বুধবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৯

এবার ফিরোজ শাহ কোটলার নাম বদলে অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম

ফিরোজ শাহ কোটলায় অরুণ জেটলি। -ফাইল চিত্র
পুবের কলম, কোটলা: নাম বদলে যাচ্ছে দেশের অন্যতম প্রাচীন স্টেডিয়াম ফিরোজ শাহ কোটলার। সদ্য প্রয়াত অরুণ জেটলির নামে এই স্টেডিয়ামের নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা। অরুণ জেটলিকে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ডিডিসিএ-র তরফে জানানো হয়েছে। 
আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামকে ডাকা হবে অরুণ জেটলির নামে। দিল্লি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রজত শর্মা জানান, ‘অরুণ জেটলি বরাবরই ক্রিকেটারদের উৎসাহ দিয়েছেন। বিরাট কোহলি, বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, গৌতম গম্ভীর, আশিস নেহরা এবং ঋষভ পন্থের মতো ক্রিকেটাররা এ রাজ্য থেকে খেলে দেশকে গর্বিত করেছেন।’
রীতিমতো ঢাকঢোল পিটিয়ে ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করা হবে। দিল্লির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠান হবে। উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজিজু। প্রশ্ন উঠছে, ফিরোজ শাহই বা কেন? এর উত্তর অবশ্য মিলেছে আগেই। প্রাক্তন ক্রিকেটারদেরও একটা অংশ মনে করছেন, ঐতিহাসিক এই স্টেডিয়ামের নাম বদল সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।
মুসলিম ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির নাম পরিবর্তনকে বিজেপি তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে ধরে নিয়েছে। মুঘলসরাইয়ের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে দীনদয়াল উপাধ্যায়। এলাহাবাদের নাম বদলে রাখা হয়েছে প্রয়াগরাজ। ফৈজাবাদের নাম বদলে রাখা হয়েছে অযোধ্যা। আগ্রার নাম বদলের দাবি তুলেছে গেরুয়া শিবিরের একাংশ। এবার ফিরোজ শাহ কোটলার নাম বদলে রাখা হচ্ছে অরুণ জেটলি। সাফাই দিয়ে অবশ্য ডিডিসিএ প্রেসিডেন্ট ট্যুইট করেন। তিনি লেখেন, ‘মাঠের নাম ফিরোজ শাহ কোটলাই থাকছে। তাতে বদল করা হচ্ছে না। কেবল স্টেডিয়ামের নাম বদলে রাূা হচ্ছে অরুণ জেটলির নামে।’ দিল্লি ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে বিসিসিআই।
ফিরোজ শাহ কেবল নাম নয়। ফিরোজ শাহ ইতিহাস। কোটলা মানে দুর্গ। ফিরোজ শাহ কোটলা হল আসলে ফিরোজ শাহের আমলের দুর্গ। দিল্লিকে সুরক্ষিত করতে এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ মোকাবিলা করতে তিনি বহু দুর্গ নির্মাণ করেন। মুহাম্মদ বিন তুঘলকের পর ১৩৫১ সালে তিনি দিল্লির সিংহাসনে বসেন। ১৩৮৮ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। ১৩৫০-এ দিল্লি সংলগ্ন একটি শহর তৈরি করেন তিনি। নাম দেন ফিরোজাবাদ। 
ফিরোজ শাহ তুঘলক তাঁর প্রজাদের উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক রূপরেখা তৈরি করেন। শিক্ষার জন্য বহু মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাও করেন তিনি। গরিব প্রজাদের সেবার জন্য বহু হাসপাতাল তৈরি করেন। পথচারীদের জন্য সরাইখানা তৈরি করেছিলেন। এ ছাড়াও তিনি ইউনানি চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য বহু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তাঁর আমলে দিল্লির আশপাশে প্রায় ৩০০ গ্রামের গোড়াপত্তন হয়। পাঁচটি বড় ক্যানেল খোঁড়া হয়। যার ফলে সেচের কাজে প্রভূত উপকার সাধিত হয়। তাঁর সময়ে বাংলা আপাত স্বাধীনতা পেয়েছিল। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only