সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৯

সমবায় ব্যাঙ্কের গাফিলতিতে কৃষকদের ধান বিক্রির চেক পেতে সময় লাগলো প্রায় আড়াই বছর


ইনামুল হক, বসিরহাটঃ প্রায় আড়াই বছর পর ধান বিক্রির চেক পেল  উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া ব্লকের দক্ষিণ চাতরা ঘোষপুর কৃষি সমবায় ব্যাঙ্কের মাধ্যমে সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রেতারা। এলাকার গরীব কৃষকেরা গত ৮ মার্চ ২০১৭ তারিখে ধান বিক্রি করেছিলেন ওই কৃষি সমবায় ব্যাঙ্ককে।  কিন্তু ধান বিক্রির তাৎক্ষনিক  চেক তাদের নামে পাওয়ার কথা থাকলেও তখন তারা পাননি৷ কৃষকেরা এর পর দক্ষিণ চাতরা ঘোষপুর কৃষি ব্যাঙ্কে একাধিক বার এসে তাদের প্রাপ্য চেক দিতে অনুরোধ করে। কিন্তু ফল হয়নি। এর পর উক্ত কৃষি ব্যাঙ্কের অন্যতম ডিরেক্টর মফিজুর রহমান মিন্টুর কাছে  সমস্যা সমাধান করার অনুরোধ জানান। তিনি কৃষি সমবায়  ব্যঙ্কের ম্যানেজার সহ বাদুড়িয়া ব্লকের কো অপরেটিভ ইনসপেক্টর এবং পরে বারাসাতের ডি. আর. সি. এস অফিসে যোগাযোগ করেও কাজ হয় নি।  কৃষকদের চেক পেতে কেন সমস্যা হচ্ছে  এবং কবে  তারা পাবে তার কোন সদুত্তর মেলেনা ৷ এরপর কৃষকদের পক্ষে মফিজুর রহমান মিন্টু  জেলা ক্রেতা সুরক্ষা অফিসের ডিরেক্টর সাহেবের সঙ্গে সমস্যা সমাধান করার ব্যপারে আলোচনা করলে তিনি বলেন,  এই দপ্তর শুধুমাত্র ক্রেতাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করে , বিক্রেতাদের নয় ৷ এর পর ডি.এম অফিস এবং খাদ্য সরবরাহ দপ্তরের ডিস্ট্রিক্ট কনট্রোলার অফিসকে অনুরোধ করায় তারা বলেন,  সরকার গরীব কৃষকদের সহায়তা করার জন্যে এই প্রকল্প চালু করেছে ৷ কেন দেরি হল তদন্ত করে দেখে তারা দ্রুত ব্যবস্হা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপরই নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। এরপর গত ১৮ জুলাই ২০১৯ তারিখে ধান বিক্রেতারা কৃষকদের  হাতে চেক পৌঁছয়।  চেক পেয়ে খুশি কুলিয়া গ্রামের শামিম আহমেদ ও আনসার আলি, দক্ষিণ চাতরার দীনমহম্মদ মন্ডল, হুগলীর মামুদ বক্স , সোমপুরের আলাউদ্দিন মণ্ডল ও রামচন্দ্র পুরের আব্দুল গফ্ফর মণ্ডলরা।  কিন্তু এই লড়াইয়ে   কৃষকদের নৈতিকতার জয়   হলেও পরবর্তীতে যাতে কোন  কৃষক এই হয়রানির মধ্যে না পড়ে সে ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তারা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only