মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০১৯

মুসলিমদের ঘরে গরু থাকাও ‘লাভ জিহাদ’!

কেন্দ্রে মোদি সরকার প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ‘লাভ জিহাদ’, ‘লাভ ত্রিশূল’ প্রভৃতি শব্দবন্ধ সামনে আসতে শুরু করে। এতদিন, কোনও হিন্দু মেয়ের মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করাকে ‘লাভ জিহাদ’ বলে আখ্যা দিত উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। আর এবার এই ‘লাভ জিহাদ’-এ ঢুকে পড়ল গরুও। উত্তরপ্রদেশের এক শীর্ষ বিজেপি নেতা দাবি করেছেন, গরু হিন্দুদেরই। তাই মুসলিমদের বাড়ি গরু থাকাও এক ধরনের ‘লাভ জিহাদ’।
গো-বলয়ের রাজনীতিতে গো-মাতা নিয়ে তুমুল চর্চা। মানুষের থেকেও কখনও কখনও গরুর প্রাণ দামী হয়ে উঠেছে। উত্তরপ্রদেশের বড়বাঁকির শীর্ষ বিজেপি নেতা রঞ্জিত শ্রীবাস্তব এবার সরাসরি গরুর ‘ধর্ম’ নির্ধারণ করলেন। শুধু তাই নয়– মরে যাওয়ার পর গরুর মৃতদেহ বা দেহাবশেষের মাটি চাপা দেওয়াতেও আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। তিনি মনে করেন, মাটি চাপা দেওয়া তো আসলে ইসলাম ধর্মে কবর দেওয়ার মতো। এটা চলতে পারে না। গরুর মৃতদেহকে হিন্দুমতে দাহ করাই উচিত। স্বাভাবিকভাবেই এই বিজেপি নেতার মন্তব্যে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। রঞ্জিতের কথায়, ‘মুসলিমদের বাড়িতে যেসব গরু রয়েছে তা ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। আমাদের বাড়ির মেয়েদের মুসলিমদের ঘরে যাওয়াকে যদি ‘লাভ জিহাদ’ বলা হয় তাহলে ওদের (মুসলিম) ঘরে আমাদের গো-মাতার যাওয়াকেও কি ‘লাভ জিহাদ’ বলে বিবেচনা করা উচিত নয়? ওদের (মুসলিম) বাড়ি থেকে গরুগুলিকে ফিরিয়ে আনতেই হবে। বড়বাঁকি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান রঞ্জিত আরও বলেন, গরু কখনও মুসলিম হতে পারে না। গরু হিন্দুই। তাই গরুর অন্ত্যেষ্টি হিন্দু ধর্মমতেই হওয়া উচিত। কিন্তু, গরুর অন্ত্যেষ্টি মুসলিমদের প্রথা মেনে হয়। কবর দেওয়া হয়। এই নিয়ে আমার প্রবল আপত্তি রয়েছে। আমাদের বৈদিক রীতি মেনে গরুর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুধুমাত্র দাহ করেই হওয়া উচিত। রঞ্জিত যেভাবে গরুর ধর্ম চিহ্নিত করেছেন এবং তাকে শুধুমাত্র হিন্দুদের ‘সম্পত্তি’ বলে বিবেচনা করেছেন এবং তাকে দাহ করার নিদান দিয়েছেন তা নিয়ে একাধিক সমাজকর্মী ও নাগরিক সংগঠন ক্ষোভপ্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য, বিজেপি নেতার এই ধরনের মন্তব্য উস্কানিমূলক। এই ধরনের মন্তব্য সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে।        

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only