিখোঁজ হওয়া ঘটনা উঠে এসছে।

সম্প্রতি বছরগুলিতে জিনজিয়াং প্রদেশে ২০ লক্ষ মানুষকে বন্দি করে রাখা হয়েছে বলে আমেরিকা অভিযোগ করে। উইঘুর ছাড়াও কাজাখ, কিরগিজ মুসলিমরাও সেখানে বন্দি রয়েছে। আমেরিকা ক্যাম্পগুলিতে আটক শিবির বললেও চিন এমটা বলতে নারাজ, চিন এই দাবি করেছে, এটা স্বেচ্ছামূলক উন্মুক্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

জার্মানির এক গবেষক অ্যাডিয়ান জেনজ বলেছেন, জিনজিয়াং-এ স্কুল সম্প্রসারণের ব্যাপক কার্যক্রম চলছে। নতুন ডরমেটরি তৈরি করা হচ্ছে। এখন রাষ্ট্র অনেক শিশুর ২৪ ঘন্টা তদারকির সক্ষমতা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে তারা জিজ্ঞাসাবাদের ক্যাম্প তৈরি করছে। এসবই মুসলিমদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেছেন, এই নির্মান কাজ আসলে তাদের আটক করে রাখার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। গত বছর এপ্রিলে প্রায় দুই হাজার শিশুকে আবাসিক স্কুলে ভর্তি করানো হয়। মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু শিশুদের কিন্টারগার্টেনের ভর্তি হার ৯০ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৭ সালেই এই সংখ্যা ছিল ৫ লক্ষ। জিনজিয়াং প্রদেশে কিন্ডারগার্টেনের উন্নয়নে ১২০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে চিন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only