মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০১৯

ঘরছাড়া বাংলাদেশীকে পরিবারের হাতে তুলে দিলেন মোসলেম মুন্সী


শুভায়ুর রহমান, নাকাশীপাড়াঃ এক মাস আগে ভিসা পোশপোর্ট করিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতে এসেছিলেন। কিন্তু ঘরে ফেরা হয়নি। দেশে এসে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভাগ্যে জোটে চোর তকমা। গণপিটুনি খেয়ে পুলিশের হাত ঘুরে গত ২৪ জুলাই সাতচল্লিশ বছরের যুবকের ঠাঁই হয় নদিয়ার নাকাশিপাড়ার গলায়দড়ি গ্রামের মোসলেম মুন্সীর কাছে। মানসিক অসুস্থ ব্যক্তিটির শুভ চিকিৎসা শুরু হয়। সেই সঙ্গে স্মৃতি ফেরানোর জোর চেষ্টা চালানো হয় জানান মোসলেম মুন্সী। এরপর ঘটনার মোড় নেয় অন্যদিকে। ঠিক দু'দিন পরে মোসলেম মুন্সী তার জামা প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে দেখেন পাশপোর্ট। জানা যায় তার সাকিন ঠিকানা। তার নাম পরিতোষ কুমার মন্ডল। বাংলাদেশের যশোরের  হামিদপুরের ধানকাটাতে বাড়ি। পাশপোর্টে পাওয়া ফোন নম্বরে ২৬ জুলাই যোগাযোগ করেন মোসলেম মুন্সী। তিনি বলেন, ওর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি পেটে জল জমেছে। এছাড়া হার্টের অসুখ নিয়ে কল্যাণীতে আসেন চিকিৎসা করাতে। কিন্তু কল্যাণীতে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। চোর ভেবে খুব মারধর করে জনতা। পুলিশ উদ্ধার করে এসডিওর অর্ডার করিয়ে আমার কাছে রেখে যান। কয়েক দিন পরে পকেট থেকে পাশপোর্ট পাই। বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করলে পরিতোষের ভাগ্নে আসেন। যিনি বনগাঁর বাসিন্দা। আমি বলি নিজের ভাইবোন, ছেলে মেয়ে কেউ না এলে দিতে পারব না। এরপর এসডিওর অনুমতি পেয়ে ওর ছেলে সজীব মন্ডলের হাতে তুলে দিয়েছি মঙ্গলবার। জানা গেছে পরিতোষ মন্ডল পেশায় কাঠমিস্ত্রী। তার তিন ছেলে। বাবাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগে ছেলে সজীব মন্ডল জানান, অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। দেশে তো বটেই এদেশে আমার আত্মীয়স্বজন অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। এক মাস আগে বাবা চিকিৎসার জন্য এদেশে আসে। মোসলেম মুন্সী সাহেব খুব ভাল লোক। ভারত সরকার, প্রশাসন সবাই ভালো। আমরা খুশি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only