বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯

স্ত্রী ও ছেলেকে ফিরে পেতে অস্ট্রেলীয় সরকারের দারস্থ উইঘুর যুবক


  নাদিলা উমাইয়ের ও দুবছরের সন্তান লুতফি

বহু দিন ধরে অস্ট্রেলিয়া রয়েছেন সাদাম আবদুসালামু।ভেবে ছিলেন চিন থেকে অস্ট্রেলিয়ায় এসে, সেখানের নাগরিকত্ব নিয়ে স্ত্রী, সন্তানের সঙ্গে সুখে সংসার করবেন।গড়বেন নতুন জীবন। কিন্তু চিনা নির্যাতনের কালো ছায়া যেন সাদামের পিছু ছাড়ছে না। কারণ তিনি উইঘুর মুসলিম।

চিনাদের নজর থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারলেও স্ত্রী ও সন্তান তাদের নজরবন্দি হিসাবেই থেকে গিয়েছে। তাই, স্ত্রী নাদিলা উমাইয়ের ও দুবছরের সন্তান লুতফিকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনতে এবার অস্ট্রেলিয়া সরকারের দারস্থ হয়েছে।

প্রথমে সাদাম নিজের আসল পরিচয় গোপন করেই নাদিলা ও লুতফিকে নিজের কাছে আনার জন্য ক্যাম্পেইন করছিলেন। তাঁর, আশংকা ছিল আসল পরিচয় জানলেই দু'বছরের শিশুপুত্র চিন সরকার হয়ত অন্যকোনও অভিভাবকদের হাতে তুলে দেবেন। এভাবে তাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাবে লুতফি। ২০১৭ সালে অগাস্টে জিংজিয়াং-এ লুতফির জন্ম হয়। ছেলের
জন্মের আগেই সাদাম অস্ট্রেলীয়ায় চলে এসছিলেন।

আসলে ২০১৬ সালে ছোটবেলার বন্ধু নাদিলার সঙ্গে বিয়ের করার পর অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছে শরণার্থী হিসাবে আশ্রয় প্রার্থণা করেন সাদাম।পরবর্তীতে দেশটির সরকার তাঁর একার আবেদন মঞ্জুর করলে তিনি অস্ট্রেলিয়া পাড়ি দেন। পিছনে ফেলে আসেন গর্ভবতী স্ত্রী নাদিলাকে। এরপর লুতফির জন্ম হয়। স্বচোখে ছেলেকে দেখেননি সাদাম।
সাদাম আবদুসালামু


অস্ট্রেলীয় হিসাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর স্ত্রী ও সন্তানের আশ্রয় প্রার্থনা করলে সাদামের এই আবেদনও মঞ্জুর করে দেশটির সরকার। কিন্তু, সমস্ত কিছুতে বাধ সেধেছে চিন। জিংজিয়াং থেকে উইঘুরদের অন্যত্র যাওয়ার অনুমতি দেয় না দেশটি। ফলে, স্ত্রী নাদিলা ও ছোট্ট লুতফিকে কাছে পেতে এবার অস্ট্রেলীয় সরকারের দারস্থ হয়েছেন সাদাম।

ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে এগিয়েছে অস্ট্রেলীয় সরকারও। সম্প্রতি উইঘুরদের ওপর হওয়া নির্যাতনের নিন্দা জানিয়ে ২২টি দেশ একটি গণচিঠি স্বাক্ষর করেছে। এই দেশেগুলির মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও ব্রিটেন, কানাডা, জাপান মত দেশও রয়েছে।

এই নিন্দা চিঠি স্বাক্ষরের পরে সাদামের স্ত্রী ও দু'বছরের সন্তানকে ফেরানোর জন্য অস্ট্রেলীয় বিদেশমন্ত্রক ব্যবস্থা নেয়। চিনকে দু'জনের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া আর্জি জানায়। অস্ট্রেলীয়ার বিদেশমন্ত্রী মেরিস পেইন  জানিয়েছেন, নাদিলা ও দু'বছরের শিশুপুত্র লুতফির অস্ট্রেলিয়ায় আসার ব্যাপারে আমাদের কূটনীতিকরা চিনের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কোনও জবাব দেয়নি চিন।

তিনি আরও বলেন, সাদামের মত এখানে অনেক মানুষ আছেন, যাদের জীবনে উইঘুর এবং মুসলিম বিরুদ্ধে নেওয়া চিনা নীতি প্রভাব ফেলেছে। তাদের পরিবারের সদস্যরা চিনা বন্দি শিবিরে আটক রয়েছেন। চরম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।তাদের কাছে আসতে দিচ্ছে না চিন। কিন্তু চিনের এমন কঠোর নীতি কখনই মেনে নেওয়া হবে না। সাদামের মত মানুষদের পাশে অস্ট্রেলিয়া সরকার সর্বদাই থাকবে এবং সাহায্য করবে।

উল্লেখ্য, বহু বছর ধরে জিংজিয়াং-এ উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে চিন সরকার। প্রথমে তাদের ধর্মী স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার পর, এবার তাদের আটক করে বন্দি শিবিরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে নানা ধরণের জুলুমের শিকার হচ্ছেন উইঘুর মুসলিমরা। তবে জুলুমের কথা মানতে নারাজ চিন। দেশটির সরকারের দাবি, তারা কতগুলি প্রশিক্ষণশালা তৈরি করেছে। সেখানে মানুষকে দেশের প্রতি অনুগত হওয়া প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only