শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯

নেতাই-এর অভিশপ্ত বাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হল অভিযুক্তের পরিবারের হাতে


নিজস্ব প্রতিনিধি ঝাড়গ্রাম: আদালতের নির্দেশে নেতাই হত্যাকান্ডের সেই অভিশপ্ত বাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হল অভিযুক্ত রথীন দন্ডপাটের পরিবারের হাতে। ক্ষোভ শহীদ পরিবারগুলির মধ্যে।আদালতের নির্দেশ গ্রামে ফিরলেন নেতাই গনহত্যার অন্যতম অভিযুক্ত রথীন দন্ডপাট। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নিজের গ্রামের বাড়িতে ফিরলেন রথীন।
শুক্রবার নেতাইয়ে ওই অভিশপ্ত বাড়ির সিল করা দরজা চবি দিয়ে খোলা যাচ্ছিল না। ফলে তালা ভাঙার পর বাড়িতে প্রবেশ করেন রথীন। এদিন বাড়ি ফিরে পাওয়ার পর তিনি জানান গ্রামে ফিরতে কার না ভালো লাগে। বাড়ি ফিরে পেয়েছি। এখনই তো থাকা যাবে না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পর থাকা যাবে।
এদিন নেতাই গ্রামে সকাল থেকেই খবর ছিল আদালতের নির্দেশেই, ফের বাড়ি ফিরছেন এই গনহত্যার ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত রথীন দন্ডপাট । পরিবারের স্ত্রী,ছেলে মেয়েরাও আসবে। তাই সকাল থেকে নেতাই গ্রামের প্রবেশ মুখে, শহিদ বেদি চক এলাকায় ছোট ছোট জটলা দেখা গিয়েছিল। গ্রামের দোকানেও উৎসাহিদের ভিড় ছিল। তবে এত কিছুর মধ্যেও শহিদ পরিবার বা আহত পরিবারের লোকজনের দেখা যায় নি। এদিন বেলা একটা পনেরো নাগাদ পুলিশের কনভয় এসে পৌছায়।
তবে বেলা ১.৪০ মিনিট নাগাদ কড়া নিরাপত্তায় রথীনকে নিয়ে আসা হয়। ঘন নীল জিন্স আর চেক হাফ হাতা জামা পরিহিত রথীন নিজের বাড়ির সামনে পৌছাতেই অনেকেই এগিয়ে এসে তার সাথে কথা বলেন। রথীন জেনে নেন চাষ বাস কেমন হচ্ছে, সবাই কেমন আছে।বেশ অনেকক্ষণ তিনি নিজের প্রায় ভাঙাচোরা দোতলা বাড়ির দিকে তাকিয়ে থাকেন।

এরপর মেজিস্ট্রেটের এবং বিভিন্ন পুলিশ কর্তাদের উপস্থিতিতে পুরোন ওই বাড়ির দরজা চাবি দিয়ে খোলার চেষ্টা চলে। এই ভাবে তালা না খোলায় ছেনি হাতুড়ি দিয়ে তা ভাঙা হয়। এরপর বাড়িতে ঢুকিয়ে রথীনকে তালিকা ধরে ঘরের জিনিস বুঝিয়ে দেন পুলিশেরা। এদিন উপস্থিত ছিলেন মেজিস্ট্রেট,লালগড়ের বিডিও ফাইজান আসরফ আনসারি, সিবিআইয়ের পক্ষে এক অফিসার সহ দুজন,ঝাড়গ্রামের এসডিপিও অনিন্দ সুন্দর ভট্টাচার্য,লালগড় থানার আইসি অরিন্দম ভট্টাচর্য ,নেতাই ঘটনার সময় তৎকালিন আইসি চন্দ্রশেখর দাস সহ প্রমুখ।
উল্লেখ্য ২০১১ সালের সাত জানুয়ারি লালগড় থানার নেতাই গ্রামের এই রথীন দন্ডপাটের বাড়ির ছাদ থেকে হার্মাদরাগুলি চালিয়েছিল।সেই ঘটনায় চার মহিলা সহ নয়জন নিহত হন। আহত হয়েছিলেন আঠাশ জন।এই ঘটনা রাজনৈতিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। তবে এদিন রথীন এবং তার স্ত্রী ঝুমা,ছেলে সৌম,মেয়ে স্নেহা গ্রামে ফিরলে, তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন গ্রামের অনেকেই।
মধু বেরা,বিজলী সিং,পুস্প সিং মত আরও অনেক প্রতিবেশীরা বলেন আগের ঘটনা এখন আর কেউ মনে করতে চায় না। নিজের ঘরে ওরা থাকবে।কারো কোন অসুবিধা নেই। গ্রামের কারো আপত্তিও নেই।
 এদিন বিজলী সিং,পু্স্প সিং বলেন রথীন বাবু আমাদের সঙ্গে কথা বলেন।অনেক দিন পরে দেখা হল।ভালো লাগল।
কাকা বিবেকানন্দ দন্ডপাট বলেন রথীন আমার ভাইপো হয়। এতদিন পর গ্রামে ফিরল।তাই আবেগ চেপে রাখতে পারিনি।তবে এদিন শহীদ পরিবারের সদস্যরা রথীনবাবুর পরিবারের গ্রামে ফেরা মেনে নিতে পারেনা। নিহত সৌরভ ঘড়াই-এর মা ভক্তি ঘড়াই,নিহত সরস্বতী ঘোড়াই এর ছোট ছেলে তুষার ঘড়াই বলেন আমরা এদের গ্রামে ফেরার ঘটনা মেনে নিতে পারছি না। আমাদের ঘর খালি করে চলে যারা তারা তো আর ফিরবে না। কি করে মানব।আবার যে নেতাই-এর মতো ঘটনা হবে না তা কে বলতে পারে।
অন্যদিকে রথীনবাবুর স্ত্রী ঝুমা কান্নাভেজা কন্ঠে বলেন, আমরা যে কষ্টে ছিলাম তা আমরাই জানি।খুবই যন্ত্রনা নিয়ে ভাড়া বাড়িতে ছিলাম।অন্যদিকে নেতাই ঘটনার অন্যতম সাক্ষী,নেতাই শহীদ স্মৃতি রক্ষা কমিটির সভাপতি দ্বারিকানাথ পন্ডা বলেন মানবিকতার খাতিরে ওদের গ্রামে থাকতে দেওয়া উচিত। অনেক কষ্ট করে ছেলে,মেয়েদের নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থেকেছেন। আমরা আনন্দিত ওনারা নিজেদের বাড়িতে থাকতে পারবেন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে রথীনবাবু আদালতে তার বাড়ি ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি মেদিনীপুর সংশাধনাগারে বন্দী রয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only