শুক্রবার, ৯ আগস্ট, ২০১৯

এনআরসি সেবাকেন্দ্র ৬০০ কিমি দূরে, হাজিরা দিতে ঘটি বাটি বেচতে হচ্ছে গরিবদের

শুনানির জন্য দূরের সেবাকেন্দ্রে হাজিরা দিতে ঘটি বাটি বিক্রয় করতে হচ্ছে গরিব মানুষদের। নিম্ন অসমের মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে এখন গহনাগাটি– গরু-বাছুর বিক্রির ধূম পড়ে গিয়েছে। কামরূপের ফজল হককে শুনানিতে হাজিরা দিতে যেতে হবে শিবসাগরে। বউ-ছেলে নিয়ে এসেছেন ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে। জানালেন– আসার আগে স্ত্রীর একজোড়া সোনার বালা বেচতে হয়েছে। সানতোলির সালমা এসেছেন তার পরিবারের ছয় সদস্যের সঙ্গে। গরু-বাছুর বিক্রি করে এখানে আসতে হয়েছে তাদের। খাবার ভালো ব্যবস্থা নেই। জলের ব্যবস্থা নেই। মহিলাদের জন্য আলাদা টয়লেট নেই সেবাকেন্দ্রের কাছে।
ছয়গাঁও-এর জহিরুল শস্য বিক্রি করে সেবাকেন্দ্রে এসেছেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস খবর করেছে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় দু’জন মারা গিয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক। নোটিশপ্রাপ্তরা দুটি বাস ভাড়া করে আসছিল সেবাকেন্দ্রে। পথে দুর্ঘটনায় হতাহত হয়েছেন প্রায় সকলেই।
প্রায় সকলেই জানালেন– তাদের মাত্র দু’দিনের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নাগরিকত্ব প্রমাণ নিয়ে পরিবারের সকলকে সেবাকেন্দ্রে আসতে বলা হয়েছে। তাদের নাম রয়েছে এনআরসি তালিকায়। তবুও পুর্নবিচার করতে হবে। একবার হয়রানির পর আবার হয়রানি।
অসমের নাগরিক সমাজ এই বিষয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে পত্র লিখে জানিয়েছেন– এনআরসি আধিকারিকদের যেন নির্দেশ দেওয়া হয় শুনানি নিজ নিজ জেলায় ও কাছাকাছি কেন্দ্রে করানো হয়। আর হাজিরার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়। সেই চিঠিতে কাজ হয়নি মনে হয়।
হাজার হাজার পরিবারকে অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে পড়তে হয়েছে নতুন করে। চেকিং-এর পর রি-চেকিং– আধিকারিকদের ইচ্ছাই এখানে চূড়ান্ত। আর এই নোটিশ আসছে মূলতঃ মুসলিম পরিবারেই বেশি। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only