শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০১৯

ঘণাচ্ছে যুদ্ধের মেঘ, রাশিয়ার সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি থেকে সরল আমেরিকা




তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে কী এগোতে চাইছে আমেরিকা? এখন এটাই কথাই লাখ টাকার প্রশ্ন। গত বছর ৮ মে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে এসছিল আমেরিকা। এবার একইভাবে রাশিয়ার সঙ্গে অস্ত্র চুক্তি থেকে সরল আমেরিকার ট্রাম্প সরকার।

শুক্রবার ৩২ বছরের 'ল্যান্ডমার্ক' চুক্তি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে সরিয়ে নেয় আমেরিকা।কারণ হিসাবে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থের দিকে তাকিয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তির অস্ত্রের উন্নতিকরণের দিকে তাকিয়ে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস জন্ম নিয়ে ছিল।চুক্তির ফলে একে অন্যকে উন্মুক্তভাবে ক্ষমতা প্রদর্শন করতে পাচ্ছিল না। বিশেষত, আমেরিকার ক্ষেত্রে তা বেশি করে প্রকাশ পাচ্ছিল। ফলে, চুক্তি থেকে সরে এসে সেই চেষ্টা লিপ্ত হবে দুই দেশ।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন রাশিয়ার সঙ্গে হওয়া পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি ছয় মাসের জন্য বাতিল করার হুমকি দেয়। আমেরিকা সেই সময় বলে, মস্কো তাদের ৯এম-৭২৯ ক্রুইজ ক্ষেপনাস্ত্রগুলি ধ্বংস না করলে এই পথে মার্কিন প্রশাসন হাঁটবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ন্যাটো সদস্য দেশগুলির বৈঠকে ওয়াশিংটন অভিযোগ এনে ছিল, যে রাশিয়া অনেকগুলি '৯এম-৭২৯' ক্রুইজ ক্ষেপনাস্ত্র আমেরিকার দিকে তাক করে রেখে। ন্যাটোর অন্যান্য সদস্যরাও এই অভিযোগ মেনে নেয়।

পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলে ছিলেন, রাশিয়া যদি ক্ষেপনাস্ত্র চুক্তি না মেনে চলে তাহলে আমেরিকাও সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসবে। আর জন্য তিনি রাশিয়াকে ২ আগস্ট সময়সীমা বেঁধে দেন। সেই মত শুক্রবার অর্থাৎ ২ আগস্টই রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনও সদুত্তর না পেয়ে চুক্তি থেকে সরিয়ে নিল আমেরিকা।


এদিকে নিজেদের স্বভাবসিদ্ধা ভঙ্গিতে রাশিয়াও জানিয়ে দিয়েছে, তারাও এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়েছে এবং আমেরিকার সিদ্ধান্তে তাদের কোনও আপত্তি নেই।মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মাইক পম্পেও জানিয়েছেন, রাশিয়া নির্লজ্জ ভাবে চুক্তি ভঙ্গ করে গিয়েছে, তাই আমরা আর এই চুক্তির মধ্যে আবদ্ধ থাকতে চাই না।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প পরে একটি জল্পনাকে উস্কে দিয়ে বলেন, আমরা সবাইকে একটি বড় ও সুন্দর ঘরে আনতে চাই এবং নতুন একটি ভালো চুক্তি করতে চাই। তবে এই নতুন চুক্তি সম্পর্কে স্পষ্ট তিনি কিছু বলেননি।

উল্লেখ্য ১৯৮৭ সালে আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয় নেতা  রোনল্ড রিগান এবং মিখাইল গর্বাচকের মধ্যে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তিটি ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস ট্রিটি বা আইএনএফ নামে পরিচিত। চুক্তি অনুযায়ী, ৫০০ থেকে সাড়ে ৫ হাজার কিলোমিটার (৩১০ থেকে ৩,৪০০ মাইল) পাল্লার মধ্যে থাকা ক্ষেপনাস্ত্রগুলিকে নিষিদ্ধ করেছিল দুই দেশ। এই চুক্তির জন্য ১৯৯১ সালে ২,৭০০ টি এই ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে তারা।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only