বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৯

নিজের ভাইকে বিয়ে করে ছিলেন ইলহান: দেশ ছাড়া করতে নয়া ফঁন্দি ট্রাম্প প্রশাসনের


ইলহান ওমর
কুরআন-এ হাত রেখে মার্কিন কংগ্রেসের নয়া আইনপ্রণেতা হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে ছিলেন ইলহান ওমর। সেদিন হিজাব পরিহিতা ইলহানই ছিল আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু। কিন্তু, আজ তাঁকে কালীমা লিপ্ত করে দেশ থেকে বিতারিত করার জন্য বিভিন্ন ধরণের ফঁন্দি এঁটে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর অনুগামীরা।

সম্প্রতি কট্টরপন্থী সংস্থা জুডিশিয়াল ওয়াচ  ইলহান ওমারের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন তারা।অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ইলান না কী তাঁর নিজের ছোট ভাই আহমেদ নূর সাঈদ ইলমিকে ভুয়ো ভাবে বিয়ে করে মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দিয়ে ছিলেন।এই জন্য নর্থ ডাকোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার জন্য মার্কিন সরকারের কাছ থেকে অতি সহজে ঋন পেয়ে গিয়ে ছিলেন ইলমি।
আহমেদ নূর সাঈদ ইলমি

উল্লেখ্য, আমেরিকার এই সংগঠন মার্কিন সরকারী কর্মী ও সংস্থার মধ্যে হওয়া জালিয়াতির তদন্ত নিয়ে কাজ করে। এই সংগঠনের বর্তমান,সভাপতি টম ফিটন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পে খুবই ঘনিষ্ঠ। ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার যোগ নিয়ে মুলার কমিশনের তদন্তের সমালোচনাও করেন। তিনি দাবি করে ছিলেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটনার জন্য এই ধরণের তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে, ইলহান ও তাঁর আরও তিন সহকর্মী, অ্যালেক্সজান্ডারিয়া ওকাসিও-কোর্টেজ, রাশিদা তালিব এবং আয়ান্না প্রেসলিকে শরণার্থী অ্যাখ্যা দিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এমন বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জন্য সব জায়গায় সমালোচিত হয়েছেন ট্রাম্প। জানা গিয়েছে, এই চারজন সংখ্যালঘু আইনপ্রণেতার মধ্যে ইলহানই অভিবাসী হয়ে আমেরিকায় এসছিলেন। দীর্ঘ দিন আমেরিকায় বসবাস করার পর তিনি দেশটি নাগরিকত্ব পান। আদতে তাঁর জন্ম সোমালিতে। অনেক ছোট বয়সে সেখান থেকে আমেরিকায় শরনার্থী হিসাবে আসেন ইলহান। এরপর দীর্ঘ দিন সেখানে থাকার পর মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পান।

তবে জুডিশিয়ান ওয়াচ সংস্থা জানাচ্ছে, অভিবাসন আইনের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য সম্পর্ক গোপন করে মিনেটোসার এই কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর, তাঁর নিজের ভাই ইলমিকে বিয়ে করেন। ২০০৯ সালে তাঁদের এই ভুয়ো বিয়ে হয়। সেই সময় ইলহান বিবাহিত ছিলেন। অতিসহজে ভাইকে মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার জন্যই এই ছক কোষে ছিলেন।

টম ফ্লিটন
তাদের আরও অভিযোগ, নর্থ ডাকটো বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই সময় পড়াশোনার জন্য ঋনের আবেদন করে ছিলেন ইলমি। কিন্তু সেটি শুধু আমেরিকার শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকায় তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে যায়। মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে ছিলেন ইলমি।পরবর্তীতে ইলহানকে বিয়ে করেই তিনি নাগরিকত্ব পেয়ে যান। ফলে, মার্কিন শিক্ষার্থী ঋণও পাওয়া ইলমির জন্য সহজ হয়ে গিয়ে ছিল। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, যে ২০১৭ সালে ইলহান ও ইলমির বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

যদিও ইলহান দাবি করেছেন, যে তাঁর ভাইয়ে ইলমির সঙ্গে ২০১১ পর থেকে দেখা হয়নি। কিন্তু, অভিযোগকারী সংস্থা দাবি করেছে যে, ২০১৫ সালে তাদের মধ্যে সাক্ষাৎ হয়ে ছিল। এই সাক্ষাৎতের প্রমাণ হিসাবে সোস্যাল মিডিয়া ইস্টাগ্রামের একটি ছবিও তারা প্রমাণ হিসাবে প্রকাশ করেছে। জানা গিয়েছে, এই ছবিটি লন্ডনে তোলা হয়েছে। সম্প্রতি ইলমি লন্ডনে থাকেন।
ইলহানের যুক্তি ভাঙতে অভিযোগকারীদের দাবি, ডাকোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শেষে করে ইলমি ব্রিটেনে পাকাপাকি ভাবে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিলেন। তাই তারা বিবাহবিচ্ছেদ করেন। 

ইলহানের ওপর এমন গরহিত, লজ্জাজনক অভিযোগ এনে তদন্তের দাবি তুলেছে জুডিশিয়াল ওয়াচ। সংস্থার সভাপতি টম ফিটন মার্কিন কংগ্রেসের ন্যায়াধক্ষ্য ডেভিড স্কেগাসকে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করার জন্য চিঠি দিয়েছেন। এবিষয় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন,  আমি জানি ওমার তার ভাইকে বিয়ে করে ছিলেন।এর থেকে বেশি কিছু  আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চয় কেউ খতিয়ে দেখবে। 

এরআগে বহুবার ইলহান ওমারকে ট্রাম্প বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতে ছাড়েননি। বিশেষত, আমেরিকায় বসবাসকারী মুসমিলদের জোরাল আওয়াজ হয়ে উঠেছেন ইলহান। তাই তাঁকে কালীমালিপ্ত করার জন্য না এই ধরণে অভিযোগ আনছেন ট্রাম্প ও তার অনুগামীরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only