শুক্রবার, ২৬ জুলাই, ২০১৯

অসমে এনআরসিতে বাংলাদেশিদের নাম প্রসঙ্গে শিলাদিত্য দেবকে চ্যালেঞ্জ জানালো জমিয়তে উলামা

পুবের কলম ডিজিটাল ওয়েবডেস্ক :  অসমের বিজেপি বিধায়ক শিলাদিত্য দেব জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসিতে লাখ লাখ বাংলাদেশির নাম ঢুকেছে বলে যে মন্তব্য করেছেন অসম রাজ্য জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ তা প্রত্যাখ্যান করে তাঁর দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।  

অসম রাজ্য জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ও ইউডিএফের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি আজ ওই চ্যালেঞ্জ জানান।     

জমিয়ত নেতা মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি আজ ‘পুবের কলম’ প্রতিবেদককে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা শুধু শিলাদিত্য দেব নয়, তার দল ও সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি তারা প্রমাণ করুক কোন জায়গায় অন্যায়ভাবে বাংলাদেশি বাংলাভাষী মুসলিমের নাম এনআরসিতে ঢোকানো হয়েছে। যদি প্রমাণ না করতে পারেন তাহলে প্রকাশ্যে উনি ক্ষমা চান এবং রাজনীতি থেকে অব্যাহতি নিন। এধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষের রাজনীতিতে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। আজকে তিন বছর ধরে শিলাদিত্য দেব এসব কথা বলছেন। উনি প্রমাণ করুন এসব কথা। অসমের কর্মকর্তারা টাকা খেয়ে ভুয়ো নথিপত্র বানিয়ে দিয়ে এনআরসিতে নাম ঢোকাবার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করলেও আজ পর্যন্ত উনি তার কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি কেন?’  

মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি বলেন, ‘শিলাদিত্য দেবের মতো মানুষের প্রলাপ সম্পর্কে কিছু বলা আমার মতো মানুষের পক্ষে শোভা পায় না বলে আমি মনে করি। উনি সম্পূর্ণ একজন দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তি। বিধাতার বিপাকে তিনি একজন বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। আমাদের দলের বিধায়ক হাজী আমিনুল ইসলাম অনেকদিন আগেই তাঁকে পাগল বলেছেন। কিছুদিন আগে যখন এনআরসি’র পরিপূরক কর্তন তালিকা প্রকাশ হয়েছে, তখন তিনি মিডিয়াতে  এনআরসিতে কেন হিন্দু বাঙালিদের নাম আসছে না তা মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছিলেন। এনআরসির শুরু থেকে উনি নানা দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করে আসছেন। তার দাবি, অসমিয়া কর্মকর্তারা টাকা খেয়ে ঘুষ নিয়ে লাখ লাখ বাংলাদেশি মুসলিমের নাম ঢুকিয়ে দিয়েছে!’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথম কথা জাতি ও ধর্মের ভিত্তিতে কোনো কথা বলতে চাই না। কিন্তু কেউ যদি বাধ্য করে তাহলে আমাদেরকে বলতে হবে। আমরা শুরু থেকেই বলছি অসমে যারা ভাষিক সংখ্যালঘু, ধর্মীয় সংখ্যালঘু অর্থাৎ মুসলিম তারা প্রথমদিন থেকে আশ্বস্ত যে একটা শুদ্ধ ও নিরপেক্ষ এনআরসি হবে। আমরা আজও আশাবাদী শুদ্ধ এনআরসি অসমের মানুষ পাবে। শিলাদিত্য দেব আগে থেকেই জানতেন উনার দল চেয়েছিল কিছু বাংলাদেশি মানুষকে এনআরসিতে ঢুকিয়ে দেয়া হোক। সেই কাজটা তারা করতে পারেননি বলেই আজ এসব কথা বলছেন।’

তিনি বলেন, ‘এনআরসি কো-অর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলা তো সরকারের লোক। উনাদের সরকারের সহযোগিতায় এনআরসি হচ্ছে। কিন্তু সেই জায়গায় কংগ্রেসের এজেন্ডা বলা শুধু দায়িত্বজ্ঞানহীন নয়, বড় লজ্জার ব্যাপার!’

‘বিজেপি চেয়েছিল তাদের ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখার জন্য কিছু বাংলাদেশির নাম ঢোকাতে। সেই কাজ তারা করতে পারছে না বলে এখন প্রত্যক্ষভাবে প্রতীক হাজেলাকে এবং পরোক্ষভাবে উচ্চ আদালতকে দায়ী করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যা সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ’ বলেও জমিয়ত নেতা মাওলানা আব্দুল কাদির কাশেমি মন্তব্য করেন।      

গতকাল শুদ্ধ এনআরসি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন বিজেপি বিধায়ক শিলাদিত্য দেব। তিনি বলেন, লাখ লাখ বাংলাদেশির নাম রয়েছে নাগরিকপঞ্জির খসড়ায়। বিজেপির ওই বিধায়ক এনআরসি কো-অর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলার সমালোচনা করে এনআরসিতে ‘ওয়ান ম্যান শো’ চলছে এবং অসমবাসী একশ’ শতাংশ ব্যর্থ এনআরসি লাভ করবে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, কংগ্রেসের এজেন্ডার ভিত্তিতে এনআরসির কাজ হয়েছিল। বিগত তিন বছর ধরে সেই পদ্ধতিতে কাজ চলছে। এর জন্মদাতা  কংগ্রেস। ২০১৫ সালে একাজ শুরু হয়েছিল। সাবেক (কংগ্রেস) মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের পলিসি মতই হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশি মূলের মুসলিমদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়েছে। এনআরসির মাধ্যমেই একাজ হয়েছে।’ এর ফলে কংগ্রেসের ভোট ব্যাঙ্ক সুরক্ষিত হবে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বলেও বিধায়ক শিলাদিত্য দেব মন্তব্য করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only