শুক্রবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৯

তিন বাহিনীর শীর্ষে চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ, স্বাধীনতা দিবসে ঘোষণা মোদির

৭৩তম স্বাধীনতা দিবসে দেশের প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বডসড় ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশবাসীর সুরক্ষাবৃদ্ধি এবং সন্ত্রাসদমনে সেনার ৩ বাহিনীকে নিয়ে তৈরি হবে নতুন পদ – চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ৷ নৌ, স্থলসেনা ও বিমান বাহিনীর প্রধান এবং বাছাই করা কর্মকর্তাদের নিয়ে তৈরি হবে একটি টিম, যার শীর্ষে থাকা পদাধিকরাই চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বা সিডিএস৷
ডিফেন্স চিফ অফ স্টাফ আসলে তৈরি হবে মার্কিন বাহিনীর ধাঁচে৷ সেখানেও একাধিক বাহিনীর বাছাই করা কর্মকর্তাদের নিয়ে তৈরি দলের শীর্ষে থাকেন চিফ অফ স্টাফ৷ সঙ্গে থাকেন জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ৷ তাকে অনেকটা দায়িত্বই সামলাতে হয়৷ মার্কিন প্রতিরক্ষায় এই টিমের গুরুত্ব সর্বাধিক৷ চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফের সুবিধা এই যে, এর মাধ্যমে ওয়ান পয়েন্ট কমিউনিকেশন বা সরাসরি সংযোগের সুযোগ থাকে৷ তিন বাহিনীর মধ্যে যথাযথ সমন্বয়ের উদ্দেশে এই নতুন পদ তৈরির ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ সবচেয়ে অভিজ্ঞ, দক্ষ, নির্বাচিত সেনা অফিসারদের নিয়ে তৈরি এই টিমের শীর্ষে থাকা পদাধিকারীর মাধ্যমেই সমস্ত অপারেশনের রিপোর্ট সরাসরি পৌঁছাবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে৷ ইনি প্রয়োজনে পরামর্শদাতাও হতে পারেন৷
লালকেল্লা থেকে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের নিরাপত্তা বাহিনী আমাদের গর্ব৷ আমাদের বাহিনীর মধ্যে আরও ভাল সমন্বয়ের জন্য আজ একটি বিশেষ ঘোষণা করছি৷ এবার থেকে ভারতে একজন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বা সিডিএস থাকবেন৷ নতুন এই পদ সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে৷’
যদিও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ১৯৯৯-এ কারগিল যুদ্ধের পরই সেনা সমন্বয়ে জোর দিতে এই চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ পদটি তৈরি করার সুপারিশ জানায় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত একটি কমিটি৷ সেসময় এবং পরবর্তীতেও একাধিক কারণে তা কার্যকর হয়নি৷ এনিয়ে সেনাবাহিনীর একাংশেরই আপত্তি ছিল৷ রাজনৈতিক বিরোধিতাও ছিল৷ প্রথম মোদি সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পারিকর এই পদ তৈরির জন্য চেষ্টা করেছেন। যার ফল মিলল দেশের ৭৩তম স্বাধীনতা দিবসে৷ প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, সেনার সমন্বয় এবং শক্তি বাড়াতে এবার তিন বাহিনীর শীর্ষে বসবেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ৷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only