শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৯

অনাহারে দিন কাটছে নেতাজির আজাদহিন্দ বাহিনীর সেনানীর পরিবারের


জাহির হোসেন, বারাসতঃ প্রায় অনাহারে দিন কাটছে নেতাজির আজাদহিন্দ বাহিনীর এক সেনানির পরিবারের সদস্যদের। মেলেনি স্বাধীনতা সংগ্রামীর স্বীকৃতি। মেলেনি কোনো পেনশন। জুটছে না কোনো সরকারি সাহায্যে। ফলে সেনানীর স্ত্রী এবং মেয়েকে অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে কোনো রকমে জোগাড় করতে হচ্ছে পেটের ভাত। তাতেও ঠিকমতো দু'বেলা দুমুঠো খাবার জুটচ্ছে না তাদের। 
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দেগঙ্গার বেড়াচাপার চারাবাগানে বাড়ি আজাদহিন্দ বাহিনীর সেনানী প্রয়াত কৃষ্ণমোহন শীলের। ইটের বাড়ির কিছুটা টালি, কিছুটা টিন আবার কিছুটা ত্রিপল দিয়ে ছাওয়া। ঘরের মধ্যে অগোছালো ভাব। গোটা বাড়িতেই দারিদ্রতার ছাপ স্পষ্ট। তার আদি বাড়ি ছিল বর্তমান বাংলাদেশের চট্রগ্রামে। স্ত্রী লক্ষ্মীরানী শীল এবং দুই সন্তান শঙ্করমোহন শীল ও মেয়ে সুধারানী শীল বর্তমান।
কৃষ্ণমোহন ছিলেন নেতাজির আজাদহিন্দ বাহিনীর অন্যতম সদস্য। একসময় বাহিনীর সাথে থাকতেন ততকালীন বার্মার রেঙ্গুনে। বাহিনীর সদস্যদের চুল কাটার কাজে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। শঙ্কর বাবুর স্ত্রী লক্ষ্মীরানী শীল বলেন বিয়ের পরে স্বামীর মুখে শুনেছি ইংরেজদের সাথে লড়াইয়ে একদিন একটা গুলি এসে লাগে কৃষ্ণমোহন বাবুর হাতে। সেনানীদের বাচাতে অনেকের সাথে কৃষ্ণমোহন বাবুকেও চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয় ভারতে। পরে তিনি ঠাই নেন দেগঙ্গার বেড়াচাপার চারাবাগান এলাকায়। বছর তিরিশ আগে প্রয়াত  হয়েছেন কৃষ্ণমোহন বাবু। তার মৃত্যুর আগে স্বাধীনতা সংগ্রামীর স্বীকৃতি পেতে একাধিকবার ভারত সরকারের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আইনি জটিলতায় স্বাধীনতা সংগ্রামীর স্বীকৃতি পান নি তিনি। ফলে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে নিয়ে অর্ধাহারে কাটাতে হয়েছে তাকে। 
তার মৃত্যুর পরেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি কৃষ্ণমোহন বাবুর পরিবারের। বরং আরও অবনতি হয়েছে পরিবারের আর্থিক অবস্থা। সরকারি কোনো সাহায্য না পাওয়ায়  প্রায় অনাহারে কাটাতে হচ্ছে কৃষ্ণমোহন বাবুর সাতাশি বছরের স্ত্রী লক্ষ্মীরানী শীল এবং তার দুই অবিবাহিত সন্তান শঙ্করমোহন শীল ও মেয়ে সুধারানী শীলকে। দুবেলা দু'মুঠো খাবার জোগাড় করতে এখনো পর্যন্ত মা মেয়েকে পরিচারিকার কাজ করতে হচ্ছে অন্যের বাড়িতে। তাদের এই দুরবস্থার কথা জানিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন জনের কাছে দরবার করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছেন কলকাতা পৌরসভার কাউন্সিলর গৌতম হালদার। সম্প্রতি কৃষ্ণমোহন বাবুর বাড়িতে এসে চাল, ডাল এবং নগদ টাকা দিয়ে সাহায্য করেছেন তিনি।
বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন আজাদহিন্দ বাহিনীর কারা কারা পেনশন পাবেন  সেটা কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাপার। তবুও আমি  বিষয়টা নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। তেমন হলে বিষয়টা সংসদে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only