মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০১৯

উন্নাওয়ের নিগৃহীতার রহস্যময় গাড়ি দুর্ঘটনার নেপথ্যে

হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন গাড়ি দুর্ঘটনায় জখম উন্নাওয়ের সেই ধর্ষিতা। রবিবার ‘রহস্যময়’ গাড়ি দুর্ঘটনার পর থেকে ফের আতস কাঁচের তলায় রাজ্যের শাসকদল ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা।যা নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছে বিরোধীদের হাতে।
খুব বেশি দিনের কথা নয়। রবিবারই উত্তরপ্রদেশে দাঁড়িয়ে যোগী আদিত্যনাথের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন অমিত শাহ। তিনি দাবি করেন– এত  দিনে রাজ্যে প্রশাসন রাজনীতিমুক্ত!  তাজ্জবের বিষয় হল– ওই দিনই উন্নাওয়ের ধর্ষিতার গাড়ি পিয়ে দেয় একটি ট্রাক। বিধানসভা ভোট আসতে এখন ৩ বছর বাকি। অথচ উন্নাও মামলাকে কেন্দ্র করে পরপর হিংসা বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিল– তা বলা বাহুল্য। শনিবার আমেঠিতে দুষ্কূতীদের হাতে প্রাক্তন সেনা অফিসার আমানুল্লার মৃত্যু আর পরের দিন উন্নাও-ধর্ষিতার ওপরে আক্রমণ– রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলে দিল।
বিরোধীরা বলছেন– কোনও রাজ্য সরকারই দাবি করতে পারে না যে তার রাজ্য ১০০ শতাংশ অপরাধমুক্ত। কিন্তু যারা আইনশৃঙ্খলা ভাঙবে– তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা তো পুলিশের কাজ। ২০১৭ সাল থেকে বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেনগার লাগাতার ধর্ষণ করছিলেন ওই তরুণীকে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ২০১৮-তে। রবিবার উত্তরপ্রদেশের উন্নাও থেকে রায়বেরলি যাওয়ার পথে একটি ট্রাক ধাক্কা মারে ধর্ষিতার গাড়িতে। প্রথমে পুলিশ জানায়– ধর্ষিতার মা ও তাঁদের আইনজীবী মহেন্দ্র সিং মারা গিয়েছেন। পরে জানা যায়– ধর্ষিতার মা গাড়িতে ছিলেন না। মারা গিয়েছেন ধর্ষিতার কাকিমা ও তার বোন। ধর্ষিতা নিজে ও তাঁর আইনজীবী গুরুতর জখম।
পুলিশের ব্যাখা– প্রচণ্ড বৃষ্টি পড়ছিল। রাস্তা পিছল থাকায় হয়তো এই দুর্ঘটনা ঘটেছে । যদিও পুলিশের ব্যাখায় সন্তুষ্ট নয় কেউই। চাপে পড়ে ঘটনার সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করেন যোগী আদিত্যনাথ। রহস্যময় দুর্ঘটনাকে ঘিরে যে প্রশ্নগুলো উঠে আসছে– তা হল-
ট্রাকটির নম্বরপ্লেট গ্রিজ দিয়ে কেন কালো করে রাখা হয়?
ধর্ষণের মামলায় তদন্তের ভার  আগেই তো সিবিআই-কে দেওয়া হয়। সিবিআই তদন্ত কতদূর এগোল?
অভিযুক্ত বিধায়ক এখনও কেন পদে?
দল তাঁকে বহিষ্কার করেনি কেন?
জেলের মধ্যে কীভাবে নিগৃহীতার বাবার মৃতু্য হল?
ধর্ষিতার সঙ্গে কেন পুলিশ প্রহরা ছিল না দুর্ঘটনার দিন?
ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পরও পুলিশ এফআইআরে কুলদীপের নাম রাখতে চায়নি বলেও অভিযোগ। কিন্তু কেন? শাসকদলের লোক বলে?
নির্যাতিতার মায়ের দাবি– ‘বিধায়ক আমার মেয়ে সহ গোটা পরিবারকে শেষ করে দিতে চান।’ জেলে থাকা সত্ত্বেও বিধায়ক তাদের পরিবারকে খুনের হুমকি দিচ্ছেন বলে আগেই অভিযোগ করেছিলেন নিগৃহীতার পরিবার। নির্যাতিতার মায়ের আরও দাবি– বিধায়ক জেলে থাকলেও মোবাইল ফোন আছে। ওখান থেকে ফোন করে দলীয় নেতাদের এই সংক্রান্ত নির্দেশ দিচ্ছেন। কাজেই এইসব প্রশ্নের পর ফের একবার প্রশ্ন চিহ্ন দেখা গেল রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান ও পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে।
অনেকে বলেন– গঙ্গায় ডুব দিলে সাত খুন মাফ! কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে– বিজেপি করলেই  সাত খুন মাফ! আপনি পবিত্র। এমনও অভিযোগ করছে বিরোধীরা। অনেকে আবার বলছেন– বিজেপির জোর দিয়েছে বেটি বাঁচাও– বেটি পড়াও-এর ওপর। যে দল নারীকে এতো সম্মান দেয়– সেই দলের বিধায়ক কীভাবে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত হতে পারেন? কেনই বা দল তাঁর বিরুদ্ধে উপযূুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তবে এই সুযোগ হাতছাড়া না করে– ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে বিরোধীরা। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only