সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০১৯

ভালোবাসায় বেঁধেছেন, মিনারুল সেখ স্যারকে ঘিরে কাঁদছেন স্কুল পড়ুয়ারা

শুভায়ুর রহমান, পলাশিপাড়াঃ- স্কুলের বারান্দায় স্যার চুপ করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আর তাঁকে ঘিরে অঝোরে কেঁদে চলেছে পড়ুয়ারা। স্যার, প্লিজ...প্লিজ আমাদের ছেড়ে যাবেন না। স্যার আমাদের কথা ভাবুন।' ক্লাস টুয়েলভের ছাত্রী পূর্বা নাগের প্রশ্নের উত্তর জানা নেই প্রিয় স্যার মিনারুল সেখের। পাটিগণিত, বীজগণিত কিংবা জ্যামিতি পড়াতে গিয়ে ভালোবাসার বন্ধনে কখন জড়িয়ে গিয়েছেন বুঝতে পারেননি নদিয়ার পলাশিপাড়া থানার হাঁসপুকুরিয়া বিদ্যাপীঠের গণিতের শিক্ষক মিনারুল সেখ। তিনি নিজ হাতে ক্লাস সামলানোর পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের কন্যাশ্রী, ঐক্যশ্রী প্রকল্প, মিড ডে মিলের মতো সব দায়িত্ব পালন করেন। স্কুলের প্রতি দায়িত্ব নিষ্ঠায় মায়া বাড়িয়েছে তা মালুম পেলেন সোমবার। স্কুল ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন এই খবর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তেই পড়ুয়ারা আন্দোলনে নামে। সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত একটানা দীর্ঘক্ষণ স্যারের পথ আগলে থাকল পড়ুয়ারা। এদিন পঠপাঠনও বন্ধ ছিল বলে জানাগেছে।   শুধু ছাত্রছাত্রী নয় শিক্ষকের সহকর্মীদেরও মন ভারাক্রান্ত। স্কুল সূত্রে জানাগেছে, ২০০২ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে তেহট্টের বাসিন্দা মিনারুল সেখ হাঁসপুকুরিয়া বিদ্যাপীঠে গণিতের শিক্ষক হিসাবে যোগদেন। সতেরো বছরের কর্মজীবনে তিনি সবরকম দায়িত্ব সামলেছেন। ছাত্রছাত্রীদের নিজের ছেলেমেয়ের চোখেই দেখতেন। গত একবছর তিনি ওই স্কুলে টিআইসি ছিলেন। এবছর তিনি স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক হিসাবে সিদ্ধেশ্বরীতলা হাইস্কুলে যোগ দেবেন বলে স্কুল সূত্রের খবর। এই খবর চাউর হতেই মিনারুল সেখকে ঘিরে ধরে ছাত্রছাত্রীরা। তারা স্কুল ছেড়ে অন্য স্কুলে যেতে দিতে নারাজ। মিনারুল সেখের সহকর্মী শিক্ষক দেবাশিস বিশ্বাস জানান, অত্যন্ত ভাল, দায়িত্ববান শিক্ষক। ক্লাস নেওয়া তো বটেই কন্যাশ্রী প্রকল্পের মতো সব কাজ তিনি নিজে করেন। এই রকম একজন স্যারের প্রতি ভালোবাসা জন্মাবে এটাই স্বাভাবিক। ছাত্রছাত্রীরা দাবি জানিয়েছে স্যারকে যেতে দেবে না। সবাই কান্নাকাটি করছে। আমাদেরও খুব মন খারাপ। " এই বিষয়ে শিক্ষক  মিনারুল সেখ বলেন, বাচ্চাদের মধ্যে একটা আবেগ তৈরি হয়েছে। আমাকে স্কুল থেকে ওরা যেতে দিতে চায়না।  ২০০২ সালে হাঁসপুকুরিয়া বিদ্যাপীঠে যোগ দিই। এক বছর টিআইসি সামলেছি। আমিও চেয়েছিলাম স্কুলে থেকে যাই। কিন্তু হাঁসপুকুরিয়া বিদ্যাপীঠে প্রধান শিক্ষকের পদ থাকা সত্ত্বেও কোন কারণে দেখাচ্ছে না। সিদ্ধেশ্বরীতলা স্কুল আমার বাড়ি থেকে কাছেই তাই ওখানে যাচ্ছি। ওদের দাবি আমি শুনেছি। ভাবার সময় নিয়েছি। আর এটাও বলেছি হাঁসপুকুরিয়া থেকে সিদ্ধেশ্বরীতলা বেশি দূর নয়। সবসময় আমাকে পাবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only