মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯

কাশ্মীর নিয়ে বিস্ফোরক নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন

নোবেলজয়ী ড. অমর্ত্য সেন সরকারের সাম্প্রতিক কাশ্মীর সম্পর্কিত পদক্ষেপের প্রবল সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটা শুধু যে সংখ্যাগুরুর শাসনের ওপরই গুরুত্ব দিয়েছে তা নয়, বরং এর দ্বারা সকল মানুষের অধিকারকেই পদদলিত করা হয়েছে। আমি মনে করি, আপনারা শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্র ব্যতীত কাশ্মীর সমস্যার কোনও সমাধান করতে পারবেন না।’ 
এনডিটিভি-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ৮৫ বছর বয়সি এই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ বলেন– কাশ্মীর নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের বিভিন্ন স্তরে বেশ কিছু ছিদ্র রয়েছে। অমর্ত্য সেন আরও বলেছেন– ‘একজন ভারতীয় হিসাবে আমি এখন আর গর্ববোধ করতে পারছি না– কারণ ভারত সারা বিশ্বে গণতান্ত্রিক নিয়ম প্রতিষ্ঠার জন্য বহু কিছু করেছে। আর ভারতই হল পাশ্চাত্যের বাইরে প্রথম দেশ যা গণতন্ত্রকে বেছে নিয়েছিল। কিন্তু আমরা আজ বাস্তবের ময়দানে যে আচরণ করছি– তাতে আমরা সেই মর্যাদা হারিয়েছি।’

এনডিএ সরকার এ মাসের প্রথম দিকে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার এবং রাজ্যটিকে ২ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করে দেওয়ার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা কিন্তু দেশে রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষের সমর্থন পেয়েছে। যে বিলটিতে জম্মু-কাশ্মীরকে দ্বিখণ্ডিত করার প্রস্তাব রাখা হয় তা বৃহৎ  বিরোধী দলগুলির এবং ব্যক্তি মানুষের পর্যায়ে সমর্থন পেয়েছে। এমনকী কংগ্রেস দলের একটি অংশ  কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা খারিজের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে জম্মু-কাশ্মীর এখন ভারতের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে সমপর্যায়ে এসে দাঁড়াল। কারণ ৩৭০ ধারা বিলোপের দ্বারা কাশ্মীরের নিজস্ব সংবিধান– পতাকা– শাস্তিবিধি এবং কারা কাশ্মীরে জমি কিনতে পারবে সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাতিল হয়ে গেল। 
এখন কাশ্মীরে অন্য রাজ্যের মানুষদের জমি কেনার যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে সে সম্পর্কে অমর্ত্য সেন বলেন– এই বিষয়ে কাশ্মীরের মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা দেওয়া উচিৎ। ড. অমর্ত্য সেন আরও বলেন– এটা আরও একটি বিষয় যাতে কাশ্মীরিদের আইনসঙ্গত মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে কারণ এটা তাদেরই জমি। 

অমর্ত্য সেন কাশ্মীরের মূল ধারার রাজনীতিবিদদের বন্দি করে রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। ‘আমি মনে করি না– জনগণের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা না বলে কেউ ইনসাফ এবং সুবিচার অর্জন করতে পারে। আর যদি আপনি হাজার হাজার নেতৃবৃন্দকে নিয়ন্ত্রণের রাশ পরিয়ে রাখেন এবং তাদের বেশিরভাগকেই কারাগারে পুরে দেন  তাহলে আপনি গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরছেন। আর যা গণতন্ত্রকে সফল করে তোলে তাকে হত্যা করছে। 
সরকার জানিয়েছে– কাশ্মীরকে ব্যাপক সুরক্ষার চাদরে যে মুড়ে দেওয়া হচ্ছে তা নাকি একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। সরকারের বক্তব্য এর দ্বারা প্রতিঘাতকে দমন করা যাবে। নাহলে হয়তো বহু মানুষের প্রাণ যেত। এ সম্পর্কে অমর্ত্য সেন বলেন– এটা হচ্ছে একটি কলোনিয়াল/উপনিবেশিকতাবাদী অজুহাত। আর এভাবেই  ২০০ বছর ধরে ব্রিটিশরা ভারত শাসন করেছিল। অমর্ত্য সেন আরও বলেন– যখন আমরা নিজেদের স্বাধীনতা অর্জন করেছি তখন আমি কখনই চাইব না যে আমরা আমাদের কলোনিয়াল হেরিটেজ/উপনিবেশিকতাবাদী ঐতিহ্যে ফিরে যাব। আর এজন্য এভাবে প্রতিরোধমূলক গ্রেফতারি বা আটকের কথা বলা হচ্ছে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only