বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই, ২০১৯

রাজনীতি এড়িয়ে তারাপীঠে রথযাত্রা

দেবশ্রী মজুমদার, তারাপীঠ, ৪ জুলাই: তারাপীঠে মা তারার রথের দড়ি টানা নিয়ে শুরু হল রাজনীতি। এতদিন একচ্ছত্র হিসেবে মন্ত্রী আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় রথের দড়ি টেনে এসেছেন। কিন্তু এবার রথকে নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়। তারাপীঠে লোকসভার প্রাক্কালে বিজেপি মনোভাবাপন্ন পাঁচ পুরোহিতের এক কমিটি গড়ে দেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই আছেন তারাপীঠ মন্দির কমিটির মধ্যে। এই পাঁচ পুরোহিতের মধ্যে পুলক চট্টোপাধ্যায় আছেন ফিনান্স কমিটিতে। তাঁরা বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানায়। অন্যদিকে, মন্দির কমিটি মন্ত্রী আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রন জানায়। যদিও বিজেপির তরফে জানানো হয়, তাঁদের তৃণমূলের সাথে রথের দড়ি টানতে কোন আপত্তি নেই। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে মন্ত্রী আগে রথ দড়ি টেনে অনুষ্ঠানের সূচনা করে চলে যান। তারপর বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় রথের দড়ি টানেন। মুখ্যমন্ত্রীর তৈরী রামপুরহাট তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদের মাধ্যমে মন্ত্রী আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় তারাপীঠে প্রভূত উন্নয়ন করেন। তিনি বলেন, প্রতিবার যেমন তিনি আসেন, তেমনি এবার এসেছেন। বিজেপির কাউকে তিনি দেখেননি। এব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না।
মন্দিরের প্রবীণ সেবাইত প্রবোধ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই থেকে জানা যায়, তারাপীঠের বিখ্যাত সাধক দ্বিতীয় আনন্দনাথ রথের প্রচলন করেন। সেই সময় একটা পিতলের রথ তৈরি করা হয়। সেই রথেই আজও মা তারাকে ঘোরানো হয়। তারা মায়ের একটি রথ ঘর রয়েছে। যুক্তফ্রন্টের আমলে ওই রথ ঘরের উদ্বোধন করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখোপাধ্যায়। ওই রথ ঘরেই সংরক্ষিত রাখা হয় পিতলের রথ। রথ ঘরটি নির্মাণ করেন জনৈক মা তারার ভক্ত আশালতা সাধু খাঁ। বৃহস্পতিবার যথাযোগ্য মর্যাদায় মা তারাকে ওই রথে বসিয়ে ঘোরানো হয় তারাপীঠে। বিকেল তিনটে নাগাদ মা তারাকে মন্দির থেকে বের করে রথে প্রতিষ্ঠা করা হয়। সাজানো হয় রাজবেশে। তারপরেই হাজার হাজার পুর্নার্থী রথের দড়িতে টান দেন। প্রথমে রথের দড়িতে টান দেন কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরেই বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় মা তারার রথ টানেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only