মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৯

স্কুলের মিড ডে মিল বন্ধ রেখে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে স্কুলে তালা

দেবশ্রী মজুমদার, নলহাটি, ২৭ অগাস্টঃ স্কুলের মিড ডে মিল বন্ধ রেখে সেই টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে স্কুলে তালা ছাত্রছাত্রীদের। তাদের অভিযোগের তির  ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বাংলা ও ইংরেজীর  দ্বিতীয় পার্বিক পরীক্ষা ছিল। সেটি তারা বয়কট করে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘টি আই সি’ চোর। তাঁর পরিবর্তে অন্য টি আইসি দেওয়া হোক, ইত্যাদি পোস্টার ও স্লোগান দিতে থাকে মাদ্রাসা স্কুলের পড়ুয়ারা।  যদিও এই অভিযোগ, পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন  ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সেখ আলি হোসেন। ঘটনাটি ঘটেছে নলহাটি-১ ব্লকের এস এস হাইমাদ্রাসা বিদ্যালয়ে।



জানা গেছে, স্কুলে ছুটি ছিল ঈদের জন্য ১২ ও ১৩ এবং জন্মাষ্টমীর জন্য ২৩ তারিখ।   তারপরে ১৬, ১৭, ১৯ তারিখ এক টানা বন্ধ থাকে। ২০ তারিখ স্কুল খোলে। টানা ছুটির মাঝে ১৫ তারিখ  স্বাধীনতা দিবস ও রবিবার ছিল ১৮ তারিখ। অভিযোগ, ছুটি বাদ দিয়ে অন্যান্য বন্ধের দিনে সরকারি খাতায় দেখানো হয়েছে মিড ডে মিল রান্না হয়েছে।  দশম শ্রেণীর স্কুল পড়ুয়া নাজমা খাতুন, সইদুল সেখ, নবম শ্রেণীর ছাত্রী সাবানা পারভিন জানান, এক টানা ৮ দিন ছুটি ছিল। সেই ছুটির দিন গুলিতেও মিড ডে মিল রান্না হয়েছে বলে খাতায় দেখানো হয়েছে। সেই টাকা চুরি করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। আমরা এর বিচার চাই। তাই প্রতিবাদে স্কুলে তালা মেরে দিয়েছি।

অভিভাবক বাদাম মোল্লা বলেন,  কি করে স্কুল বন্ধ থাকাকালীন মিড ডে মিল চালু ছিল বলা যায় এবং তার খরচ খাতায় দেখানো যায়? ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক  এই দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।  অন্যান্য শিক্ষকদের কাছে শুনলাম, ওই মিড ডে মিল বন্ধের দিনে খাতায় এইভাবে খরচ দেখিয়ে স্কুলের তিন জন স্টাফের নাকি বেতন হয়। আমরা তা শুনবো কেন?

 স্কুলের সেক্রেটারি গোলাম মুর্তোজা বলেন, ছাত্রদের সাথে কথা বলা হয়েছে। আজ টি আই সি স্কুলে আসেন নি। উনি বাইরে ছিলেন। থানা, বিডিও প্রতিনিধি এবং স্কুলের কমিটির অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এব্যাপারে আগামী ১৭ তারিখ বেলা ১১টায়  অভিভাবক ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে একটা মিটিং। আজকে বাংলা ও ইংরেজির পার্বিক পরীক্ষা যেটা ছাত্ররা দেয় নি। সেটা শেষে নেওয়া হবে। যথারীতি অন্যান্য পরীক্ষা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমি শুনছি মিড ডে মিলের  খাবার বন্ধ থাকা সত্বেও ব্যয় দেখানো হয়েছে। এটা অন্যায়। তবে এই টাকা কেউ ব্যক্তিগত ভাবে আত্মসাৎ করেন না। তিনজন স্টাফের বেতন এই ভাবে দেওয়া হয়ে থাকে। স্কুলে কোন গ্রুপ ডি স্টাফ নেই।

অন্যদিকে,  ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সেখ আলি হোসেন বলেন, যা কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্টাফ মিটিংয়ে আলোচনা করেই হয়েছে। সেক্রেটারি জানেন। কম্পিউটার অপারেটর রবিউল আলম, স্কুলের দরজা খোলেন জগত মাল এবং মহিলা চা করা ইত্যাদি করে থাকেন। তিনি বলেন, সব সময় এভাবে ওই স্টাফদের বেতন জোগার করা যায় না। জুলাই মাসে  স্কুলের বৃত্তিমূলক শিক্ষার জন্য ডেভলপমেন্ট খাতে ১০ হাজার টাকা আসে। সেই টাকা থেকে তাদের বেতন দেওয়া হয়েছে। মাত্র ১৪৬ জন পড়ুয়া মিড ডে মিল খায়। কিছুই বাঁচে না। আমি সাত মাস হল দায়িত্বে আছি। তিন বছরের অডিটের মধ্যে মাত্র দুমাস আমার কার্য্যকাল।  তার আগে দুর্নীতি হয়েছে।  আসলে স্কুলের শিক্ষকরা একটানা ২৩ তারিখ পর্যন্ত ছুটি চেয়েছিলেন, দিইনি তাই কেউ কেউ ষড়যন্ত্র করে ছাত্রদের ক্ষেপিয়েছে। স্কুলের বদনাম করার জন্য। আমাকে বললে আমি দায়িত্ব ছেড়ে দেব।

এব্যাপারে নলহাটি-১ বিডিও জগদীশ চন্দ্র বাঁড়ুই বলেন, মিড ডে মিল বন্ধ রেখে সেই টাকা অন্য খাতে ব্যয়  হলে অন্যায় হয়েছে। এবিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে আমি তদন্তে যাব। এটা হয়ে থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only