বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৯

কাশ্মীর মধ্যস্থতা ইস্যু- মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনগড়া কথা বলেন না: ল্যারি কাডলো

পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক : কাশ্মীর নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতা সংক্রান্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারত ও আমেরিকায় অস্বস্তি বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্পের আর্থিক পরামর্শদাতা ল্যারি কাডলো বলেছেন, প্রেসিডেন্ট মনগড়া কথা বলেন না। তার ওই মন্তব্যের ফলে বিষয়টি নয়া মাত্রা পেয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কাশ্মির ইস্যুতে মধ্যস্থতা করতে বলেছিলেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে কাডলো বলেন, ‘এটা খুব দুর্বিনীত প্রশ্ন। প্রেসিডেন্ট মিথ্যে বলেন না। আমি এ নিয়ে কথা বলব না। নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন, পররাষ্ট্রসচিব মাইক পম্পেয়ো বা প্রেসিডেন্ট নিজে চাইলে এ বিষয়ে কথা বলতে পারেন।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে তাঁকে অনুরোধ করেছেন বলে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমরান খানের কাছে মন্তব্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চরম অস্বস্তিতে ফেলেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় মোদি সরকারকে। গত সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ইমরান খানের সঙ্গে এক বৈঠকে ওই দাবি করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই দাবির প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তাল হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার সংসদের উভয় কক্ষে বিরোধীরা সরকারকে চেপে ধরে, ওয়াক আউট করে, প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির দাবিতে বিক্ষোভ দেখায়। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা গুলাম নবী আজাদ বলেছেন, যে কেউ নয়। সরকারিভাবে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার চলাকালীন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে পাশে বসিয়ে বলেছেন দু’সপ্তাহ আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে অনুরোধ করেছেন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে মধ্যস্থতা করতে। এই বক্তব্য ভারতের এতকালের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ ভারতের একটাই অবস্থান। কাশ্মীর হল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বিষয়। এর মধ্যে কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ভারত চাইবে না। শিমলা চুক্তি এবং লাহোর ঘোষণাপত্রেও তা স্পষ্ট বলা আছে।

ওই ইস্যুতে লোকসভা ও রাজ্যসভায় তুমুল হট্টগোলের পরে  রাজ্যসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সাফাই দিয়ে বলেন, আমি স্পষ্ট জানাচ্ছি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এরকম কোনও অনুরোধ কখনওই করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে। ভারতের কাশ্মীর নীতি অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং অনড়। সেটি হল, পাকিস্তান যতক্ষণ না সন্ত্রাসবাদকে মদত দেয়া বন্ধ করছে ততক্ষণ কোনও আলোচনাই সম্ভব নয়। একইসঙ্গে কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকবে কেবল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। তৃতীয় কোনও পক্ষের  মধ্যস্থতা ভারত মানবে না।

বিষয়টি নিয়ে জটিলতা বাড়লে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর  পরিস্থিতি সামলাতে মাঠে নেমে জানায়, কাশ্মীর ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষীয় বিষয়। আমেরিকা উপমহাদেশে উত্তেজনা কমাতে যে কোনো উদ্যোগকে সমর্থন করতে তৈরি। প্রেসিডেন্ট সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন।

আজ বুধবার ওই ইস্যুতে লোকসভায় বিরোধীরা তোলপাড় করলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, নিজেদের মর্যাদাবোধের সঙ্গে কোনও রকম সমঝোতা করতে রাজি নয় ভারত। একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিতে চাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রাম্পের ওই ধরনের কোনও কথা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পকে ওই ধরনের কোনও অনুরোধ করেননি। কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা সিমলা চুক্তির ওপরে ভিত্তি করেই হবে। এনিয়ে কারও মধ্যস্থতা করার কোনও প্রশ্নই নেই। আর কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা হলে পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েও কথা হবে বলেও রাজনাথ সিং মন্তব্য করেন।

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বরাবরের মনোভাব মার্কিন প্রশাসনের অজানা নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও আচমকা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরকম একটা বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কেন সেই প্রশ্নে ভারতের রাজনৈতিক মহল এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল আলোড়িত।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে সংসদে যে বিবৃতি দিয়েছেন, তার প্রকৃত বার্তা হল, অসত্য বলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ট্রাম্পের  আর্থিক পরামর্শদাতা ল্যারি কাডলো বলেছেন, প্রেসিডেন্ট মনগড়া কথা বলেন না। অন্যদিকে, এ পর্যন্ত ওই ইস্যুতে বিরোধীরা বারবার দাবি জানালেও মুখ খোলেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সব মিলিয়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক টানাপড়েন অব্যাহত রয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only