মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট, ২০১৯

পরিবারের জন্য উদ্বিগ্ন ভিন রাজ্যে থাকা কাশ্মীরি পড়ুয়ারা

৩৭০ বাতিল কাশ্মীরে। থমথমে রাজ্য। ১৪৪। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। বন্ধ ফোন, ইন্টারনেট। ভীত হয়ে পড়েছেন রাজধানী দিল্লিতে পড়তে আসা কাশ্মীরি পড়ুয়ারা।অন্যদিকে ভীত পাঞ্জাবে পড়তে অাসা  কাশ্মীরি পড়ুয়ারা। তারা ভয় পাচ্ছেন পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে। কেন্দ্রের ৩৭০ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তে কাশ্মীরের পরিস্থিতি আবার কোনদিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে চিন্তিত তাঁরা। জেএনইউ’র ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আইজাজ আহমেদ রাদেরের কথায় উৎকন্ঠার ছাপ স্পষ্ট। তিনি জানান, ‘‘কাল রাতে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওঁরা বললেন, ‘একবার এসে দেখে যা আমরা কীভাবে আছি। আমরা জানি না আর কতদিন এইভাবে থাকতে পারব।’ ওখানে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। জানি না আর কথা বলতে পারব কি না পরিবারের লোকজনের সঙ্গে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘অসাংবিধানিক এবং একনায়কতন্ত্রের ষড়যন্ত্র করা হল সংসদ থেকে। আমাদের জন্য কিছুই পড়ে রইল না।’’একই রকম উৎকন্ঠিত অনন্তনাগের বাসিন্দা জেএনইউ’র প্রাক্তনী মুদাসসার। তিনি বললেন, ‘‘আমরা অনিশ্চতায় ভুগছি। জানি না আমাদের পরিবার কীভাবে এই অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে। সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কাল রাতে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওরা আমাকে বাড়ি ফিরে যেতে বলল। সেইমতো টিকিটও বুক করেছিলাম। শেষপর্যন্ত আজকের পর সেই টিকিট বাতিল করে দিলাম। পরিজনদের নিরাপত্তা নিয়ে সত্যিই চিন্তায় আছি।’’
 দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাশ্মীরি ছাত্র আনিশ আহমেদের বক্তব্য, প্রতি মাসে পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে কাশ্মীরে। আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। শনিবার থেকে বাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। ওদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’’ এদিকে, জেএনইউ’র প্রাক্তন ছাত্র নেত্রী শেহলা রশিদ জানালেন, ‘তাঁরা সরকারের এই ৩৭০ধারা বিলোপের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন।’ তিনি এখন জম্মু-কাশ্মীর পিপলস মুভমেন্ট দলের সক্রিয় সদস্য। এক ট্যুইট বার্তায় তিনি এদিন বলেছেন, ‘রাজ্যপালকে দিয়ে সরকার সরালো, আবার যে কাজ গণ পরিষদ করতে পারত সেই কাজ করিয়ে নিলো আইনসভা দিয়ে। এই উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাবো আমরা। সংহতি জানানোর জন্য সব প্রগতিশীল শক্তির কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।’
জামিয়া মিলিয়ার জনৈক ছাত্র জানাচ্ছেন, বাড়ি থেকে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে বারণ করে দিয়েছে। ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।দুশ্চিন্তা হচ্ছে তাদের পরিবারকে নিয়ে। কাশ্মীরের বড় বড় রাজনৈতিক নেতাকে যেভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে তাতে তাদের পরিবারের লোকেদের অার নিরাপত্তা কতটুকু।
অন্যদিকে জম্মু কাশ্মীর স্টুডেন্টস অর্গানাজেশন কোনোরকম বিতর্কিত ফেসবুক পোস্ট করা থেকে পড়ুয়াদের বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। সহপাঠীদের সঙ্গে কোনোরকম বাক বিতণ্ডায় যেতে বারণ করেছে তারা।
জলন্ধরে মাস্টার্স পড়ুয়া হিলাল জানাচ্চেন, অামরা খুব চিন্তিত। বাড়ির কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। পড়াশোনাতে মনোযোগ দিতে পারছি না।  এই চিত্র শুধু পাঞ্জাব বা দিল্লিতে নয়, কাশ্মীরের মানুষজন, ছাত্র যেখানে রয়েছে, সেখানে এই চিত্র। কলকাতা তার ব্যতিক্রম নয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only