মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৯

জাকার্তা থেকে সরছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী


১৩২৭ সালে সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক দিল্লি থেকে রাজধানী স্থানান্তরিত করেছিলেন দাক্ষিণাত্যের দৌলতাবাদে।ঐতিহাসিকদের মন্তব্য, এর ফলে যারপরনাই অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়েছিল রাজকর্মচারী থেকে শুরু করে রাজধানীর বাসিন্দাদের। এবার অনেকটা সেই পথ ধরেই ইন্দোনেশিয়া পরিবতন করতে চলেছে তাদের রাজধানী। দেশটির পূর্বপ্রান্তে রয়েছে জঙ্গলাকীর্ণ বোর্নিও দ্বীপ।জাকার্তা থেকে সেখানেই সরছে রাজধানী। সোমবার ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি জোকো উইদোদো এই খবর আরও একবার ঘোষণা করেন যার গুঞ্জন আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল। তিনি বলেন, ঘিঞ্জি, ঘনবসতিপূর্ণ ও জলাভূমির মহানগর জাকার্তা থেকে রাজনৈতিক প্রাণকেন্দ্র অন্যত্র সরিয়ে নিতে চাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া সরকার।প্রস্তাবিত জায়গাটি হচ্ছে বালিকপাপান ও সামারিন্দা শহরের কাছাকাছি এলাকা। এটি ভৌগলিক ভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি কেন্দ্রস্থানও বটে, যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ন্যূনতম ঝুঁকি নেই বলে দাবি করা হচ্ছে। সরকার ইতিমধ্যে এক লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করেছে। উইদাদো টিভিতে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, সরকার পরিচালনা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিষেবার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে জাকার্তার কাঁধে বোঝা অনেক ভারী হয়ে গেছে।তাই এমন পদক্ষেপ। আর ৭৪ বছরের স্বাধীন হিসেবে ইন্দোনেশিয়া এবার নিজের পছন্দমতো রাজধানী বেছে নেবে। 
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এ পরিকল্পনা সরকার বাস্তবায়ন করবে বলে বেশ কয়েক মাস ধরেই জল্পনা চলছিল।সরকার ব্যাপারটি নিয়ে একটি বিলও পেশ করতে চলেছে সংসদে বলে জানান তিনি।  রাজধানী পরিবর্তনের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ইন্দোনেশিয়া সরকারের ৪৬৬ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ (প্রায় ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) খরচ হবে বলে তিনি ভাষণে উল্লেখ করেন। নতুন পরিকল্পনায় যেখানে রাজধানী বানানোর কথা ভাবা হচ্ছে, সেখানে নাগরিক সুবিধা দিতে ব্যাপক এবং বিস্তারিত আকারে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে, যা ওই অঞ্চলে বসবাস করা প্রাণীদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে ফেলবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা।এদিকে এখানে চিরহরিৎ বন ও ব্যাপক খনি কার্যক্রম চলছে। ডাচ ঔপনিবেশিকদের দ্বারা তৈরি এই ৫০০ বছরের পুরনো শহরটি ক্রমশ পানির তলায় চলে যাচ্ছে। রাজধানী সরানোর এটিও একটি কারণ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only