শুক্রবার, ৫ জুলাই, ২০১৯

ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরীক্ষামূলকভাবে নদিয়ায় শুরু হল ড্রাগন চাষ


শুভায়ুর রহমান, তেহট্টঃ নদিয়া জেলার বিভিন্ন ব্লকে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হল ড্রাগন ফলের চাষ। ড্রাগন মূলত রোগ প্রতিরোধক ক্যাকটাস জাতীয় গাছ। জানা গেছে, একজন সরকারি আধিকারিকের চেষ্টায় বছর দুই ধরে প্রায় পঞ্চাশজন চাষি ড্রাগনের চাষ শুরু করেছেন। তেহট্টের পাথরঘাটা, করিমপুর, পলাশিপাড়ার পলশুন্ডায়, রাণাঘাটে এই চাষ শুরু হয়েছে। পাথরঘাটার ড্রাগন ফল চাষি ছাত্তার মল্লিকের কথায়, কৃষি দপ্তরের এক আধিকারিক এক বছর আগে রাণাঘাট ব্লকে বেশকিছু চাষিদের নিয়ে ড্রাগন ফলের চাষ নিয়ে আলোচনা করেন। সেই আলোচনার পর চাষের আগ্রহ প্রকাশ করি এবং উনি ড্রাগন চারার ব্যবস্থা করে দেন। আপাতত দশ কাঠা জমিতে চাষ শুরু করেছি। খরচ পড়েছে ত্রিশ হাজার টাকা। গাছ লাগানোর পর ঐ জমিতে মিশ্র চাষ করে খরচের টাকা প্রায় উঠে এসেছে। জানা গেছে, একবার গাছ লাগানোর পর পরিচর্যা করলে পঁচিশ থেকে ত্রিশ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। আর এই দীর্ঘ সময়ে জমিতে মিশ্র চাষ হিসাবে সবজি মতো বিভিন্ন চাষ করা সম্ভব। 

তেহট্ট মহকুমার সহ কৃষি অধিকর্তা (ইক্ষু) জেসমিন হক জানান, থাইল্যান্ড থেকে এক পরিস্থিতির মাধ্যমে ড্রাগন গাছের চারা নিয়ে আসা হয়। রাণাঘাটে যখন কাজ করতাম তখন আমার কাছে আসে। ড্রাগন ফল চারা নিজের বাড়িতে এনে পরীক্ষামূলকভাবে চাষিদের মধ্যে বিতরণ করি। তেমন কেউ এ ব্যাপারে জানাশোনা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সরকারি আধিকারিক না থাকায় নিজেই আগ্রহী চাষিদের একত্রিত করে চাষ হচ্ছে। জেলার বেশ কিছু চাষি নিয়ে ৫-১০ কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ড্রাগন চাষ হচ্ছে। এই ড্রাগন চাষ করতে সারা বছর রোপণ করা হয়। এটি ক্যাকটাস জাতীয় গাছ। উন্নতমানের চারা রোপণ করতে গেলে এক বছরের মাথায় ফল পাওয়া যাবে। লোকাল চারার চেয়ে বিদেশি প্রজাতির চারা রোপণ করলে তিনগুণ ড্রাগন ফল পাওয়া যাবে। বিশেষত মাঘ, ফাল্গুন মাসই ড্রাগন রোপণের আদর্শ সময় বলে তিনি জানান। দোঁয়াশ ও এঁটেল মাটিতে এই চাষ ভাল হয়। নদিয়া জেলার মাটিতে খুব ভাল ফলন পাওয়া যেতে পারে বলে জানা গেছে। আধিকারিক জেসমিন হক বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরীক্ষামূলকভাবে লাভজনক এই ফলের চাষ শুরু করেছি। চাষিদের মধ্যে কনফিউশান থাকলেও  এখন ফল পাচ্ছে। তারা খুশি। আমাদের এই আবহাওয়ায় ড্রাগন ভাল হবে। বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ করতে গেলে আরও চাষিদের শুরু করতে হবে অনেকেই এগিয়ে আসছে। ফুল দেওয়ার পর ফল কুড়ি-পঁচিশ দিনের মাথায় পাওয়া যায়। শরীরের পক্ষে উপযোগী এই ফল। যেহেতু রাসায়নিক সারের ব্যবহার কম  ও বেশি জৈব সারের ব্যবহারে জমির উর্বরা শক্তিও ফিরছে। চাষিরা খুবই খুশি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only