শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৯

মহামারী ইবোলাও এখন নিরাময়যোগ্য, দাবি কঙ্গোর বিজ্ঞানীদের



কিনসাসা, ১৬ আগস্ট: বেশ কয়েকদশক ধরে মহামারীর আকার নিয়েছে ইবোলা। ভাইরাসজাত এই সংক্রমণ এখন আফ্রিকান বলয়ে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েকদশকে এই ভাইরাসজাত জ্বরের প্রাণ খুইয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। চিকিৎসা করালেও তার সুরাহা হয়নি।তাই এটি এখন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। তবে সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের গবেষণায় উঠেছে এই রোগ নিরাময়ের সমাধানের রাস্তা।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ইবোলায় আক্রান্তরা শুরুতেই চিকিৎসা নিলে সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন। ডেমোক্র্যাটিক কঙ্গোর বিজ্ঞানীরা ইবোলার চিকিৎসায় সাফল্য পেয়েছেন এবং বিষয়টি তাদের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে।

তাঁদের দাবি, দ্রুত এই ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা শুরু করলে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে তাঁরা  বেঁচে যেতে পারবেন।  কঙ্গোর ইবোলা রেসপন্সের সমন্বয়ক প্রফেসর জিয়ান মুয়েম্বে বলেছেন, এই রোগ হয়তো খুব শীঘ্র আমারা 'প্রতিরোধ ও চিকিৎসাযোগ্য' করে তুলতে পারব। তিনি এই সফলতাকে 'বছরের সবচেয়ে বড় খবর' হিসাবে আখ্যায়িত করছেন।
তিনি আরও বলেন, আমি এটা নিয়ে অত্যন্ত খুশি, ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা কীভাবে হতে পারে তা নিয়ে আমি চার দশক ধরে চিন্তা করেছি। 

তাই এটা আমার জীবনের বড় অর্জন'। গবেষণাটি কঙ্গোতে করা হয়েছিল। গত বছর নভেম্বর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এই ধরণের চিকিৎসা শুরু হয় ইবোলা আক্রান্তদের ওপর। আক্রান্তদের সারিয়ে তুলতে চারটি ওষুধ ব্যবহার করা হয়। সাতশজনের ওপর এই চারটি ওষুধ পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৪৯৯ জনের রোগ নিরাময় হয়, তা এবছর নিশ্চিত করা হয়েছে।

ড. মুয়েম্বে জানিয়েছে, আরইজিএন-ইবি৩ এবং এমএবি১১৪ নামের পরিচিত দুটি ওষুধই ইবোলা নিরাময়ের জন্য খুবই সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। মূলত চিকিৎসরা এই মারাত্মক ভাইরাসটিকে নিষ্ক্রিয় করতে গবেষণা চালিয়ে ছিলেন। মুয়েম্বে ১৯৭৬ সালে প্রথম ইবোলা সনাক্তকারী চিকিৎসক দলের সদস্য ছিলেন।

জানা গিয়েছে, আরইজিএন-ইবি৩ প্রয়োগ করে রোগীদের ২৯ শতাংশ মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো গিয়েছে। চিকিৎসা না করলেও তাদের ৬০-৭০ শতাংশ ঝুঁকি থাকে।
এই ওষুধ আবিষ্কারের আগে ইবোলার কোনও চিকিৎসা ছিল না। ইবোলার কোনও চিকিৎসা বা টিকা নেই। তাই ইবোলা নিয়ে এই ধরণের সাফল্যাকে অনেকেই যুগান্তকারী হিসাবে মনে করছে।

ড.মুয়েম্বে বলেন, এন্টিবডিসহ ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে। তারা এক ঘণ্টার মধ্যেই ভালো বোধ করতে শুরু করেন। তিনি বলে এটি চিকিৎসার একটি অংশ। প্রতিরোধ নয়। এই এন্টিবডি ইঞ্জেকশনটি দু'সপ্তাহের মধ্যে রক্ত থেকে ইবোলা ভাইরাসকে ধ্বংস করবে। এটা ভাইরাসটির বিরুদ্ধে একটি চিকিৎসা।  আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে এই পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল জানা যাবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only