সোমবার, ১ জুলাই, ২০১৯

সামাজিক ক্রিয়াকর্মের আড়ালে বোমা মজুত নিয়ে ধোঁয়াশা মল্লারপুর বিস্ফোরণ কান্ডে

দেবশ্রী মজুমদার, মল্লারপুর, ০১ জুলাইঃ  সামাজিক কর্মের আড়ালে কি চলত অপরাধ জগতের আনাগোনা? সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে মল্লারপুরে মেঘদূত ক্লাবে বিস্ফোরণ কাণ্ডকে ঘিরে। বিস্ফোরণের পর অনুব্রত মণ্ডলের নির্দেশে নড়ে চড়ে বসল জেলা প্রশাসন।  মল্লারপুর থানার ওসি টুবাই ভৌমিককে সরানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় নতুন দায়িত্বে এসেছেন বৃকোদর সান্যাল। গতকালই জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিং জানান, গোটা বিষয়টি ফরেনসিক দলের তদন্তের অধীন, বলে জানান। সেই মোতাবেক সোমবার কোলকাতা থেকে ফরেন্সিক দলের একটি টিম মল্লারপুরে আসে। জেলা পুলিশ প্রশাসনের সামনেই তদন্তকারী দল ক্লাবের অফিস ঘরে ধ্বসে পড়া অংশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। এব্যাপারে বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিং বলেন, গোটা বিষয়টি এখন তদন্ত চলছে। ফরেনসিক দল নমুনা সংগ্রহ করছে। এই মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়।
জানা গেছে, দিনে সমাজসেবা হলেও, রাতে জুয়ো খেলা হত বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। পাশাপাশি জানা গেছে, ক্লাবটিতে সব দলের লোক থাকলেও, এক এক সময় এক একটি রাজনৈতিক দল প্রভাব বিস্তার করেছে ক্লাবটির উপর। বর্তমানে এলাকার বিজেপির পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য শিবদাস লেট এবং স্থানীয় বিজেপি নেতা বাবলু সাউইয়ের ওই ক্লাবে যাতায়াত ছিল, বলে জানা গেছে।  অভিযোগ, রাতে এই ক্লাবে তাসের আসর বসত। জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের অভিযোগ, ক্লাবটি স্টেশন লাগোয়া হওয়ায় ঝাড়খন্ড থেকে বোমার মশলা এনে এই ক্লাবটিতে মজুত করা হয়। 
উল্লেখ্য, শনিবার রাত দেড়টা নাগাদ ক্লাবের অফিস ঘরে বিকট  বোমা ফাটার আওয়াজ শোনা যায়। তার তীব্রতা এত বেশী ছিল যে তিনতলা এই ক্লাবের একটা দেওয়াল প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বসে পড়ে। ফাটল দেখা যায় অন্য দেওয়ালেও। ক্লাব সংলগ্ন এলাকার প্রতিবেশী মনোজ মণ্ডল বলেন, এক বিকট শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। বেরিয়ে দেখি, ক্লাবের ভেতরে দাও দাও করে আগুন জ্বলছে। তিন তলা ক্লাবটিররর চারদিকে ফাটল। যদি ক্লাবটি ভেঙ্গে পড়ত তাহলে আমরা আট সদস্য চাপা পড়ে মারা যেতাম। মসজিদ পাড়ায় এই ক্লাবটি ৫০ বছরের পুরানো। জানা গেছে, ক্লাবের সরকারি হিসাবে তিনশ জন সদস্য ।কিন্তু তাদের সমর্থক সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি। ক্লাবের সম্পাদক গৌতম রায় জানান, সারা বছর বিভিন্ন সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে এই ক্লাব। কিন্তু এই ঘটনায় সবাই অবাক। মনে হচ্ছে পরিকল্পিতভাবেই এই ঘটানো হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করলেই ধরা পড়বে। আরেক ক্লাবের সমর্থক জয়ন্ত প্রামাণিক বলেন, শনিবার রাত ১১ টা ১০ পর্যন্ত ক্লাবটি খোলা ছিল। কারণ ক্লাবের এক সদস্যের বিয়ের বৌভাত উপলক্ষে ক্লাবে অনেকে হাজির হয়েছিলেন। বাড়ি ফিরে রাতে এই ঘটনা জানতে পারেন তিনি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only