শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৯

মুর্শিদাবাদের যুবককে পিটিয়ে মারল বিএসএফ, চাঞ্চল্য

 মাঝেমধ্যেই এমনটা ঘটেছে। এমনকি ইতিপূর্বে নৃশংসভাবে খুন হতে হয়েছে এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকেও। সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে জিয়াউর রহমান (৩০) নামে এক যুবককে গরু পাচারের অভিযোগে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল বিএসএফের বিরুদ্ধে। সূত্রের দাবি, ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সন্ধ্যার আগে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ থানার অন্তর্গত সাইদাপুরের কাছে বাহুড়া এলাকায়। মৃতের বাড়ি একই জেলার লালগোলা থানার পণ্ডিতপুর বসরা গ্রামে বলে জানা গেছে।
এদিন পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং ধিক্কার জানিয়েছেন রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভার বিধায়ক মুহাম্মদ আখরুজ্জামান। তার বক্তব্য, মৃত ব্যক্তি অন্য বিধানসভা এলাকার। কিন্তু ঘটনাটি ঘটেছে রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভা এলাকায়। বিধায়কের বক্তব্য– এই এলাকায় বিএসএফ মাঝেমধ্যেই এমন বেআইনী ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। মুহাম্মদ আখরুজ্জামানের প্রশ্ন, দেশের সংবিধানের কোন ধারায় দেশের নাগরিককে বিনা বিচারে পিটিয়ে হত্যা করার অনুমোদন দিয়েছে। বিধায়কের আরও বক্তব্য– বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে। আখরুজ্জামান একইসঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং হত্যায় অভিযুক্ত জওয়ানের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।
জিয়াউর রহমান গরু কেনা-বেচার সঙ্গে যুক্ত ছিল। ওকে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে বিএসএফ। আমরা ন্যায় বিচার চাই। ---মুহাম্মদ লঘু সেখ (মৃতের ভাই)
এমন ঘটনার খবর এখনও পর্যন্ত আমার কাছে না থাকায় কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া সম্ভব নয়। ---প্রসেনজিৎ ব্যানার্জি– এসডিপিও– জঙ্গিপুর
 ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদে মাঝেমধ্যেই বিএসএফ পাচারকারির অভিযোগ তুলে নীরিহ মানুষদের পিটিয়ে হত্যা করছে। বাদ যাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় ছাত্রছাত্রী থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকারাও বিএসএফয়ের হাতে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হয় বলে বারবার অভিযোগ ওঠে।মৃত জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী বিএসএফ জওয়ানদের একই ধরনের শাস্তির দাবি করেছেন মৃতের ভাই মুহাম্মদ লঘু সেখ। বিষয়টি কি? সূত্রের দাবি– গত শুক্রবার শেষ বিকালে বাহুড়া ক্যাম্পের একদল বিএসএফ জিয়াউর রহমানকে গরু পাচারকারি সন্দেহে আটক করে। অভিযোগ– জিয়াউরকে বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয়। মারের চোটে হাত-পা ভেঙে যায়। অন্তত এমনটাই দাবি মৃতের পরিবারের সদস্যদের। পরে গুরুতর আহতকে বিএসএফরা ফেলে দেয় রাস্তার ধারে। স্থানীয়রা আহত যুবককে উদ্ধার করে তেঘরী ব্লক হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে স্থানান্তরিত করা হয় জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে। জঙ্গিপুর হাসপাতালের সুপার ডা. সায়ন দাস জানান– সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিটে জিয়াউর রহমানের মৃত্যু হয়। শনিবার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
অবশ্য এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি রঘুনাথগঞ্জ থানার আইসি সৈকত রায় এবং এসডিপিও প্রসেনজিৎ ব্যানার্জি। তাদের উভয়েরই বক্তব্য– বিষয়টি ঠিক তাদের জানা নেই।
অন্যদিকে– বিএসএফের হাতে মাঝেমধ্যেই নৃশংস এমন ঘটনায় চাঞ্চল্য এবং ক্ষোভ লক্ষ্য করা যাচ্ছে এলাকাজুড়ে। ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই এলাকায় বিএসএফের বাড়াবাড়িতে অতিষ্ট জনজীবন। অনেকেরই অভিযোগ– শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় বিএসএফ জওয়ানদের হাতে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হন শিক্ষার্থী থেকে শিক্ষক শিক্ষিকারাও। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only