মঙ্গলবার, ৯ জুলাই, ২০১৯

'দেশগঠনে সংঘের ভূমিকা' এবার মহারাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমে

দেশ গঠনের আরএসএস এর  ভুমিকার কথা এত দিন বিজেপিই বলে বেড়াত। বেশ কিছু গেরুয়া দলও তাতে তাল মেলাত। কিন্তু এবার মহারাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে ঢুকে পড়ল সংঘ।  ‘দেশগঠনে’ আরএসএসএর ভূমিকা কি ছিল– ইতিহাসের স্নাতকস্তরে পাঠক্রমে চালু তা করল ‘রাষ্ট্রসন্ত টুকাড়োজি মহারাজ নাগপুর ইউনিভার্সিটি’। পাঠ্য ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় রয়েছে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার কথা ও জওহরলাল নেহরুর উত্থানের কথা। দ্বিতীয় অধ্যায়ে রয়েছে আইন অমান্য আন্দোলন এবং তৃতীয় অধ্যায়ে দেশ গঠনে আরএসএসের ভূমিকার কথা। আরএসএস চাইছে ইতিহাসের ‘নয়া ঘরানা’ তৈরি করতে। বহু দিন ধরেই সে চেষ্টা চলছে। এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এমনিতে গোটা দেশ জানে যে স্বাধীনতা আন্দোলনে আরএসএস এর কোনও ভূমিকা ছিল না। বরং ব্রিটিশের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রেখে চলত তারা। গান্ধিজি যখন আইন অমান্য আন্দোলন করেন– তখনও আরএসএস পাশে দাঁড়ায়নি। স্বাধীনতা আন্দোলনে যে তাদের কোনও ভূমিকা ছিল না একথা গোটা দেশ জানে। ওয়াকিবহাল মহল বলছে নয়া প্রজন্মের কাছে নিজেদের জাতীয়তাবাদী ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চাইছে সংঘ। বর্তমানে বিজেপিরও সবথেকে বড় স্লোগান জাতীয়তাবাদ। যদি সেই জাতীয়তাাদ স্লোগানের আড়ালে বাড়বার মেরুকরণের ছবিটা প্রকট হয়েছে। তা নিয়ে নিয়মিত অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা।
স্টাডিজ অব ইউনিভার্সিটির বোর্ড মেম্বার সতীশ ছাফলে মঙ্গলবার সংবাদ মাধ্যমকে জানান, দেশগঠনে সংঘের উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কথা পাঠক্রমে তুলে ধরা হয়েছে। স্নাতক কোর্ষের দ্বিতীয় বর্ষে এটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস মুখপাত্র সচীন সাওয়ান্ত। তিনি টু্ইটারে লেখেন, ‘নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয় এসব কোথা থেকে পাচ্ছে? কোনকালে আবার দেশ গঠনে আরএসএর ভূমিকা ছিল? এরা ব্রিটিশের সঙ্গে  একজোট হয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল। এরা জাতীয়তাকে অশুভ বলে মনে করত। ৫২ বছর ধরে সংঘ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেনি। সংবিধানের বদলে সংঘ আনতে চেয়েছিল মনুস্মৃতি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only