শুক্রবার, ২৬ জুলাই, ২০১৯

কেন্দ্রীয় সরকারের ট্রিপল তালাক বিল প্রত্যাখ্যান করল জিআইও

পুবের কলম ডিজিটাল ওয়েব ডেস্ক :  কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার সংসদে ট্রিপল তালাক বিল পাস করে আইনে পরিণত করার যে চেষ্টা করছে তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে পশ্চিমবঙ্গের গার্লস ইসলামিক অর্গানাইজেশন বা জিআইও।

বৃহস্পতিবার সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় ট্রিপল তালাক বিল পাশ হয়েছে। এবার তা রাজ্যসভায় পাশ হলে আইনে পরিণত হবে। বিলটিতে তাৎক্ষণিক ট্রিপল তালাককে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে স্বামীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।    

জিআইও সভানেত্রী সফিউন্নেসা আজ পুবের কলম প্রতিবেদককে বলেন, ‘লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকার ট্রিপল তালাক সংক্রান্ত যে বিল পাস করেছে তাতে সরকার মুসলিম নারীদের সুবিচার দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করছে। কিন্তু আমরা যদি বাস্তব ক্ষেত্রে দেখি তাহলে দেখা যাবে আসলে এখানে সুবিচারের পরিবর্তে তাদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে। কেননা যে বিষয়টা একটা পারিবারিক ও সামাজিক বিষয় তাকে ফৌজদারি অপরাধের  আওতায় এনে স্বামীকে তিন বছর কারাদণ্ড দেয়া হবে। ওই পরিবারের  ভরণপোষণের ব্যাপারে কোনো ভাবনা নেই। তাদেরকে অনুদান দেয়া হবে হবে কি না, তারা সাহায্য সহযোগিতা পাবেন কি না তা নিয়ে সরকার কোনো কথা বলেনি বা ঘোষণাও দেয়নি যে স্বামীকে তিন বছর জেলে দেয়ার পরে আমরা ওই পরিবারের দায়িত্ব পালন করব। স্বামীকে যদি জেলে পাঠানো হয় তাহলে সেই পরিবারের কী হবে? তার স্ত্রী, তার ছেলে- মেয়েরা আর্থিক দুরাবস্থার মধ্যে পড়বেন। সুতরাং তাদেরকে কীভাবে সুবিচার দেয়া হচ্ছে? ইসলামে ট্রিপল তালাকের বিষয়টি একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। মুসলিম সমাজে যা খুব কম ও নগণ্য পরিমাণে ঘটে। আমরা একে মাইক্রোস্কপিক ঘটনা বলতে পারি। এটা যাতে না ঘটে সেই বিষয়ে মুসলিমদের সচেতন করলেই এই সমস্যার সমাধান সহজেই হয়ে যাবে।  ইসলামের মধ্যে ইনস্ট্যান্ট ট্রিপল তালাকের বিষয় নেই। সেখানে যেহেতু একটা সুন্দর পদ্ধতি আছে, সেই পদ্ধতিকে জানানো হলেই ইনস্ট্যান্ট ট্রিপল তালাকের যে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে তা কমানো সম্ভব হবে।’  

তিনি বলেন, ‘যদি মুসলিম নারীদের প্রতি সুবিচারের এতই ইচ্ছা থাকে তাহলে ইতিপূর্বে বিভিন্ন দাঙ্গার ঘটনায় মুসলিম নারীরা যে দুর্ভোগে পড়েছিলেন তাদের উন্নয়ন, তাদের বাসস্থান, আর্থিক দিক থেকে তুলে আনার জন্য কোনো পদক্ষেপ এপর্যন্ত নেয়া হয়নি কেন?’  

মুসলিম নারীদের জন্য আল্লাহপ্রদত্ত যে আইন আছে সেটাই যথেষ্ট। এজন্য আলাদা আইনের কোনো প্রয়োজন নেই বলেও রাজ্য জিআইও সভানেত্রী সফিউন্নিসা মন্তব্য করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only