বুধবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৯

মিশ্র চাষের মাধ্যমেই পাট পচানোর পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি দফতর



শুভায়ুর রহমান, তেহট্টঃ অর্থকারী ফসল হিসাবে পাট চাষ হয় নদিয়ার তেহট্ট, পলাশিপাড়া, কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, করিমপুর, চাপড়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকায়। কিন্তু পুকুর, জলাশয়, খাল গুলিতে পর্যাপ্ত জল না থাকায় পাট পচাতে বেগ পেতে হচ্ছে চাষিদের। কেউ কেউ ছোটখাটো জলাশয়  বা পুকুরে জল তুলে পাট পচানোর বন্দোবস্ত করছে। আর এসব করতে গিয়ে ভীষণ সমস্যায় পড়েছেন চাষিরা। তাদের অভিযোগ, প্রতি বছর আকাশের বৃষ্টির উপর নির্ভর করে থাকতে হয়। বৃষ্টি সঠিক সময়ে হলে খাল, বিল, পুকুর, জলাশয়ে জল জমে। কিন্তু এবার আবহাওয়ার খামখেয়ালিতে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় চাষিরা হা পিত্যেশ করছেন। তাদের কথায়, পাট সঠিক সময়ে না কাটলে পাট শুকিয়ে যাবে। পাট চাষের ব্যাপক খরচ। পাট বিক্রির সময়ে দাম পাওয়া যায় না। তার উপর জলের সমস্যায় বিপাকে চাষিরা। মিজানুর রহমান নামে পলাশিপাড়ার বারুইপাড়া গ্রামের একজন চাষি জানান, এ বছর ভারী বৃষ্টি নেই। মাঠঘাট শুকনো। জমিতে পাট দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিভাবে পাট পচাবো ভেবে পাচ্ছি না। জানা গেছে, যেখানে নদী রয়েছে সেখানে চাষিরা পাট পচাতে কিছুটা পারলেও বেশিরভাগ জায়গায়  সে সুবিধা নেই। যার কারণে শ্যালোর মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ জল তুলে পাট পচানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে বলে চাষিদের দাবী। কিন্তু এই সমস্যার সমাধানে কৃষি বিভাগ অন্যরকম পরামর্শ দিচ্ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ পাট অন্যত্র না নিয়ে গিয়ে নিজের জমিতে গর্ত করেই পাট পচানোর কথা বলছে। সাধারণ ভাবে প্রতি বিঘা জমির পাট পচাতে তিন শতক জায়গা ব্যবহার করলেই পাট পচানো সম্ভব। ৪০ ফুট লম্বা, ৩০ ফুট প্রস্থ ও ৪ ফুট গর্ত করে সেখানে পলিথিন বিছিয়ে জল দিয়ে পাট পচানো যাবে। এই বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করলে একদিকে যেমন পাট পচানো সম্ভব হবে। অন্যদিকে বেশ কিছু সুবিধাও রয়েছে। এই পদ্ধতিতে মিশ্র চাষও করা যেতে পারে বলে জানান তেহট্ট মহকুমা সহ কৃষি অধিকর্তা (ইক্ষু) জেসমিন হক। কৃষি অধিকর্তা জেসমিন হকের কথায়, যেখানে নদীর জল নেই সেখানে শ্যালোর জল ছাড়া উপায় নেই। বরং একটি স্থায়ী সমাধান হিসাবে যে জমিতে পাট চাষ হচ্ছে সেখানে তিন শতক মতো গর্ত করে পলিথিন দিয়ে জল তুলে পাট পচানো যায়। এতে মিশ্র চাষ, জল সংরক্ষণ, জলসেচ, মাছ চাষ হবে। পাট উঠে গেলে যদি কেউ জমিতে শস্য জাতীয় কিছু চাষ করেন তাহলে ওই গর্ত থেকে জল তুলে সেচের কাজ হবে। আবার বৃষ্টির জল ওই গর্তে ধরে রেখে জল সংরক্ষণ করা যাবে। গর্তে কাঠ জাতীয় কিছু মাছের চাষ হতে পারে। আবার দেড় ফুট যে পাড় হবে সেখানে কলা বা পেঁপে জাতীয় জাতীয় গাছ লাগানো যাবে। সেই সঙ্গে গোটা জমিতে ধান চাষ হলে গর্তটি থেকে পলিথিন তুলে নিয়ে ধান চাষ করা যায়। জেসমিন হক বলেন, এটা স্থায়ী সমাধান। সেই সঙ্গে পাট কেটে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য বিঘা প্রতি মিনিমাম হাজার টাকা সাশ্র‍য় হবে। কৃষি বিজ্ঞানীদের এই পরামর্শ মানলে পাট পচানোর যে সমস্যা তার সমাধান হবে। সঙ্গে জল সংরক্ষণ, জলসেচ, মৎস্য চাষ করা যাবে। খুবই সুন্দর পদ্ধতি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only