শনিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৯

হাসপাতাল থেকে উধাও রোগী! উদ্ধার ঝুলন্ত মৃতদেহ

দেবশ্রী মজুমদার, রামপুরহাট, ২৭ জুলাইঃ  রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে থেকে রোগী পলাতক। একদিন পর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হল হাসপাতাল থেকে কিছুটা দূরে এক নির্নীয়মান বাড়িতে। ঘটনায় চাঞ্চল্য। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড়সড় প্রশ্ন চিহ্নের মুখে!

যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে একটি পাঁচজনের কমিটি গঠন করেছে। তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান কৃষি মন্ত্রী আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতালের  এমএসভিপি সুজয় মিস্ত্রি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে হবে। আমরা একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গড়েছি। তবে,রোগীর সঙ্গে পরিবারের এতবেশি লোকজন ওয়ার্ডে ঢুকে যায় যে কে আসল রোগী কে তা বোঝা যায় না। সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে রোগী বেরিয়ে পড়েছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে রোগীর হাতে সেলাইনের চ্যানেল থাকে, এই প্রশ্নের সদুত্তর কর্তৃপক্ষের কাছে পাওয়া যায়নি।

হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘন ঘন প্রসাব ও বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন রামপুরহাটের সোঁয়াসা গ্রামের বাসিন্দা পেশায় দিনমজুর তপন লেট (৪০)।  

তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর ভাইপো বাঁকারায় লেট। তিনি বলেন, কাকার স্যালাইন চলছিল। খুব ঘনঘন বাথরুমও যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাত ন'টার সময় কাকার বুকের ছবি করা হয়। পরে কাকাকে খাবার এবং ওষুধ খাইয়ে দুজনে একই বেডে ঘুমিয়ে পড়ি।কিন্তু রাত আড়াইটের পর হঠাৎ ঘুম ভাঙে। তখন দেখি বেডে কাকা নেই। স্যালাইন বোতলের জল নিচে গড়িয়ে পড়ছে। প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো বাথরুম গেছেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরও না আসায়, খোঁজাখুঁজি করা হয়। গোটা দিন কাকাকে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে খুঁজেও পাওয়া যায়নি। পরে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে জাতীয় সড়কের ধারে খোঁজাখুঁজি করতেই এক লটারি বিক্রেতার কাছে জানা যায়, মাঠের মধ্যে নির্মীয়মান বাড়িতে এক ব্যক্তির মৃতদেহ ঝুলছে। সেখানে গিয়ে দেখি, গলায় জামা জড়িয়ে একটি কার্নিশের সঙ্গে ঝুলছে কাকা। ঘটনার পর পরিজনরা হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পরে খবর পেয়ে পুলিস এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসেন। মৃতের ভাইজি শ্রীমতি লেট জানান, গত বুধবার কাকাকে মল্লারপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে থেকে জানতে পারি চিকিৎসকরা অনুমান করছেন কাকার কিডনির সমস্যা হতে পারে।  পরের দিন রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই চিন্তায় কাকা খুব টেনশনে ছিল। মৃতের জামাইবাবু অর্জুন লেট প্রশ্ন করেন, ওয়ার্ডে নার্স, চিকিৎসক, নিরাপত্তা রক্ষী ও পুলিস থাকা সত্বেও কী করে হাতে স্যালাইনের চ্যানেল নিয়ে একজন রোগী হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যায়? এ প্রশ্নের উত্তরে নিরাপত্তা বিভাগের সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম জানান, কোনও রোগীকে পাওয়া না গেলে ওয়ার্ড থেকে মাইকে ঘোষনা করে জানানো হয়। এক্ষেত্রে তা হয়নি। সারারাতই তো হাসপাতালে লোক যাওয়া আসা করে। কে রোগী আর কে রোগীর আত্মীয় বোঝা যায়? হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালের মূল গেটে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন পাঁচ বেসরকারি সংস্থার সিকিউরিটি ও দুজন পুলিস। তদন্ত কমিটি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only