রবিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৯

শিল্পে ব্যপক মন্দা­ জামশেদপুরে ঝাঁপ বন্ধের মুখে টাটা মোটরস্ সহ ৩০ টি কোম্পানি!


জামশেদপুর– ৪ আগস্ট­ ভারতের অর্থনীতির গতি স্লথ হয়েছে বলে দাবি করে আসছিল বিরোধীরা।  সেই দাবিই মান্যতা পেয়েছে সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্ব-অর্থনীতির সমীক্ষা রিপোর্টে। ভারতেকে পেছনে ফেলে অনেকটাই এগিয়ে গেছে ফ্রান্স। ফের আরেকটি খরাপ খবর। হ্যাঁ– শিল্পেও ভয়াবহ মন্দা চলছে। এবার ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরের ‘আদিত্যপুর শিল্পাঞ্চল’-এ একের পর এক কারখানা ঝাঁপ বন্ধ করে দিচ্ছে। গত কয়েকমাস ধরে টাটা মোটরস্ বেশ কয়েকবার কর্মবিরতি ঘোষণা করে। বলা হচ্ছে বাজার মোটেও ভালো নয়। সম্প্রতি প্রায় তিরিশটি স্টিল কোম্পানি বন্ধ হওয়ার মুখে। এদিকে গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ডজনখানেক কোম্পানি ঝাঁপ বন্ধ করেছে। অটোমোবাইল সেক্টরে মন্দার জন্য টাটা মোটরস্ বিগত মাসে চারবার কর্ম বিরতি ঘোষণা করে। কোম্পানির তরফে কর্মীদের বাড়িতে বসে থাকতে বলা হয়েছে। তবে আশার বাণী এই যে– সম্ভবত স্থায়ী কর্মীরা সোমবার থেকে কাজে যোগদান করবেন। অন্যদিকে অস্থায়ীকর্মী অর্থাৎ ওয়াই-৬ ক্যাটাগরির শ্রমিকরা ১২ তারিখ কাজে যোগ দেবেন। সূত্রের খবর কিন্তু এমনটাই বলছে।
প্রসঙ্গত– গত দুই মাসে টাটা কোম্পানির মাত্র ১৫ দিন করে কারখানায় উৎপাদনের কাজ হয়েছিল। এদিকে আগস্ট মাসেও পরিস্থিতি উন্নতির তেমন আশা দেখছেনা কর্মীরা। কর্মচারী ইউনিয়ন সূত্রের খবর– এই মাসে মাত্র এক সপ্তাহ কাজ হওয়ার কথা। অন্যদিকে বিদ্যুতের মাশুল বেড়ে যাওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। স্টিল শিল্পে ইন্ডাকশান ফারনেসে বিদ্যুত একটি অপরিহার্য কাঁচামাল। বলে হচ্ছে এর ফলে প্রায় তিরিশটি কোম্পানি বন্ধ হয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার প্রায় ডজন খানেক কোম্পানি ঝাঁপ বন্ধ করেছে। লঘু উদ্যোগ ভারতী (এলইউবি)-র সভাপতি রুপেশ কাটিয়ার বলেন– বিদ্যুত মাশুল বেড়ে যাওয়ায় জামশেদপুর– আদিত্যপুর ও ডালভূমগড় শিল্পাঞ্চলের কমবেশি হাজার খানেক কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আর প্রায় তিরিশ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে ‘আদিত্যপুর স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন‘ এর সভাপতি ইন্দর আগরওয়ালের মুখেও হতাশার ছাপ। তিনি বলেন– অটো সেক্টের মন্দা নতুন নয়। দুই তিন বছর পর এনমটা হয়েই থাকে। তবে এবারের অবস্থা যে অত্যন্ত খারাপ সে কথাও উঠে এসেছে। তিনি জানিয়েছে– টাটার মতো কোম্পানি গাড়ি তৈরিতে এবারে ৪০ শতাংশ কম বরাত পেয়েছে। অন্যান্য কিছু প্রতিষ্ঠান কোনও রকম ধুঁকিয়ে ধুঁকয়ে চলছে। এ বছরের এপ্রিল মাস নাগাদ বিদ্যুত মাশুল ৩৮ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় ২৫ থেকে ৩০ টি কোম্পানি ঝাঁপ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আর কোনও বিকল্প ছিল না বলেও জানাচ্ছেন আগরওয়াল। সরকার  দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক এমনই দাবি জানিয়েছেন  সকলেই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only